উত্তর : সিজদায় রাফঊল ইয়াদাঈন প্রসঙ্গে নাসাঈতে মালিক বিন হুয়াইরিস থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা অধিকাংশ বিদ্বানের নিকট যঈফ। কেননা ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে বর্ণনা আছে, তাতে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিজদায় রাফঊল ইয়াদাঈন করার বিষয়টিকে নাকোচ করা হয়েছে। এই দুই বর্ণনার মাঝে সমন্বয় সাধন করতে গিয়ে ওলামায়ে কেরাম মালিক বিন হুয়াইরিসের বর্ণনাকে ‘শায’ বলেছেন এবং ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনাকে ‘মাহফূয’ বলেছেন। কারণ উছূলে হাদীছের মূলনীতি হল যদি ছিক্বা রাবী (নির্ভরযোগ্য) আওছাক্ব রাবীর (অধিক গ্রহণযোগ্য) বিরুদ্ধে হাদীছ বর্ণনা করে তবে ছিক্বা রাবীর বর্ণিত হাদীছকে ‘শায’ বলে এবং আওছাক্ব রাবীর বর্ণিত হাদীছকে ‘মাহফূয’ বলে (মুছত্বলাহুল হাদীছ, পৃঃ ৩৩)। সুতরাং মূলনীতি অনুযায়ী ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ ‘মাহফূয’ হবে এবং মালিক বিন হুয়াইরিস এর বর্ণিত হাদীছ ‘শায’ হবে। অতএব সিজদায় রাফঊল ইয়াদাঈন করা সংক্রান্ত হাদীছগুলোর প্রতি আমল করা যাবে না।
-রোকনুযযামান
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
