কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৭) : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের দুই বছর পর থেকে মূল বেতনের ৫% থেকে ২৫% পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই জমাকৃত টাকার উপর প্রতি বছর চক্রবৃদ্ধিহারে সূদ হিসাব করে তা অবসর গ্রহণকালে ফেরত দেওয়া হয়। তবে কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী চাইলে জমাকৃত টাকা সূদমুক্ত রাখার জন্যও আবেদন করতে পারেন। প্রশ্ন হল, প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা উক্ত টাকার উপর কোন ধরণের সূদ নেয়া যাবে কি?

উত্তর : সকল প্রকার সূদ হারাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন’ (বাক্বারাহ, ২৭৫)। সরকারি চাকুরিজীবীদের মূল বেতন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫% এবং ঐচ্ছিকভাবে ২৫% পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়। এই অর্থকে চক্রবৃদ্ধিকারে কাজে লাগিয়ে অবসর গ্রহণকালে কর্মচারীকে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয়। যা স্পষ্ট সূদ। তাই এই সূদ থেকে বেঁচে থাকা একান্ত যরূরী। উল্লেখ্য যে, অনেকেই বলে থাকেন, এটা যেহেতু বাধ্যতামূলকভাবে কেটে রেখে দেয়া হয় এবং হাতে আসার আগ পর্যন্ত কর্মচারী উক্ত টাকার মালিকই হতে পারে না, তাই এই টাকা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সূদ বলে গণ্য হবে না। বরং যখন কর্মচারী উক্ত টাকার মালিক হয়ে যাবে, তারপরে যদি সূদের কাজে লাগায়, তাহলে তখন তা সূদ বলে গণ্য হবে। এই বক্তব্য কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। কারণ- ১. সরকারিভাবে ৫% প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখা বাধ্যতামূলক। বাকি ২০% ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছায় রাখতে পারে ২. অবসর গ্রহণকালে টাকা ফেরত দেয়ার সময় কত টাকা মূলধন এবং কত টাকা সূদ, তা বলে দেয়া হয়। তাই ব্যক্তি চাইলে উক্ত সূদ থেকে বাঁচতে পারে ৩. সর্বোপরি কর্মচারী চাইলে তার এ্যাকাউন্টকে পুরোপুরি সূদমুক্ত রাখার আবেদনও করতে পারে। বিধায় ইচ্ছা করলে সে সূদের একটি টাকাও ভক্ষণ করতে বাধ্য নয়। তাই কোন যুক্তিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সূদকে হালাল বলার উপায় নেই।

-আব্দুল আজিজ ভূঁঞা

ইনচার্জ অফিসার, জোনাল সেটেলম্যান্ট অফিস, ময়মনসিংহ।


Magazine