উত্তর : অর্থ-সম্পদ বৈধ হলেই তা দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করা যায়। চাই তা মুসলিম ব্যক্তির অর্থ-সম্পদ হোক বা অমুসলিম ব্যক্তির হোক। কেননা সকল মুসলিমের অর্থ বৈধ-একথা যেমন ঠিক নয়; তেমনি অমুসলিম হলেই যে তার অর্থ অবৈধ হবে সে কথাও ঠিক নয়। বরং একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অমুসলিমদের সম্পদও বৈধ হতে পারে। যেমন, আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জনৈক মুশরিকের পক্ষ থেকে একটা রেশমী জুববা উপহার দেয়া হয়েছিল (ছহীহ বুখারী, ১/৩৫৬ পৃঃ, ‘মুশরিকদের উপঢৌকন গ্রহণ’ অধ্যায়)। আনাস ইবনু মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ইহুদী নারী নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গোপনে বিষ মাখানো ছাগলের গোশত উপহার হিসাবে নিয়ে আসলে তিনি তা থেকে খেয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৬১৭)। ইমরান ইবনু হুছাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ছাহাবীগণ একদা এক মুশরিক মহিলার মশক (পানির পাত্র) থেকে পানি নিয়ে পান করেছিলেন এবং ওযূ করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, বুলূগুল মারাম, হা/২০)। তাছাড়া কা‘বার মত পবিত্র ঘর মুশরিকরাই নির্মাণ করেছিল, যে কা‘বায় অদ্যাবধি মুসলিমরা ছালাত আদায় করছে (ছহীহ বুখারী, হা/১৫৮২, ৩৮২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৪০)।
তবে অবৈধ সম্পদ ও যাকাতের অর্থ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করা জায়েয নয়। কারণ মসজিদ আল্লাহ্র জন্য (জিন, ১৮) এবং তিনি পবিত্র বস্ত্ত ছাড়া কোন কিছু গ্রহণ করেন না। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, পবিত্র বস্ত্ত ভিন্ন তিনি কোন কিছু কবুল করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। দ্বিতীয়তঃ যাকাতের জন্য আল্লাহ তা‘আলা যে আট শ্রেণীর কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, সেগুলো ছাড়া অন্য কোন খাতে যাকাত প্রদান করা জায়েয নয় (তওবাহ, ৬০)। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সূরা তওবার উক্ত আয়াতে إِنَّمَا অব্যয় দ্বারা যাকাত প্রদানের খাতকে আট শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, প্রশ্ন নং-৩৬৮)। সুতরাং তা মসজিদ নির্মাণের কাজে খরচ করা জায়েয হবে না (ফাতাওয়া লাজনা আদ-দায়েমা, ১০/৩৯-৪০ পৃঃ)।
-রূহুল আমিন (রুবেল)
বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর।
