কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৩) : মনে মনে কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি? তাতে কি নেকী হবে?

উত্তর : না, মনে মনে কুরআন তিলাওয়াত করলে তাতে নির্ধারিত নেকী পাওয়া যাবে না। কেননা, তিলাওয়াত বলা হয় যা মুখে উচ্চারণ করে পড়া হয়। পক্ষান্তরে মনে মনে বুদ্ধিমত্তার আলোকে গবেষণালব্ধ যা হয় তাকে ‘তাযাক্কুর’ ও ‘তাদাববুর’ বলা হয়। সুতরাং কুরআন তেলাওয়াত ও গবেষণা ভিন্ন বিষয়। তবে এই জাতীয় তাদাববুরেরও নেকী রয়েছে কেননা এটিও একটি ভালো আমল। কিন্তু কুরআন তিলাওয়াতের জন্য যে নির্ধারিত নেকী রয়েছে তা শুধু কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। অতএব, মনে মনে নয় বরং মুখে উচ্চারণ করে এমনভাবে পড়তে হবে যাতে করে ঠোঁট বা দাড়ির নড়াচড়া প্রকাশ পায়। আবু মা‘মার রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাববাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যোহর ও আছরের ছালাতে ক্বিরআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা বললাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪৬)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ তেলাওয়াত করবে তার জন্য একটি নেকী রয়েছে। আর এ একটি নেকী হবে দশটি নেকীর সমান। আমি বলছি না যে, ‘আলিম লাম মীম’ একটি হরফ। বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ ও ‘মীম’ একটি হরফ (তিরমিযী, হা/২৯১০; সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২১৩৭)।

-বিলাল

 মোহনপুর, রাজশাহী।


Magazine