কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৯): আমার এক আন্টির স্বামী ইন্তেকাল করেছে প্রায় ছয় মাস পূর্বে। আন্টি স্বপ্নে দেখেছেন, তিনি আর মাত্র কিছুদিন বাঁচবেন। এই অবস্থায় তিনি অনেক ভয় পাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো ইসলামে স্বপ্নের বাস্তবতা কী? সব স্বপ্নের কি নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা আছে?

উত্তর: ক. হাদীছের ভাষ্যমতে স্বপ্ন তিন ধরনের হয়- ১. ভালো স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হয়ে থাকে। ২. মন্দ স্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতিপ্রদর্শন হয়ে থাকে। ৩. মস্তিষ্কপ্রসূত স্বপ্ন অর্থাৎ মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা ভাবে বা করে সেগুলো স্বপ্নে দেখে (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৬৩)। এই হাদীছ থেকে বুঝা যায়, সকল স্বপ্ন অমূলক নয় এবং স্বপ্নের ভালো ও মন্দ দুটি দিকই রয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো যদি ভালো স্বপ্ন হয়, তাহলে এমন ব্যক্তির কাছে তা প্রকাশ করা যাবে, যাকে স্বপ্নদ্রষ্টা পছন্দ করে এবং সে তার কল্যাণকামী (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৬১)। হিংসুক ব্যক্তির কাছে ভালো স্বপ্নের বিবরণ প্রকাশ করা যাবে না (ইউসুফ, ১২/৫)। আর যদি মন্দ স্বপ্ন হয়, তাহলে তা প্রকাশ করতে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন এবং যেটা করণীয় তা বলে দিয়েছেন। করণীয় হলো, মন্দ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙার পর তাৎক্ষণিক বাম দিকে তিন বার থুতু ফেলা এবং শয়তান ও স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা, আর দুই রাকআত ছালাত আদায় করা (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৬১)।

খ. ভালো স্বপ্নের ব্যাখ্যা আছে। তবে যাকে-তাকে তা জিজ্ঞেস করা যাবে না। কারণ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারা আল্লাহ প্রদত্ত যোগ্যতা, এটা মেহনত করে অর্জন করা কঠিন। যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং যাতে আমি তাকে (ইউসুফকে) শিক্ষা দিই স্বপ্নের ব্যাখ্যা’ (ইউসুফ, ১২/২১)। সুতরাং স্বপ্নের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করার পূর্বে ব্যক্তিকে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। এক্ষেত্রে বিখ্যাত স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারী ও তাবেঈ মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর গুণাবলিকে মানদণ্ড হিসেবে রাখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারী যা বলবেন তাই চূড়ান্ত নয়।

প্রশ্নকারী : শেখ বায়েজিদ হোসেন

বাগেরহাট।


Magazine