কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৪) : বিবাহের সঠিক নিয়ম কী? বিবাহ পড়ানোর জন্য কি নির্দিষ্ট কোন আয়াত বা হাদীছ আছে? যদি সঠিক নিয়মে কারো বিবাহ পড়ানো না হয়ে থাকে তাহলে করণীয় কী?

উত্তর : বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হল প্রথমে খুৎবা দেয়া। অতঃপর কিছু কথার মাধ্যমে বিবাহ বাস্তবায়ন করা। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবার মধ্যে সূরা আলে ইমরানের ১০২ নং আয়াত, নিসার ১ নং আয়াত ও আহযাবের ৭০-৭১ নং আয়াত পাঠ করতেন। অতঃপর বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কথা বলতেন (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৯২; আবুদাঊদ, হা/২১১৮; নাসাঈ, হা/১৪০৪; দারেমী, হা/২২০২; মিশকাত, হা/৩১৪৯)। কাজেই খুৎবা পড়ার পর মেয়ের পিতা বা অভিভাবক বা তাদের উপস্থিতিতে অন্য কেউ বরের সামনে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বলবেন, আমার মেয়ে ওমুক এত নগদ ও এত বাকী মোহরের বিনিময়ে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে রাযী তুমি তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ কর। তখন সে মেয়ের অলি ও দু’জন সাক্ষীকে শুনিয়ে বলবে, ‘আমি গ্রহণ করলাম’। এরূপ তিনবার হওয়া ভাল। কারণ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনবার বলতেন (বুখারী, মিশকাত, হা/৩০৮)। উল্লেখ্য যে, বিবাহের খুৎবা দাঁড়িয়ে দেওয়ার কোন প্রমাণ নেই। তাছাড়া কনের কাছে গিয়ে বিবাহ পড়ানোরও কোন প্রমাণ নেই। সমাজে প্রচলিত এ প্রথা মানব রচিত। যার কোন শারঈ ভিত্তি নেই। বিয়ের খুৎবা নিমণরূপ :

إِنَّ الْحَمْدَ لِلهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّآتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِىَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ- يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوْتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ. يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيْراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوْا اللهَ الَّذِىْ تَسَاءَلُوْنَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْباً. يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَقُوْلُوْا قَوْلاً سَدِيْدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللهَ وَرَسُوْلَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا.

(ইবনু মাজাহ, হা/১৮৯২; আবুদাঊদ, হা/২১১৮; নাসাঈ, হা/১৪০৪; দারেমী, হা/২২০২; মিশকাত, হা/৩১৪৯; আলে ইমরান, ১০২; নিসা, ১; আহযাব, ৭০-৭১)। উল্লেখ্য যে, বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হল (১) মেয়ের অলি বা অভিভাবকের অনুমতি (আবুদাঊদ, হা/২০৮৫; মিশকাত, হা/৩১৩০)। (২) কন্যার সম্মতি বা অনুমতি (বুখারী, হা/৫১৩৬; মুসলিম, হা/১৪১৯; মিশকাত, হা/৩১২৬) (৩) স্বামীর গ্রহণ এবং (৩৯) দু’জন সাক্ষী। ভুল নিয়মে কারো বিবাহ পড়ানো হয়ে থাকলে এখন আর কোন করণীয় নেই। কেননা মেয়ের অভিভাবকের সম্মতিই হল বিবাহ। সুতরাং উক্ত বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

 -হাশমত বিন আব্দুল মুমিন

চারঘাট, রাজশাহী।


Magazine