কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১): মাস হিসেবে অন্য মাসের উপর রামাযান মাসের কোনো মর্যাদা আছে কি? রামাযান মাসে ইবাদত করলে নেকী বেশি হয় এর কোনো প্রমাণ আছে কি?

উত্তর: রামাযান মাস অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলতপূর্ণ। তার কারণ হলো- ১. রামাযান মাসেই কুরআন মাজীদ নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রামাযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে’ (আল-বাকারা, ২/১৮৫)। ২. রামাযানে রহমত ও দু‘আ কবুলের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রামাযান মাস আগমন করে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়’, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত (বেঁধে) রাখা হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯)। ৩. এ মাসে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি দান করতেন। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রামাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রামাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবাহিত বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬)। ৪. রামাযান মাসে রয়েছে লায়লাতুল ক্বদর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘লায়লাতুল ক্বদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরীল) তাদের রবের অনুমতিতে সকল আদেশ নিয়ে অবতরণ করেন। সে রাত শান্তিময়, ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত’ (আল-ক্বদর, ৯৭/৩–৫) ইত্যাদি। রামাযান মাসে ইবাদত করলে নেকী বেশি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘লায়লাতুল ক্বদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (আল-ক্বদর, ৯৭/৩)। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনছারদের এক নারীকে (যার নাম ছিল উম্মু সিনান) বললেন, ‘তুমি আমাদের সঙ্গে হজ্জ আদায় করতে পারনি কেন?’ তিনি বললেন, অমুকের (অর্থাৎ তার স্বামীর) দুটি উট ছিল। একটিতে তিনি ও তার ছেলে হজ্জে গিয়েছিলেন, আর অপরটি আমাদের গোলাম সেচের কাজে ব্যবহার করত। তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তবে রামাযান মাসে উমরা আদায় করলে তা একটি হজ্জের সমতুল্য হবে’ অথবা তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে হজ্জ আদায় করার সমতুল্য হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৫৬)। উল্লেখ্য, রামাযানে আমলের ছওয়াব সত্তর গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় মর্মে যে হাদীছ আছে তা যঈফ, গ্রহণযোগ্য নয় (শুআবূল ঈমান, হা/৩৬০৭)।

প্রশ্নকারী : বিলাল, নওগাঁ। 


Magazine