কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে ছিয়াম

post title will place here

ভূমিকা: ইসলামের সামগ্রিক বিধি-বিধান শতভাগ নিশ্চিত, সন্দেহমুক্ত এবং মানবকল্যাণে নিয়োজিত। যত‌ই আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধন হবে, তত‌ই আধুনিক বিজ্ঞান ইসলামের কাছে মুখাপেক্ষী হবে। কেননা সকল ধরনের প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের তথ্য, উৎস ইসলামের বিভিন্ন বিধানসমূহের শতভাগ নিশ্চিত বিজ্ঞানসম্মত উপাত্তের আলোতেই বিজ্ঞান আলোকিত হচ্ছে। ফলে আজকের বিজ্ঞানের জট যত উম্মোচন করা হচ্ছে, তার নেপথ্যে রয়েছে ইসলাম। এখানে এটাওজেনেরাখাভালোযে, বিজ্ঞানদিয়েধর্মপরিমাপকরা যায় না, বরংইসলামদিয়েবিজ্ঞানপরিমাপকরতেহবেকেননাআজযেটাবিজ্ঞান,কালসেটাবিজ্ঞাননাওহতেপারে ইসলাম সর্বকালে সকলের জন্য নিশ্চিত পালনীয় জীবন বিধান। সেই সাথে আরেকটি কথা স্মর্তব্য যে, রাসূলছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরপ্রত্যেকটিসুন্নাহ (কথা, কাজমৌনসম্মতি) হলোবিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে ছিয়াম অনেক তাৎপর্যময়। ইসলামের এই অসাধারণ বিধান শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সকল ধর্মের মানুষের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। কেননা এই বিধান নিছক না খেয়ে থাকার নাম নয়; বরং শারীরিক, মানসিক থেকে শুরু করে সকল দিক ও বিভাগে এক অসাধারণ ও অসম্ভব পরিবর্তন সাধন করে। বিশেষত চিকিৎসাবিজ্ঞানে তো রামাযানের ছিয়াম বলা বাঞ্ছনীয়। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে সংক্ষিপ্ত পরিসরে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে ছিয়ামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার প্রয়াস পাব, ইনশা-আল্লাহ!

১. নেশা দমন করে চাই সুন্দর স্বাভাবিক জীবন: আপনি কি নিয়মিত ধূমপানের সাথে জড়িত? হয়তো নিজের জীবনের বদাভ্যাস, পাপ-পঙ্কিলতার অবাধ্য জীবন থেকে একটি সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের প্রত্যয় করছেন; কিন্তু সেই সুযোগ কিংবা সময় হয়ে উঠছে না, তাই তো? তাহলে আপনি আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় রামাযান মাসকে কেন্দ্র করে আপনার যাবতীয় বদাভ্যাস ও নেশাকে না বলুন, দীর্ঘ এক মাস ছিয়াম সাধনার মাধ্যমে পবিত্র, সুস্থ, সুন্দর, স্বাভাবিক জীবন গড়ে তুলতে এই রামাযানকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে গনীমত হিসেবে গ্ৰহণ করুন।

আপনি তো জানেন! এই নেশা, মাদকদ্রব্য মানব শরীরের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর ও তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। সবাই জানার পরও লাগামহীনভাবে নেশায় আসক্ত হয়ে জীবনকে মারাত্মক ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। অথচ সামান্য সিগারেট! সেই সিগারেট যে কত ক্ষতিকর, তা একটু কখন‌ও ভেবে দেখেছেন? এই সিগারেটের মধ্যে বিষাক্ত ‘নিকোটিন’ নামক একটি পদার্থ বিদ্যমান, যা সেবন করলে মানুষ ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে; অথচ এই বিষাক্ত নেশার সাথে জড়িত হয়ে কত সুন্দর জীবন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়! সুতরাং এমন জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তথা রামাযানে আসুন মাদককে জীবন থেকে ‘না’ বলে দেই।

২. মনের নিয়ন্ত্রণ সুখী জীবনের সফলতা: মনকে নিয়ন্ত্রণ করা ইসলামের একাধিক দলীল দ্বারা গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেননা মনকে যে যত বেশি প্রবৃত্তির লালসায় আসক্ত না করে নিয়মতান্ত্রিকতার পথ ধরে জীবন সাজাবে, সেই পরম তৃপ্তি, সুখ, শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে। আধুনিক মেডিকেল সায়েন্স ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কতগুলো শারীরিক ব্যাধির কারণ হচ্ছে ‘মানসিক পীড়া’। এগুলোকে পৃথক রোগ সাইকোসোমেটিক (Psychosomatic) ব্যাধি হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন- হাঁপানি, গ্যাস্ট্রিক-আলসার, বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, মাইগ্রেন, হৃদরোগ, হিপার থিরোডিজম, করনারি, অনিয়মিত মাসিক ঋতুস্রাব প্রভৃতি।

মনের নিয়ন্ত্রণ না করে লাগামহীনভাবে প্রবৃত্তির অনুসরণ করায় মন হয়ে ওঠে পশুত্ব স্বভাবের। সেই সাথে মানবিক চাহিদা, সামাজিক প্রয়োজনের তীব্রতা ব্যক্তিজীবনের নানা ধরনের পাপের পথকে উন্মুক্ত করে দেয়। এজন্য ছিয়াম সাধনার নগদ ও অভাবনীয় প্রভাব হলো দীর্ঘ এক মাস ছিয়াম থাকার কারণে মানুষের জৈবিক চাহিদাকে প্রশমিত করে এবং স্রষ্টার বাধ্যতায় মনের উপর এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ জারি হয়। ফলে ব্যক্তিজীবনে ছিয়াম যাবতীয় রোগ প্রতিরোধ করে এবং সুখী জীবনের সফলতার পথ উম্মোচন করে দেয়।

৩. বদহজমে চাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস: বদহজম অনেক মানুষের নিকট একটি নিয়মিত ও পরিচিত রোগ। সাধারণত বেশি খাওয়া অথবা খাওয়ার পর আবার খাওয়া অথবা পরিশ্রমের পর কোনো রকম বিশ্রাম ছাড়াই খাদ্য গ্রহণ করার দরুন বদহজম সমস্যা সৃষ্টি হয়। ফলে এই খাবার সঠিকভাবে এনজাইম না হ‌ওয়ায় মানব শরীরে গ্যাস সৃষ্টি করে, যার কারণে পেটের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। বদহজমের এই সমস্যা খাদ্য গ্ৰহণের সঠিক নিয়মবহির্ভূত কোনো অভ্যাসে জড়িত হ‌ওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। খাদ্য গ্ৰহণের এই ধারাবাহিকতায় এবং তার সাথে সম্পৃক্ত সকল রোগের উপর বিশাল প্রভাব সৃষ্টি করতে ছিয়াম আমাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল নেয়ামত। ছিয়াম সাধনার এই লম্বা সফরে খাদ্য গ্ৰহণের সঠিক নিয়মে অভ্যস্ত হ‌ওয়া এবং সেইসাথে শারীরিক সুস্থতার জন্য ছিয়ামের এই শিক্ষায় খাদ্যের সুষম বণ্টন সত্যিকার অর্থেই পেটের যাবতীয় রোগ-ব্যাধি প্রশমন করে যেকোনো মানুষকে রোগহীন জীবন গঠনে সহায়তা করে।

৪. লিভার (যকৃত) ও কিডনি সংরক্ষণে চাই নিরাপদ জীবন: একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে লিভার ও কিডনিকে গণ্য করা হয়। লিভার দেহের অন্যতম বড় গ্ৰন্থি। মানবদেহের সকল গ্ৰন্থির সুষম কাজের ব্যাঘাত ঘটলে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির জন্ম হয়। বিশেষত লিভার ও কিডনি এই দুই বড় অংশের কোনো একটির সমস্যা হলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিন্তু রামাযানে ছিয়াম সাধনায় লিভার ও কিডনি উভয়ের উপর চাপ কম থাকে। ছিয়ামের কারণে এই দুই অঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই আরামে থাকতে পারে। দীর্ঘ এক মাস ছিয়াম সাধনার এই সময় লিভার ও কিডনি উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তিযুক্ত দাবি হলো, যকৃতের এই অবসর গ্রহণের সময়কাল বছরে কমপক্ষে একমাস হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়।[1] কেননা যকৃতের দায়িত্বে খাবার হজম করা ব্যতীত আরো পনেরো প্রকার কাজের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তাছাড়া যকৃত স্বীয় শক্তিকে রক্তের মধ্যে Globunin সৃষ্টিতে ব্যয় করতে সক্ষম হয়। যকৃতের অন্যতম প্রধান কাজ হলো রক্তরসে প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন করা, যা শরীরের প্রতিরক্ষা ও পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[2]

শরীরের অন্যতম একটি অঙ্গ কিডনি, যাকে রেচনতন্ত্র (Excretory System) বলা হয়। খুবই সহজভাবে বললে কিডনীকে জীবন বললে ভুল হবে না। কিডনি শরীরের রেচনক্রিয়া অব্যাহত রেখে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে, যার জন্য মানুষ সুস্থ থাকে এবং রক্ত পরিষ্কার ও বর্ধিত হয়।

৫. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র: বলা হয়, Empty stomach is the power house of knowledge অর্থাৎ ‘ক্ষুধার্ত উদর জ্ঞানের আধার’। ছিয়াম সাধনায় মানুষের মানসিক ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং মনোসংযোগ ও যুক্তিপ্রমাণে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। স্নায়ুবিক প্রখরতার জন্য ভালোবাসা, আদর-স্নেহ, সহানুভূতি, অতিন্দ্রিয় ও আধ্যাত্মিক শক্তির উন্মেষ ঘটে। তাছাড়া ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও বোধশক্তির তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে ডা. অ্যালেক্স হেইগ বলেন, ‘ছিয়াম হতে মানুষের মানসিক শক্তি ও বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়, স্মরণশক্তি বাড়ে, মনোসংযোগ ও যুক্তিশক্তি পরিবর্ধিত হয়’।[3]

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে, ফুসফুসে কাশি, লোবার, নিউমোনিয়া, কঠিন কাশি, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রভৃতি রোগ ছিয়ামের দ্বারা আরোগ্য হয়। এছাড়াও একজন সুস্থ মানুষের জন্য ছিয়ামের গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। এ সময় অবাধ গতিতে বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। ছিয়াম পালনকালে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র সর্বাধিক উজ্জীবিত হয়। সুতরাং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত রাখার এক মহাকার্যকরী স্থায়ী ব্যবস্থার নাম ছিয়াম পালন করা।

৬. ওজন কমানোয় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যে অনাবিল আনন্দ: মানব শরীরের জন্য স্বাভাবিক ভারসাম্যপূর্ণ দেহ অবয়বই সুখের অন্যতম মাধ্যম। দেহের ভারসাম্যতা বলতে ওজন অতিরিক্ত বেশিও নয়, আবার খুব কম‌ও নয়। সাধারণত মানুষের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্ৰহণে মানব শরীরে চর্বি জমে যায়। ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়। বেশি চর্বি জমে গেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠে। ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবন থেকে অস্বাভাবিক, অস্বস্তিকর অবস্থায় উপনীত হ‌ওয়ার উপক্রম ঘটে। এই ওজন কমানোর অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ছিয়াম পালন করা। কেননা ছিয়াম পালনে শরীরের যত চর্বি আছে, তার উপর প্রভাব পড়বে এবং খাবার গ্ৰহণে নিয়মতান্ত্রিকতায় শরীরের ওজন না মাত্রাতিরিক্ত হবে, আবার না একেবারে হ্রাস পাবে। শরীরের ভার কমিয়ে সুস্থ, সুন্দর ও সুঠাম শরীর গঠনে ছিয়াম অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৭. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ছিয়ামঅন্যতম মাধ্যম: প্রতিনিয়ত কত খাবারই না খেতে হয় আমাদের। আমিষ, নিরামিষ সহ হরেক রকম খাবার না খেলে যেন চোখের ক্ষুধা কিংবা পেটের ক্ষুধা মেটে না; অথচ উচ্চ রক্তচাপ বেশি খাওয়া, চর্বিযুক্ত খাবার গ্ৰহণের কারণে হয়ে থাকে। এই অভ্যাসে রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে। এর কারণে হার্ট, ব্রেইন, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। ছিয়াম যেহেতু এক মাসের এক প্রশিক্ষণমূলক ইবাদত, সেহেতু এই ইবাদতের মাধ্যমে একজন ছিয়াম পালনকারীর খাদ্য গ্ৰহণ নিয়ম মাফিক হ‌ওয়ায় রক্ত চাপের বিপদ থেকে স্বাভাবিকভাবে মুক্তি পায়।

৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: বর্তমানে ছোট-বড় নারী-পুরুষের একটি স্থায়ী ও পরিচিত রোগের নাম ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কতজন কত ধরনের ঔষধ, মাধ্যম, উপকরণ গ্ৰহণ করে থাকে; অথচ ছিয়াম সাধনা যে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কত বড় একটা নেয়ামত, এটা অধিকাংশ রোগী জানেই না।

পোপ এলফ গাল ছিলেন হল্যান্ডের একজন নামকরা পাদ্রি। ছিয়াম সম্পর্কে তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন যে, আমি আমার অনুসারীদের প্রতি মাসে তিনটি করে ছিয়াম রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ কর্মপদ্ধতিতে দৈহিক ও পরিমাপিক সমন্বয় অনুভব করেছি। আমার রোগীরা বারংবার আমাকে জোর দিয়ে বলেছে যে, আমাকে আরো কিছু পদ্ধতি বলে দিন, কিন্তু আমি নীতি বানিয়ে দিয়েছি যে, দূরারোগ্য রোগীদের প্রতিমাসে তিন নয়, বরং পূর্ণ একমাস ছিয়াম রাখার নির্দেশ দেব। আমি ডায়াবেটিস (Diabetes), হৃদরোগ (Heart Diseases) ও পাকস্থলী রোগে (Stomach Diseases) আক্রান্ত রোগীদের পূর্ণ একমাস ছিয়াম রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ পদ্ধতি অবলম্বনে ডায়াবেটিস রোগের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তাদের সুগার কন্ট্রোল হয়ে গেছে। হৃদরোগীদের অস্থিরতা ও শ্বাস স্ফীত হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে পাকস্থলী রোগীরা।[4]

উপসংহার:

পরিশেষে বলতে চাই, ছিয়াম শুধু উপবাস থাকার নাম নয়; বরং ছিয়াম একটি আত্মিক, শারীরিক, মানসিক উন্নয়ন সাধনের ইবাদতের নাম। রবের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একজন ছিয়াম পালনকারীর পুরো জীবন ছিয়ামের বিশাল পরিবর্তনের দ্বারা আলোকিত হয়। আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান যত উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করছে ইসলামের বিভিন্ন বিধান গবেষণায় তাদের গবেষণার নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন হচ্ছে। যেটার বাস্তব প্রমাণ হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে ছিয়াম সাধনা। সুতরাং ছিয়াম সাধনা দ্বারা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের সহায়ক হিসেবে গ্ৰহণ করায় প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে ছিয়াম পালনের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

মো. মাযহারুল ইসলাম

শিক্ষক, রাযিয়া হিফযুল কুরআন এন্ড ইসলামীক একাডেমী, দিনাজপুর।


[1]. সুন্নাতে রাসূল (ছাঃ) ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃ. ১৪৮।

[2]. সুন্নাতে রাসূল (ছাঃ) ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃ. ১৪৮।

[3]. অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাহে রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য (ঢাকা: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংস্কৃতি কেন্দ্র, ১৯৮৫ খ্রি.), পৃ. ১৭।

[4]. সুন্নাতে রাসূল (ছাঃ) ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃ. ১৪৩-১৪৪।

Magazine