কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৭): জনৈক ইমাম ছাহেব বলেছেন, তাবীয জায়েয; কিন্তু তামীমা জায়েয নয়। এখন প্রশ্ন হলো, তাবীয আর তামীমার মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: তামীমা ও তাবীযের লক্ষ্য একই অর্থাৎ বিপদ দূর করা বা উপকার আনা। তবে এগুলোর পদ্ধতি আলাদা। তামীমা বলা হয়, মানুষ, ঘরবাড়ি ও গাড়িতে চোখ লাগা, জিন ইত্যাদি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে ঝুলিয়ে রাখা পুঁতি, হাড় বা নানা ধরনের বস্তু। তামীমা হারাম এবং তা বিশ্বাসের ধরন অনুযায়ী ছোট শিরক বা বড় শিরক হিসেবে গণ্য হয়। উক্ববা ইবনু আমির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তামীমা ঝুলায়, সে শিরক করেছে’ (আহমাদ, হা/১৯৪০৪)। আর তাবীয (تعويذة) হলো এমন কিছু যা মানুষ, পশু বা কোনো বস্তুর উপর বিপদ আসার আগেই তা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অথবা বিপদ ঘটার পর তা দূর করার জন্য পড়া হয়, ঝুলানো হয় কিংবা বেঁধে দেওয়া হয়। তাবীয দুই প্রকার- (১) শরীআতসম্মত তাবীয, যা আল্লাহ তাআলার কালাম (কুরআন) অথবা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত দু‘আ ও যিকির কিংবা ছাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত এমন রুকইয়া, যাতে কোনো নিষিদ্ধ বিষয় বা শরীআতবিরোধী কিছু নেই। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে তিনি নিজেই মুআওয়িযাত (সূরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস) পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন। কিন্তু যখন তাঁর অসুস্থতা তীব্র হয়ে যেত, তখন আমি তাঁর উপর তা পড়ে দিতাম এবং তাঁর হাত দিয়ে তাঁর শরীর মুছে দিতাম, তাঁর হাতের বরকতের আশা করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০১৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৯২)। এখানে শরীআতসম্মত তাবীয দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীআতসম্মত ঝাঁড়ফুক, ঝুলানো হয় বা বেঁধে রাখা হয় এমন তাবীয উদ্দেশ্য নয়। (২) শরীআতসম্মত নয়, তা হলো এমন সব তাবীয, যাতে কুফরী শব্দ অথবা অস্পষ্ট ও অর্থ বোধগম্য নয় এমন শব্দ, নাম ও সংকেত ব্যবহার করা হয়। এই প্রকারের তাবীয শিরক। আউফ ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের রুকইয়া আমার কাছে পেশ করো। যে রুকইয়াতে শিরক নেই, তাতে কোনো সমস্যা নেই’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০০)।

প্রশ্নকারী : কবিরুল ফরাজী

গোপালগঞ্জ।

Magazine