কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

‘পিস টিভি বাংলা’ খুলে দিন, ইসলামকে জানতে দিন

উপক্রমণিকা :

এখন বিশ্বজুড়েই ইসলামকে হেয় করার ষড়যন্ত্র চলছে। ইসলামের নামেই চলছে এই ষড়যন্ত্র। বলা যায়- তারই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ, গত ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পিস টিভি বাংলা চ্যানেলটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশে সম্প্রচারের বন্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সে দেশে এই পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের সিন্ধান্ত নেয় তারও আগে। ঢাকার গুলশান হত্যাকাণ্ডের নয় (০৯) দিনের ব্যবধানে জঙ্গিবাদ উস্কে দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে বাংলাদেশে পিস টিভি বাংলা চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। গত ১০ জুলাই ২০১৬ রবিবার বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সম্পাদিত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে এ সিন্ধান্ত গৃহীত হয়।

পিস টিভি কী ও কেন? :

ভারতের ইসলামী দক্ষ দাঈ ডাঃ যাকির নায়েক কর্তৃক পরিচালিত মুম্বাই ভিত্তিক ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (IRF) একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক চ্যানেল হল, এই ‘পিস টিভি (Peace TV)’; যেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে বিশ্বব্যাপী পরিবেশিত হয়। পিস টিভির অনুষ্ঠানমালা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইংরেজী ভাষায় প্রচারিত হয়ে থাকে। পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি হলেন, বিশ্ববরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব ডাঃ যাকির নায়েক। তিনি একজন ইসলামের প্রচারক হিসাবে দ্বীনী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পিস টিভির আরও দুই সহোদর চ্যানেল হল পিস টিভি উর্দু ও পিস টিভি বাংলা। এছাড়া অন্যান্য ভাষায়ও পিস টিভির প্রোগ্রাম সম্প্রচারিত হয়। ২০০৬ সালের ২১শে জানুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু করে পিস টিভি চ্যানেলটি বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে সম্প্রচারিত হয়ে আসছে। ২০০৯ সালে সহোদর চ্যানেল পিস টিভি উর্দূ চালু করা হয় সারা বিশ্বের উর্দূভাষী দর্শকদের জন্য এবং ২২শে এপ্রিল ২০১১ সালে পিস টিভি বাংলা চ্যানেলটির জন্ম হয়। এটি চালু করা হয় বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষী লোকদের জন্য। পিস টিভি নেটওয়ার্ক সরাসরি অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। বক্তৃতার অনুষ্ঠানসমূহ বয়স্ক ও যুবক-যুবতীদের জন্য এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানমালা শিশুদের জন্য প্রচারিত হয়।

পিস টিভি বাংলার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সফলতা :

আধুনিক মানুষ ইসলামকে নিয়ে যেসব দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন এবং অমুসলিম মিডিয়ার ব্যাপক অপপ্রচার ও কুপ্রভাবের কারণে ইসলামকে মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেন না, তাদের কাছে ইসলামের সঠিক রূপরেখা এবং কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অনন্য বার্তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির নিকট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পিস টিভি চ্যানেলের সূচনা। ইসলাম যে একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, অন্যান্য ধর্মের মত শুধু আনুষ্ঠানিকতার কোন মূল্য যে ইসলামে নেই, এই বিষয়টি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে পিস টিভি বাংলা চ্যানেল। কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছে এই পিস টিভি বাংলা চ্যানেল। ইসলাম সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করেছে এই চ্যানেলটি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইসলামের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তুলেছে এই পিস টিভি বাংলা চ্যানেল। মুসলিমদের ঈমানী চেতনা দৃঢ় করেছে এই পিস টিভি বাংলা চ্যানেল। বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে ইসলামের প্রতি আহবান জানিয়েছে এই পিস টিভি বাংলা চ্যানেল।

পিস টিভি বাংলা বন্ধের আবদার কাদের স্বার্থে :

অনেক দিন থেকেই ভারতে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার পায়তারা চলছিল। ডাঃ যাকির নায়েকের সাথে শ্রী শ্রী রবি শংকরের বিতর্ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, পরবর্তীতে ডাঃ যাকির নায়েক পিস টিভির Dare to ask অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী রবি শংকরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা বিশেস্নষণ করেন। এতে করে শ্রী শ্রী রবি শংকর মহা গোস্বা হয়ে তার ভক্তবৃন্দকে ডাঃ যাকির নায়েক ও তার পিস টিভির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ডাঃ যাকির নায়েকের পর্দা ফাঁস জাতীয় একটি Cut to fit অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। এতে ডাঃ যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ আনা হয় এবং পিস টিভির সাথে ডাঃ যাকির নায়েকের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবদার রাখা হয়। ডাঃ যাকির নায়েক হিন্দুদেরকে তাদেরই ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে যখন কোটি কোটি হিন্দুর চোখ খুলে দেওয়া শুরু করলেন, তখন হিন্দু ধর্মীয় গুরুরা সাধারণ হিন্দুদের উপর তাদের প্রভাব হ্রাস পাওয়ার আশংকায় ডাঃ যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামা শুরু করলেন। সাধারণ হিন্দুরা দেখতে পাচ্ছে ডাঃ যাকির নায়েকের যে পরিমাণ জ্ঞান তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের উপর আছে, সে পরিমাণ জ্ঞান তাদের হিন্দু পণ্ডিতদের মধ্যেও নেই। উপরন্তু ডাঃ যাকির নায়েক হিন্দু ধর্মীয় পণ্ডিতদেরকে তাদেরই ধর্মীয় গ্রন্থের সাহায্যে ধরাশায়ী করেছেন। যার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বহু হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। হিন্দু পণ্ডিতরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং হিন্দুদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার কৌশল হিসাবে ডাঃ যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার ভুয়া অভিযোগ তুলেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশেরই এক শ্রেণির কথিত আলেম পিস টিভি বাংলা চ্যানেল বন্ধের পায়তারা চালিয়েছে। তারাও হিন্দু পণ্ডিতদের ন্যায় সাম্প্রদায়িকতার ও ইসলাম বিকৃতির ভুয়া অভিযোগ করেছেন। এটা ঠিক যে, ইসলামের নামে অনেক অনৈসলামিক ধর্মীয় রসম-রেওয়াজ, মীলাদ, ক্বিয়াম, কুলখানি, পীর ব্যবসা, মাযার ব্যবসা ইত্যাদি এই উপমহাদেশে চালু আছে। যার মাধ্যমে কথিত আলেম নামক ধর্ম ব্যবসায়ীরা প্রচুর টাকা-পয়সা উপার্জন করছে। পিস টিভি বাংলার মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারছে যে, কীভাবে এতদিন ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তাই এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বন্ধের আশংকায় পিস টিভি বাংলার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে এবং পিস টিভি বাংলা চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধের নানা কৌশল চালায়। অবশেষে তাদের সেই কৌশল ও বিষোদগার সফলও হয়। বাংলাদেশে প্রচারিত ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার পস্নাস, জি বাংলা ইত্যাদি থেকে অশ্লীল সিরিয়াল, নাটক প্রচারিত হয়। এগুলো বন্ধের ব্যবস্থা না নিয়ে পিস টিভি বাংলা চ্যানেল বন্ধ করার হীন ষড়যন্ত্র চালায় কতিপয় ধর্ম ব্যবসায়ী আলেম। নাঊযুবিল্লাহি!

সুধী পাঠক! বর্তমানে আমাদের যুগে লক্ষ লক্ষ আলেম ও পীর-ফক্বীর দেখতে পাওযা যায়। এসব নামধারী আলেম ও পীরের পাল্লায় পড়ে অগণিত লোক বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হতে থাকবে। বর্তমানে হক্বপন্থী আলেম খুঁজে পাওয়া ভীষণ মুশকিল। অনেক মানুষ আজ আলেম চিনতেই হিমশিম খাচ্ছে।[1]

শিরকের বেড়াজালে উম্মত বেশামাল :

সুধী হক্বতালাশী পাঠকবৃন্দ! তাওহীদের সঠিক জ্ঞানের অভাবে বাংলাদেশি মুসলিমদের সংস্কৃতি আজও প্রকৃত ইসলামী রূপ পায়নি, বরং তা ইসলামী ভাবধারা হতে বিচ্যুত হয়ে বিজাতীয় সংস্কৃতির ঘোলাটে ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, পাকিস্তানের লাহোরের মুসলিমরা ‘মধু লাল’ নামক এক ব্রাহ্মণের কবরের উপরও মাযার বানিয়েছে।[2] অতএব, আমাদেরকে শিরক ও বিদ‘আত পরিহার করে তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহকে তালাশ করতে হবে এবং সেটাই আমৃত্যু মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে আলেম নামক যালেম সম্প্রদায়ের আক্রমণ থেকে হিফাযত করুন- আমীন!

গুলশান হামলা নিয়ে ডাঃ যাকির নায়েকের স্পষ্ট বক্তব্য :

গত ০১ জুলাই ২০১৬ রাতে ঢাকা গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারির হামলায় জড়িত দু’জন ডাঃ যাকির নায়েকের ভক্ত ছিল এমন অভিযোগ তুলে পিস টিভি বাংলা চ্যানেল সম্প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এমন খবরের বিষয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ডাঃ যাকির নায়েক বলেন, ‘হত্যাকারীরা আমার বক্তব্যের সাথে পরিচিত হতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি তাদের অনুপ্রাণিত করেছি। আমি সাধারণত বিভিন্ন ধর্মীয় বই অনুসারে বক্তব্য দিই। আমার বক্তব্য শুনে তারা যদি সঠিক ইসলামকে বুঝতে না পারে সেটা তাদেরই দুর্ভাগ্য’। গুলশানের হত্যাকারীরা তাঁর অনুসারী এমন তথ্যকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার ফেসবুক ফলোয়ারের বড় অংশই বাংলাদেশি। এছাড়া বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের মানুষই বাংলায় প্রচারিত পিস টিভিতে আমাকে দেখেন। ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি আমাকে চেনেন। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র, শিক্ষকরা রয়েছেন সেই তালিকায়। আর এই বিপুল মানুষের পঞ্চাশ শতাংশ আমার গুণমুগ্ধ। এই অবস্থায় জঙ্গিরা যদি আমাকে চেনে, তাহলে কি আমার খুব বেশি অবাক হওয়ার কথা? না’। ‘আই.এস’-কে ‘এন্টি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া’ নামে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আই.এস নামটিই অনৈসলামিক। ইসলামিক স্টেট (আই.এস) নামটি ব্যবহার করে আমরা আসলে ইসলামের নিন্দা করছি।[3]

কে এই ডাঃ যাকির নায়েক? :

ডাঃ যাকির আব্দুল করীম নায়েক ১৯৬৫ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে পেশায় একজন ডাক্তার হলেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচারে একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করার ফলে চিকিৎসা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে বৈজ্ঞানিক, গঠনমূলক যুক্তি ও অন্যান্য প্রমাণাদির মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াসী হন। তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ব্যাপকভাবে অক্ষরে অক্ষরে গৌরবান্বিত আল-কুরআন, ছহীহ হাদীছ ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে তথ্য ও প্রমাণপঞ্জি, পৃষ্ঠা নাম্বার, লাইন নাম্বার, খণ্ড নাম্বার ইত্যাদি উল্লেখ থাকার কারণে যে কেউ তাঁর বক্তব্য বা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করুক বা তাঁর এ পর্ব শ্রবণ করুক না কেন, সে বিস্মিত ও অভিভূত না হয়ে পারে না। জনসমক্ষে আলোচনা সুতীক্ষন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর প্রদানের জন্য তিনি সু-প্রসিদ্ধ। তাঁর অধিকাংশ বক্তব্য ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব নেটওয়ার্ক Peace TV এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়। ডাঃ যাকির নায়েক সাধারণত লিখিত কোন বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন না; বরং সর্বদা জনসমক্ষে বিতর্ক করেন। কারণ, এটা সবার জানা কথা যে, লিখিতভাবে কোন বিতর্ক করলে তা কখনো শেষ হবার নয়; কিন্তু প্রকাশ্যে বিতর্ক করলে তা কার্যকরীভাবে একটা ফলাফল বয়ে আনে।

শায়খ আহমাদ দীদাত ডাঃ যাকির নায়েককে ২০০০ সালের মে মাসে ‘হে তরুণ! তুমি যা চার বছরে করেছ, তা করতে আমার চলিস্নশ বছর ব্যয় হয়েছে’। খোদাই করা একটি স্মারক প্রদান করেন।

ডাঃ যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন :

ভারতীয় ইসলামী স্কলার ডাঃ যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগের সামান্যতম প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘মহারাষ্ট্র স্টেইট ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট’ (এস.আই.ডি)। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না বা তাকে গ্রেফতারের কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।[4] ওদিকে মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, যাকির নায়েককে ভারতে পাঠানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন খোদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদ। তিনি জানান, ডাঃ যাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় আসার পর কোন সমস্যা তৈরি হয়নি। তাই তাঁকে এ দেশে (মালয়েশিয়ায়) স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।[5] শুধু তাই নয়, ডাঃ যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ভারতের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ‘এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)’ কর্তৃক সম্পদ বাজেয়াফত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে’র প্রধান বিচারপতি মনমোহন সিং। একই সাথে তিনি তাঁর স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াফত করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন।

তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :

বাংলাদেশের গত দশম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী পরিষদ কর্তৃক Peace TV Bangla বন্ধের সিদ্ধান্তের সংবাদ শুনে সচেতন মানুষ মাত্রই হতবাক হয়েছেন। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়েছেন এর গুণমুগ্ধ দর্শকগণ। বাংলাদেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এই টিভির নিয়মিত দর্শক। দেশের উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে নাপিতের দোকানেও এই পিস টিভি বাংলা চলতে দেখা গেছে। প্রখর মেধাবী, ম্যারাথন বক্তা ও চৌকশ দাঈ ডাঃ যাকির নায়েক-এর চমৎকার উপমা, অখণ্ডণীয় যুক্তি আর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে অনর্গল রেফারেন্সসহ বক্তৃতা মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনত। অসংখ্য মানুষ এই চ্যানেলের মাধ্যমে অন্যায়-অপকর্ম ছেড়ে সৎপথে এসেছে, অগণিত অন্ধকার পথের যাত্রী আলোর পথের সন্ধান পেয়েছে। অসংখ্য অমুসলিম এই চ্যানেলের মাধ্যমে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে। বাংলা ভাষী আলোচকবৃন্দের থেকেও কুরআন-সুন্নাহ ও ছহীহ আক্বীদা নির্ভর বিভিন্ন লেকচার থেকে মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছে-এতে কোন সন্দেহ নেই। পিস টিভি বাংলা বন্ধের সিন্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে অবস্থানকারী টিভি দর্শকগণ এটি দেখা থেকে বঞ্চিত হলেও ইন্টারনেট আর অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে কোনক্রমেই মানুষকে সত্যের আওয়ায থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কেননা, সত্যানুসন্ধিৎসু মানুষ সত্যের পথটি খুঁজে নিচ্ছে মোবাইল মেমোরী, Peace Mobile, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি অসংখ্য আধুনিক মিডিয়া থেকে। কোটি কোটি বাংলাদেশি বিদেশ থেকে পিস টিভি দেখছে, এগুলো তো বন্ধ করা আর সম্ভব নয়। তাহলে কেন এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত? এভাবে কি সরকার জঙ্গিবাদ দমন করতে পারবে? বরং পিস টিভি বাংলা চ্যানেলকে কাজে লাগিয়েই সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়তা নিতে পারতো।

উপসংহার :

জঙ্গি সমস্যা নিছক আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটা মোকাবিলায় সম্বনিত উদ্যোগ নিতে হবে। ছড়িয়ে দিতে হবে প্রকৃত ইসলামের বাণী। কেননা, প্রকৃত ইসলাম কখনই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। আর ইসলামিক স্টেট (আই.এস) বিশ্ব জুড়ে যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে, তা কোনভাবেই ইসলামের চেতনার সমান্তরাল নয়। তাই আমরা আশা করব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মান্যবর মন্ত্রী পরিষদ পিস টিভি বাংলা চ্যানেল পুনরায় খুলে দিয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিবেন। মহান আল্লাহ আমাদের বাংলাদেশকে সকল প্রকার ফিৎনা-ফাসাদ থেকে হিফাযত করুন। সর্বোপরি ইসলামী দাওয়াহ, দাঈ, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে সকল ষড়যন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা করুন- আমীন!


[1]. জহুর বিন ওসমান, হাক্বপান্থী আলিম ও ভেজাল আলিমের পরিচয় (সিরিজ-২), ঢাকা: তাওহীদ পাবলিকেশন্স, প্রথম প্রকাশ- ফেব্রম্নয়ারী ২০০৭ ঈসায়ী, ভূমিকা দ্রষ্টব্য।

[2]. শাইখ মোস্তাফিজুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-মাদানী, বড় শির্ক ও ছোট শির্ক (দারুল ইরফান, ঢাকা-বাংলাদেশ; প্রথম প্রকাশ-জুন ২০১১ ঈসায়ী), পৃঃ ২৬।

[3].m.ntvbd.com/world/61091/গুলশান-হামলা-নিয়ে-মুখ-খুললেন-জাকির-নায়েক : ০৯ জুলাই ২০১৬, ০৯ : ৫২।

[4]. THE HINDU, MUMBAI; July 12, 2016, 05 : 45, IST.

[5]. সাপ্তাহিক আরাফাত, ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার, পৃঃ ৪৭।

Magazine