কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৮) : সূদ ঘুষ এবং আত্মসাতের সাথে জড়িত থেকে অনেক সম্পদ করেছিলাম। এখন আমি তওবা করতে চাই। এক্ষেত্রে কি আমার ঐ সম্পদগুলো ফেরত দিয়ে তওবা করতে হবে? না-কি তা রেখেও তওবা করলে হবে?

উত্তর : এসব অন্যায় ও অপকর্মের জন্য খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে। তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন ও তার পাপকে পুণ্যে পরিণত করবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে; আল্লাহ তাদের পাপ পরিবর্তন করে দিবেন পুণ্যের দ্বারা; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (ফুরক্বান, ৭০)। তিনি অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ (তারা) আল্লাহ্র রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (যুমার, ৫৩)। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান ভুলকারী আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ, যারা তওবা করে’ (তিরমিযী, হা/২৪৯৯; ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫১; দারেমী, হা/২৭২৭; মিশকাত, হা/২৩৪১)। তবে আত্মসাতের টাকা-পয়সা মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই গনীমতের মাল লাভ করতেন, তখন বিলাল রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে আদেশ করতেন (তিনি যেন যার কাছে যা আছে তা উপস্থিত করার জন্য ঘোষণা দেন)। তিনি যখন জনগণের মধ্যে ঘোষণা দিতেন, তখন লোকেরা তাদের স্ব-স্ব গনীমত নিয়ে আসত। অতঃপর সমস্ত মাল হতে (বায়তুল মালের) এক-পঞ্চমাংশ বের করতেন এবং অবশিষ্টগুলো লোকদের মাঝে বণ্টন করতেন। একদা জনৈক ব্যক্তি (মাল বণ্টন করা পর) একখানা পশমের লাগাম নিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইহা গনীমতের মাল, যা আমি পেয়েছিলাম। তার কথা শুনে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিলালের তিনবার ঘোষণার কথা শুনেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তখন সেটা আনতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? একথা শুনে সে বিভিন্ন ওযর পেশ করল। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যাও, তুমি ক্বিয়ামতের দিন এই রশি নিয়েই উপস্থিত হবে। আমি তোমার নিকট হতে এটা গ্রহণ করব না’ (আবুদাঊদ, হা/২৭১২; মিশকাত, হা/৪০১২)।

প্রশ্নকারী : আসাদুজ্জামন

বাগমারা, রাজশাহী।


Magazine