এক গ্রামে দু’জন লোক বাস করত। তারা ছিল প্রতিবেশী। সম্পদ বলতে তাদের কিছুই ছিল না। অন্যের জমিতে কাজ করে কোনমতে তারা দিন পার করত। কিছু দিন পর কাজ না থাকায় তারা চেয়ে চিন্তে খেতে লাগল। একদিন একজনের মাথায় অসৎ উদ্দেশ্য ভর করল। সে হাঁটতে পারে না, তার পা ভাঙ্গা, অচল এরকম ভান করে মানুষের কাছে হাত পাততে শুরু করল। এতে তার ভাল আয় হতে লাগল। তুমি একদিন ধরা পড়বে, ইনশাআল্লাহ তখন ভান দিয়ে কিছু হবে না একথা বলে তার প্রতিবেশীটি তাকে সতর্ক করতে চাইল। কিন্তু তাতে সে কর্ণপাত করল না। মানুষ তার ভনিতা ধরতে পেরে সত্যি সত্যি একদিন পা ভেঙ্গে দিল। তখন সেই প্রতিবেশীটি তাকে এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। পা কীভাবে ভাঙ্গল? ডাক্তার একথা জিজ্ঞেস করতে, সে সব খুলে বলল। সব কথা শুনে ডাক্তার বলল, আমি তোমার পা ব্যান্ডেজ করে দিব, তোমাকে ওষুধ কিনে দিব, ব্যবসা করার জন্য কিছু টাকাও দিব। আর তোমাকে ব্যবসা করার জন্য যে পরিমাণ টাকা দিব, তোমার প্রতিবেশীটিকেও সেই পরিমাণ টাকা দিতে চাই, যাতে এখন থেকে তোমরা সৎ উপায়ে উপার্জন করতে পার। আমাকে ব্যবসা করার জন্য যে টাকা দিবে, আমার প্রতিবেশীকেও সেই টাকা দিবে- ডাক্তারের এই কথা শুনে সে বলল, ডাক্তার ছাহেব আপনাকে কষ্ট করে আর আমার পা ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে না, আমাকে ওষুধ কিনে দিতে হবে না, ব্যবসা করার জন্য টাকাও দিতে হবে না। তাহলে আমার প্রতিবেশীটিও ব্যবসার জন্য টাকা পাবে না। উপরিউক্ত ভাঙ্গা পা নিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে বরং আমার সুবিধাই হবে!
নাজমা ইয়াসমীন
নওদাপাড়া, রাজশাহী।
