উত্তর : ঈমান ও ইসলাম বিধ্বংসী কাজ ১০টি। যেমন, (১) আল্লাহ্র ইবাদতে শীরক করা। আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ.
‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। উহা ব্যতিরেকে উহার নিমণ পর্যায়ের পাপ সবই তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে’ (নিসা, ১১৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, ‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি শিরক করবে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর এই সমস্ত যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না’ (মায়েদাহ, ৭২)। জ্ঞাতব্য : এই শিরকের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি কার্যাবলী হল, মৃত ব্যক্তিকে আহবান করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা, তাদের জন্য নযর, নেয়াজ মানা ও পশু যবেহ করা ইত্যাদি। যেমন কোন ব্যক্তি জিনের জন্য বা কোন কবরের জন্য যবেহ করল ইত্যাদি। (২) নিজের ও আল্লাহ্র মধ্যে মধ্যস্থতা সাব্যস্ত করে তাদের উপরেই ভরসা রাখা। এই ধরনের ব্যক্তি সর্বসম্মতিক্রমে কাফের বলে গণ্য। (৩) মুশরিককে মুশরিক বা কাফেরকে কাফের না বলা বা তাদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করা কিংবা তাদের ধর্মকে সঠিক ভাবা। (৪) এই বিশ্বাস করা যে অন্যের আদর্শ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের চাইতে অধিক পূর্ণাঙ্গ। কিংবা এই বিশ্বাস করা যে, অন্যের বিধান নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিধান অপেক্ষা অধিক উত্তম। (যেমন কেউ কেউ ত্বাগূতের বিধানকে নবীর বিধানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকে)। সে ব্যক্তি কাফের বলে গণ্য হবে। (৫) রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনিত কোন বস্ত্তকে ঘৃণার চোখে দেখা। এমতাবস্থায় সে কাফের বলে গণ্য হবে। যদিও সে ঐ বস্ত্তর উপর ব্যহ্যিকভাবে আমল করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنْزَلَ اللهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ.
‘ইহা এজন্যই যে, তারা আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিষয়কে ঘৃণা করেছে। সুতরাং আল্লাহ তাদের আমলগুলোকে প- করে দিয়েছে’ (মুহাম্মাদ, ৯)। (৬) দ্বীনের কোন বিষয় নিয়ে বা তার পুরস্কার কিংবা শাস্তিকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (হে রাসূল!) ‘আপনি বলুন, তবে কি তোমরা আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? কোন প্রকার ওযর-আপত্তি প্রদর্শন কর না। তোমরা ঈমান আনয়নের পর আবার কুফরী করেছ’ (তওবাহ, ৬৫-৬৬)। (৭) যাদুটোনা করা। যাদুর অন্যতম প্রকার হল তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে দু’জন মানুষের বন্ধন তৈরি করা বা তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি যাদু করবে বা তাতে রাজি হবে সে কাফের বলে বিবেচিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ঐ দু’জন (হারূত-মারূত ফেরেশতা) কাউকে যাদু শিক্ষা দিতেন না; যতক্ষণ পর্যন্ত এ কথা না বলতেন, নিশ্চয়ই আমরা (তোমাদের জন্য) পরীক্ষাস্বরূপ। সুতরাং (আমাদের নিকট যাদু শিখে) কাফের হয়ো না (বাক্বারাহ, ১০২)। (৮) মুসলমিদের বিরুদ্ধে মুশরিকদেরকে সাহায্য-সহযোগীতা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্য হতে যে ওদের (বিধর্মীদের) সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যালেমদেরকে হেদায়াত করেন না’ (মায়েদাহ, ৫১)। (৯) এ বিশ্বাস করা যে, কারও জন্য মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরী‘আতের বাইরে থাকার অবকাশ রয়েছে। যেমন (এক শ্রেণীর ভণ্ড সুফীর ধারণা অনুপাতে) খিযির আলাইহিস সালাম-এর জন্য মূসা আলাইহিস সালাম-এর শরী‘আতের বাইরে থাকার অবকাশ ছিল। এমন বিশ্বাস করলেও সে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِيْنًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِيْ الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অন্বেষণ করবে তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে ইমরান, ৮৫)। (১০) সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্র দ্বীন হতে বিমুখ থাকা। সে ব্যাপারে জ্ঞানার্জন না করা, তদানুযায়ী আমল না করা। এই ধরনের মন মানসিকতার ব্যক্তিও কাফের বলে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কে বেশী যালিম (অত্যাচারী) হতে পারে, তাকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে স্বীয় প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দ্বারা অতঃপর সে উহা হতে বিমুখ হয়েছে? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী’ (সাজদাহ, ২২)।
-নাইম ইসলাম
পবা, রাজশাহী।
