উত্তর : উভয়ের সম্মতিতে নির্ধারিত মূল্যে, নির্ধারিত সময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। একে শরীআতের পরিভাষায় ‘বায়ঈ সালাফ’ বলে। অর্থাৎ অগ্রিম মূল্যে পরে পণ্য ক্রয় করা। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন, তখন সেখানকার লোকজন খেজুরে দুই-তিন বছরের জন্য সালাফ (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) করতেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতে চায় সে যেন নির্দিষ্ট মাপে, নির্দিষ্ট ওজনে এবং নির্দিষ্ট সময় বেঁধে তা করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৪০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৪)।
নির্ধারিত সময়ে পণ্য দিতে না পারলে অন্যের নিকটে হস্তান্তর করতে পারে। তবে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হতে হবে। এমতাবস্থায় কোনোটাই সম্ভব না হলে এ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে না। হাকীম ইবনু হেযাম রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কোনো লোক এসে আমার কাছে এমন পণ্য কিনতে চাইল যা আমার কাছে নেই, আমি কি সেটা বাজার থেকে কিনে এনে তার কাছে বিক্রি করতে পারব? তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩; তিরমিযী, হা/১২৩২; মিশকাত, হা/২৮৬৭)।
তবে চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরৎ দেওয়ার সময় বেশি লেন-দেন হলে তা সূদ হবে। আর ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ক্রেতার যদি এটাই নিয়্যত থাকে যে, সে পণ্য না নিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিবে তাহলে নিঃসন্দেহে সূদ হবে। আর টাকা কম হলে যুলুম হবে। তবে ক্রয়-বিক্রয়ে পণ্য বা বস্তু অপরিচিত বা প্রতারণা থাকলে তা হারাম হবে।
-হুসাইন