কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৮) : অসুস্থ অবস্থায় তাহাজ্জুদ ছালাত ছুটে গেলে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করা যাবে কি?

উত্তর : কোন কারণে তাহাজ্জুদ ছালাত ছুটে গেলে দিনে পড়ে নেয়া ভাল। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যে কোন কারণে রাতে ছালাত ছুটে গেলে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনে ১২ রাক‘আত ছালাত আদায় করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৪৬)। তাহাজ্জুদ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছিল নির্ধারিত নফল ছালাত (বনী ইসরাঈল, ৭৯)। অন্যদেরকেও রাত্রির নফল ছালাত আদায়ে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ফরয ছালাতের পর সর্বোত্তম ছালাত হল রাতের ছালাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৩; মিশকাত, হা/২০৩৯)। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ্র নিকট প্রিয়তম নেক আমল হল যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা কম হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮৩; মিশকাত, হা/১২৪২)। সুতরাং অসুস্থতার কারণে রাত্রি জাগরণে আশঙ্কাবোধ করলে প্রথম রাতে বিতর পড়ার পরে তাহাজ্জুদের নিয়তে দুই রাক‘আত নফল আদায় করে নিলেও তাতে তাহাজ্জুদের নেকী পাওয়া যাবে। সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এই রাত্রি জাগরণ কষ্টসাধ্য ও ভারী ব্যাপার। অতএব তোমাদের কেউ যখন বিতর পড়বে, তখন দুই রাক‘আত (নফল) পড়ে নিবে। অতঃপর সে যদি রাত্রিতে উঠতে পারে, তবে তো ভাল কথা। অন্যথা এই দুই রাক‘আত তার পক্ষে যথেষ্ট হবে’ (দারেমী, হা/১৫৯৪; মিশকাত, হা/১২৮৬)। অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমিয়ে গেলেও পরে যদি কেউ সময়মত উঠতে না পারে, তাহলে নিয়তের কারণে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ নেকী পাবে এবং উক্ত ঘুম তার জন্য ছাদাক্বাহ হবে’ (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, ইরওয়া, হা/৪৫৪)। 

-সায়েমা বেগম

বৃ-কুষ্টিয়া, বগুড়া।


Magazine