কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৭) : রুকূর পরে হাত বাঁধতে হবে কি? আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, সুন্নাত; পক্ষান্তরে শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, বিদ‘আত! তাহলে কোনটা মানবো?

উত্তর : রুকূর পরে বুকে হাত বাঁধার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন দলীল পাওয়া যায় না। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায এবং শায়খ ইবনু উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ রুকূর পরে বুকে হাত বাঁধার পক্ষে যে হাদীছদ্বয় পেশ করেছেন, তাতেও রুকূর পরে হাত বাঁধার বিষয়টি উল্লেখ নেই। তা নিছক ইজতিহাদ মাত্র। সাহল ইবনু সা’দ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, লোকদের ছালাতের মধ্যে ডান হাতকে বাম বাহুর উপর রাখার আদেশ দেয়া হত (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪০)। হাদীছে উল্লেখিত ‘ছালাতের মধ্যে’ শব্দটিকে ব্যাপকার্থে প্রয়োগ করে তারা বলতে চেয়েছেন যে, রুকূর আগে ও পরে উভয় অবস্থায় বুকে হাত বাঁধতে হবে। দ্বিতীয় হাদীছ হল, আলক্বামাহ ইবনু উয়ায়েল তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি যখন ছালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তখন ডান হাত দিয়ে বাম হাতকে ধরে রাখতেন (নাসাঈ, হা/৮৮৭)। তারা হাদীছে উল্লেখিত ‘দাঁড়িয়ে থাকতেন’ শব্দ দ্বারা বুঝেছেন যে, রুকূর আগে কিংবা পরে দাঁড়ানো অবস্থা হলেই হাত বেঁধে রাখতে হবে। এর বিপরীতে শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, কিয়াম তথা দাঁড়ানো দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ক্বিরাআতের জন্য দাঁড়ানো অবস্থা। আর রুকূর পরে যে দাঁড়ানো অবস্থা, তা কিন্তু কিরাআতের জন্য দাঁড়ানো নয়। বরং তা ই’তিদাল তথা রুকূ থেকে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো। হাদীছে যেহেতু স্পষ্টভাবে হাত বাঁধার কথা আসেনি। আর ইবাদতের মূলভিত্তি হচ্ছে দলীল। যে বিষয়ের দলীল পাওয়া যায় না, তা আমল করা যাবে না। সুতরাং রুকূর পরে বুকে হাত বাঁধা ঠিক নয়।

-ওয়ালিউর রহমান সুমন

কালাবগী, দাকোপ, খুলনা।


Magazine