হাম্মাদ ইবনু যায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
وضعت الزنادفة على رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعة عشر أو اثني عشر ألف حديث
‘যিনদীকরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ১৪ হাযার, কেউ কেউ বলেছেন, বার হাযার হাদীছ জাল করেছে।[1] আববাসীয় খলীফা আল-মাহদী বলেছেন, তার নিকট এক যিনদীক্ব স্বীকার করেছে যে, সে চারশ’ বা সাতশ’ হাদীছ জাল করেছে, যেগুলো মানুষের মধ্যে প্রচলিত।[2] মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়ে এক যিনদীক খলীফা হারূনুর রশীদের নিকট স্বীকার করে যে, আমি আপনাদের মধ্যে চারশ’ মিথ্যা হাদীছ ছড়িয়ে দিয়েছি।[3] আব্দুল করীম ইবনু আবিল আউজা মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়ে স্বীকার করে যে, আল্লাহ্র কসম! আমি হালাল-হারাম সম্পর্কে চার হাযার হাদীছ জাল করে ছড়িয়ে দিয়েছি।[4] তাদের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে ব্যাপকভাবে হাদীছ জালিয়াতির জন্য প্রধানত তারাই দায়ী আর প্রমাণ করে তাদের জালিয়াতি প্রকৃত হাদীছবিদগণের নিকট ধরা পড়লে এবং তাদের অনেকের প্রতি মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রয়োগ করা হলে তারা তাদের জালকৃত হাদীছের সংখ্যা চক্রান্তমূলকভাবে বাড়িয়ে বলে যাতে গোটা হাদীছে নববীর প্রতি সাধারণ মুমিনের সংশয় জন্ম হয়। কারণ জগতের সকল জাল ও ভিত্তিহীন হাদীছ একত্রিত করা হলেও সেগুলোর সর্বমোট সংখ্যা তার অধিক হওয়া অসম্ভব। হালাল-হারাম বিষয়ক জাল হাদীছের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য, হাযার হাযার হওয়ার প্রশ্নই আসে না।[5]
সুসংহত মুসলিম উম্মাহ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রথম দল খাওয়ারিজ, দ্বিতীয় দল শী‘আ। হাদীছ জালিয়াতিতে এ দু’টি দলের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।[6] খাওয়ারিজ দল প্রথমে নিজেদের মর্যাদার সমর্থনে হাদীছ জাল করতে শুরু করলেও তা বেশীদূর অগ্রসর হবে পারেনি। কারণ তাদের দলীয় আক্বীদা ছিল, যে লোক মিথ্যাবাদী সে কাফির। ফলে তাদের মধ্যে মিথ্যা কথা ও হাদীছ জালকরণের প্রবণতা আপনা হতেই খতম হয়ে যায়। কিন্তু শী‘আদের দলীয় আক্বীদা তাকিয়্যা (التقية) চাপ বা ক্ষতি এড়ানোর জন্য হক্ব গোপন করে, না হক্ব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার উপায়কে ‘তাকিয়্যা’ বলা হয়। শী‘আদের অন্যতম ধর্মীয় রুকন এই ‘তাকিয়্যা’।[7] যা তাদেরকে মুহুর্মুহু হাদীছ জালিয়াতিতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করে। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, তাদের মধ্যে মিথ্যা জালিয়াতির প্রচলন অত্যধিক। তা তারা নিজেরাও স্বীকার করে, তারা নিজেরাই বলে যে, ‘তাকিয়্যা’ আমাদের দ্বীন। তাকিয়্যা হচ্ছে, অন্তরে যা আছে, তার বিপরীত মুখে প্রকাশ করা। এটাই তো মিথ্যা ও নিফাক্ব।[8]
শী‘আদের বানোয়াট হাদীছ সম্পর্কে ইমাম ইবনু তায়মিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সেগুলো এমন সব হাদীছ, যার মাথা-মুণ্ড কিছুই নেই। এক্ষেত্রে শী‘আদের স্পর্ধা এত সীমা ছাড়িয়েছে যে, বহু হাদীছ তারা বুখারী, মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছে অথচ সেখানে সেগুলোর চিহ্নমাত্র নেই। তাদের রচিত কোন কোন হাদীছ সম্পর্কে ইমাম ইবনু তায়মিয়া রাহিমাহুল্লাহ-এর মন্তব্য হল, ইসলামী জাহানে হাদীছের যতগুলো সংকলন এ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে, তার কোনটিতেই সেগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করা যাবে না। কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কিত জ্ঞানের দৈন্যের কারণে এমনকি সাদামাটা পরিভাষাগুলোও তারা বুঝে উঠতে পারে না। কখনো আবার বুঝেশুনেও ভুল ব্যাখ্যা করে চালিয়ে দেয়। কথিত আছে যে, আল-মাহদী বিষয়ক হাদীছ শ্রবণের পর উমাইয়ারা এই মর্মে হাদীছ জাল করেছিল, যে যামানায় সুফইয়ানী আগমন করবে। সবচেয়ে চকমপ্রদ ঘটনা এই যে, শী‘আদের মাহদী বিষয়ক হাদীছের জবাবে একদল উমাইয়া যখন সুফিয়ানী বিষয়ক হাদীছ আবিষ্কার করল, তখন তাদেরকে টেক্কা দিয়ে শী‘আরাও এ মর্মে পাল্টা হাদীছ তৈরি করল যে, মাহদী আবির্ভূত হয়ে সুফিয়ানীর মুকাবিলা করবেন এবং মক্কা থেকে সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে সদলবলে তাকে নিঃশেষ করবেন। ১৩২ হিজরীতে, আববাসী-উমাইয়া সংঘর্ষ যখন তুঙ্গে, তখনকার ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে ইমাম তাবারী লিখেছেন, কিনসিরীন, হিমছ ও তাদমুর-এর অধিবাসীদের একটি বিরাট দল জড়ো হল আবু মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মু‘আবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে। অতঃপর আরো কয়েক হাযার লোক তাদের সাথে যোগ দিল। এবার অন্যান্য লোকেরাও তার নেতৃত্ব মেনে নিল। কেননা তাদের বুঝানো হল যে, ইনিই সেই প্রতীক্ষিত সুফিয়ানী। কিন্তু এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তিনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত হন এবং তার ছিন্ন মস্তক আবু জা‘ফর আল-মানছূরের কাছে উপহার স্বরূপ পাঠানো হয়।[9] আববাসীয়রা যখন দেখলো যে, শী‘আদের একজন মাহদী রয়েছেন, উমাইয়াদেরও রয়েছেন একজন সুফিয়ানী, তখন তারাও নিজেদের জন্য একজন মাহদী জোগাড় করার কাজে মনোনিবেশ করল। ফলে এই সুবাদে নতুন কিছু জাল হাদীছ আমদানী করা হল। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে তাবারানী রেওয়ায়েত করেছেন, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে বাম পাশে নিয়ে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনছার ও মুহাজিরদের একটি সমাবেশে বসেছিলেন।[10]
উপরের আলোচনায় ফুটে উঠেছে, জাল হাদীছ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং মুসলিম সমাজে তা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একদল অপর দলের উপর প্রাধান্য বিস্তার করার জন্য জাল হাদীছকে ধারালো অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, রাফেযী শী‘আরা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর ফযীলত বর্ণনার্থে অসংখ্য হাদীছ জাল করেছে। তিনি হাফেয আবুল আলা খলীলীর গ্রন্থ ‘আল-ইরশাদ’-এর বরাত দিয়ে আরো বলেন, শী‘আরা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু ও আহলে বায়তের ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে প্রায় তিন লক্ষ হাদীছ জাল করেছে।[11] হাফেয ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আহমাদ ইবনে আব্দুল যুয়েবারী, মুহাম্মাদ ইবনু আক্কাশ আল-কিরমানী ও মুহাম্মাদ ইবনু তামীম আল-ফারাবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে দশ হাযারেরও বেশী হাদীছ জাল করেছে।[12] ইয়াহ্ইয়া ইবনে মাঈন রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, শী‘আ জালিয়াত মু‘আল্লা আল-ওয়াসীত্বী মৃত্যুকালে আফসোস করে বলেন, আমি কি আশা করতে পারি যে, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন? আমি তো আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর মর্যাদা বর্ণনায় ৭০টি বা ৯০টি মিথ্যা হাদীছ রচনা করে প্রচার করেছি।[13] আবার কেউ কেউ নিজের দেশ, ভাষা, মাযহাব ও তরীকার পক্ষে জাল হাদীছ স্বাচ্ছন্দে লুফে নেয়। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাছিল, রাজণ্যবর্গের নৈকট্য লাভ, অভিনব তথ্য দিয়ে চমক সৃষ্টি প্রভৃতি উদ্দেশ্যেও হাদীছ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। কোন কোন উচ্ছ্বাসপ্রবণ ওয়াযকারী অদ্ভুত রহস্য সংবলিত কাহিনী হাদীছের মোড়কে জড়িয়ে বর্ণনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এভাবে কঠিন শাস্তির ভয় কিংবা বিরাট ছওয়াব লাভের লোভ দেখিয়েও কোন কোন সংসার বিরাগী দরবেশ বহু জাল হাদীছের প্রচলন ঘটায়। অসাবধানতা ও অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্যও কিছু জাল হাদীছ প্রসার লাভ করে, ছাহাবী বা তাবেঈনের উক্তি বলে চালিয়ে দেয়।[14]
সুধী পাঠক! ইসলাম বহির্ভূত বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী, কখনো ইসলামের নামে সৃষ্ট বিভিন্ন দল-উপদল, ফেরকবা, মতবাদ, তরীকা, মাযহাব নিজেদের মতের পক্ষে হাদীছ জাল করে তা মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সুবিধামত হাদীছ জাল করেছে। তথ্য সন্ত্রাসের বিভিন্ন রূপের মধ্যে হাদীছ জালকরণও একটি অন্যতম রূপ। কারণ সাধারণ মানুষের কোন কথার মূল্যায়ন মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথায় ন্যায় গুরুত্ববহ নয়। মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা সরাসরি শরী‘আত হিসাবে পরিগণিত হয়। বিধায় কোন বিষয়কে সকল মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হলে মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম ব্যবহার করা ছাড়া সুফল পাওয়া যাবে না। তাই তারা এহেন নোংরা পথ গ্রহণ করতে কৃপণতা করেনি। ইয়াহূদী-খ্রীস্টান সহ সকল মুসলিম বিদ্বেষী সুযোগ বুঝে জাল হাদীছ তৈরি করেছে। কখনো কখনো তারা জাল হাদীছ তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাদের নিজস্ব তথ্যকে মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া তথ্য বলে চালিয়ে দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হল, গোটা দুনিয়ায় ইসলামকে সন্দেহযুক্ত ধর্ম হিসাবে প্রমাণ করা। শত-সহস্র জাল হাদীছ মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে দিয়ে তারা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখনিঃসৃত পবিত্র হাদীছকে কালিমাযুক্ত করে হাদীছের পবিত্রতা ও মর্যাদাকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। তারা হাদীছের প্রতি প্রত্যেক মুসলিমের অগাধ শ্রদ্ধা ও সেই বিধান মেনে নেয়ার অতুলনীয় দৃষ্টান্তকে চিরতরে কবর দিতে চেয়েছে। তারা ভেবেছে হাদীছের মধ্যে সন্দেহ ঢুকাতে পারলেই মানুষ হাদীছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু যুগে যুগে হক্বপন্থী হাদীছ বিজ্ঞানী ওলামায়ে কেরামের অক্লান্ত সাধনায় তাদের রচিত জাল হাদীছগুলো চিহ্নিত করে তা ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়েছে। ওলামায়ে দ্বীন জাল হাদীছের বই লিখে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন। আর সেটা কেনইবা হবে না, আল্লাহ তো শরী‘আত রক্ষার দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ ‘নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমি নিজেই এর হিফাযতকারী’ (আল-হিজর, ১৫/৯)।
তবে জাল হাদীছের কুপ্রভাব ব্যাপকভাবে মুসলিম সমাজে রয়ে গেছে। জাল হাদীছের কারণে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সমাজে এসেছে বিভক্তি ও মাসআলা গ্রহণে নানান মতপার্থক্য আর মাযহাবী দলাদলি। অবশ্য মহান রববুল আলামীন তার খাছ রহমতে অনেককে তা থেকে হেফাযত করেছেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কথা বলেননি, সে কথা তার নাম দিয়ে বর্ণনা করার চেয়ে জঘন্য অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। যদিও তা একটি কথাও হয়। এর পরিণাম সরাসরি জাহান্নাম। কেননা নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কর্ম সকল মুসলিম ব্যক্তির জন্য অবশ্য পালনীয়। তাই তার নামে মিথ্যা কথা রচনাকারীর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি জাহান্নাম বলা হয়েছে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَلِّغُوْا عَنِّىْ وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوْا عَنْ بَنِىْ إِسْرَائِيْلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘একটি আয়াত হলেও তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও আর বানী ইসরাঈলের কাহিনীও বর্ণনা কর, তাতে সমস্যা নেই। তবে আমার প্রতি কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করে, তাহলে সে যেন তার স্থান জাহান্নাম বানিয়ে নেয়’।[15] অপর এক হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِى قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَدِيْثِ عَنِّىْ فَمَنْ قَالَ عَلَىَّ فَلْيَقُلْ حَقًّا أَوْ صِدْقًا وَمَنْ تَقَوَّلَ عَلَىَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ.
ক্বাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, ‘তোমরা আমার পক্ষ থেকে বেশী বেশী হাদীছ বর্ণনা করা থেকে সাবধান থেকো! কেউ যদি আমার সম্পর্কে কিছু বলতে চায়, তাহলে সে যেন সত্য কথা বলে, অন্যথা কেউ যদি আমার সম্পর্কে এমন কোন কথা বলে, যা আমি বলিনি, তাহলে সে যেন তার স্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়’।[16]
উক্ত হাদীছদ্বয় দ্বারা প্রথমত প্রমাণিত হয় যে, মিথ্যা বা জাল হাদীছ বর্ণনা করলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর মিথ্যারোপ করা হবে। দ্বিতীয়ত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে হাদীছ বর্ণনা করার পূর্বে সর্বাগ্রে দায়িত্ব হল সেটা তার কথা কি-না, হাদীছটি ছহীহ কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া। তার নামে কেউ কোন কথা যেন রচনা না করে, তাই এই সাবধানতা। তার নামে প্রচারিত কথা নিশ্চিত না হয়ে প্রচারকারীকে মিথ্যুক বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাই ছহীহ হাদীছের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাসের কবল থেকে আল্লাহ ত‘আলা মুসলিম জাতিকে হেফাযত করুন- আমীন!
মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম
[1]. ইবনে আররাক, তানযীহুশ শরী‘আহ, তাহক্বীক্ব : আব্দুল ওয়াহহাব আব্দুল লতীফ ও আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ছিদ্দীক, (বৈরুত, লেবানন : দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়াহ, ১৪০১ হিঃ-১৯৮৯ খ্রিঃ), ১/১১ পৃঃ; মূল: আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী আযীয, যঈফ ও মওযূ‘ হাদীছের সংকলন, (ঢাকা : আর আই এস পাবলিকেশন্স, নভেম্বর-২০০০), ১/৪৭-৪৮ পৃঃ।
[2]. ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ গবেষণা পত্রিকা, পৃঃ ৩৭।
[3]. প্রাগুক্ত, পৃঃ ৩৭-৩৮।
[4]. যঈফ ও মওযূ‘ হাদীছ সংকলন, পৃঃ ৪৮।
[5]. ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ গবেষণা পত্রিকা, পৃঃ ৩৮।
[6]. ইবনে তায়মিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, (মদীনা : সঊদী আরব তাবি), ১/৩০৬-৩০৮ পৃঃ।
[7]. সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ১/৪২২ পৃঃ।
[8]. মিনহাজুস সুন্নাহ, ১/৬৮ পৃঃ।
[9]. মূলঃ ড. আহমাদ আমীন, অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের মেছবাহ, যুহাল ইসলাম (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১ম প্রকাশ: মার্চ, ২০০৪ ইং), ৩/২১৭-২১৮ পৃঃ।
[10]. যুহাল ইসলাম, ৩/২১৮ পৃঃ ।
[11]. মাসিক মদীনা, অক্টোবর, ২০০০, পৃঃ ১৩।
[12]. প্রাগুক্ত।
[13]. ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ গবেষণা পত্রিকা, পৃঃ ৩৯।
[14]. প্রাগুক্ত, পৃঃ ৩৯-৪০।
[15]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১, ‘নবীদের ঘটনাবলী’ অধ্যায়; মিশকাত, হা/১৯৮, পৃঃ ৩২, ‘ইলম’ অধ্যায়; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬।
[16]. ইবনে মাজাহ, হা/৩৫, ৩৬, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৭৫৩, ৪/৩৪৬ পৃঃ।
