চার ইমামের আক্বীদা এক : সম্মানিত পাঠক! গত পর্বে আমরা দেখে এসেছি, কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলা এবং সে পথে দাওয়াত দেওয়াই ছিল প্রসিদ্ধ চার ইমাম সহ সর্বযুগের সকল মুহাক্কিক্ব উলামায়ে কেরামের জীবনের একমাত্র ব্রতী। যাদের অবস্থা এমন, তাদের আক্বীদাও যে এমনিতেই এক হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কুরআন-সুন্নাহ যে আক্বীদার কথা বলেছে, ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, আতবাউত তাবেঈন যে আক্বীদা লালন করেছেন, তারই মূর্তপ্রতীক ছিলেন ঈমান চতুষ্টয়। একটা একটা করে চার ইমামের সকল আক্বীদা বিশ্লেষণ করলে একথাই প্রমাণিত হবে। ঈমানের একটা/দুইটা মাসআলা ছাড়া তাদের মধ্যে আক্বীদার আর কোন ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় না। চলুন, দেখে আসি উলামায়ে কেরাম চার ইমামের আক্বীদার ব্যাপারে কী বলেন?
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَلَكِنْ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ بِعِبَادِهِ الْمُسْلِمِينَ أَنَّ الْأَئِمَّةَ الَّذِينَ لَهُمْ فِي الْأُمَّةِ لِسَانُ صِدْقٍ مِثْلَ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ وَغَيْرِهِمْ...كَانُوا يُنْكِرُونَ عَلَى أَهْل الْكَلَامِ مِنْ الْجَهْمِيَّة قَوْلَهُمْ فِي الْقُرْآنِ وَالْإِيمَانِ وَصِفَاتِ الرَّبِّ وَكَانُوا مُتَّفِقِينَ عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ السَّلَفُ مِنْ أَنَّ اللَّهَ يُرَى فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ الْقُرْآنَ كَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ وَأَنَّ الْإِيمَانَ لَا بُدَّ فِيهِ مِنْ تَصْدِيقِ الْقَلْبِ وَاللِّسَانِ
‘তবে মুসলিম বান্দাদের প্রতি আল্লাহ্র রহমত হচ্ছে, চার ইমামের মত উম্মতের মধ্যে যেসব ইমামের সুনাম-সুখ্যাতি আছে, তারা জাহমিয়্যাহ গোছের আহলে কালামদের[1] প্রতিবাদ করে থাকেন; যারা কুরআন, ঈমান ও আল্লাহ্র গুণাবলির ব্যাপারে নিজেদের মনগড়া মতামত প্রকাশ করে। তারা (প্রসিদ্ধ ইমামগণ) সালাফের নীতির সাথে একমত ছিলেন যে, আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে। কুরআন আল্লাহ্র সৃষ্ট নয়; বরং আল্লাহ্র কালাম। ঈমানে অবশ্যই মন ও মুখের সত্যায়ন লাগবেই...’।[2] তিনি আরো বলেন,
أَنَّ الْأَئِمَّةَ الْمَشْهُورِينَ كُلَّهُمْ يُثْبِتُونَ الصِّفَاتِ لِلَّهِ تَعَالَى، وَيَقُولُونَ: إِنَّ الْقُرْآنَ كَلَامُ اللَّهِ لَيْسَ بِمَخْلُوقٍ، وَيَقُولُونَ: إِنَّ اللَّهَ يُرَى فِي الْآخِرَةِ. هَذَا مَذْهَبُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ وَغَيْرِهِمْ، وَهَذَا مَذْهَبُ الْأَئِمَّةِ الْمَتْبُوعِينَ مِثْلِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالثَّوْرِيِّ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَالْأَوْزَاعِيِّ، وَأَبِي حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيِّ، وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ
‘প্রসিদ্ধ ইমামগণের সবাই আল্লাহ্র গুণাবলিকে সাব্যস্ত করে থাকেন। তারা বলেন, কুরআন আল্লাহ্র কালাম; সেটি সৃষ্ট নয়। তারা আরো বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে। নবীপরিবার, অন্য ছাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের যোগ্য অনুসারীগণের মাযহাব এটাই। ইমাম মালেক, ছাওরী, লাইছ ইবনে সা‘দ, আওযাঈ, আবু হানীফা, শাফেঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রমুখের মত অনুসরণীয় ইমামগণের মাযহাবও এটাই’।[3]
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ-কে ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ، اعْتِقَادُ الشَّافِعِيِّ وَاعْتِقَادُ سَلَفِ الْإِسْلَامِ كَمَالِكِ وَالثَّوْرِيِّ وَالْأَوْزَاعِي وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَد بْنِ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْه؛ وَهُوَ اعْتِقَادُ الْمَشَايِخِ الْمُقْتَدَى بِهِمْ كالْفُضَيْل بْنِ عِيَاضٍ وَأَبِي سُلَيْمَانَ الداراني وَسَهْلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التستري وَغَيْرِهِمْ. فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَ هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّةِ وَأَمْثَالِهِمْ نِزَاعٌ فِي أُصُولِ الدِّينِ. وَكَذَلِكَ أَبُو حَنِيفَةَ فَإِنَّ الِاعْتِقَادَ الثَّابِتَ عَنْهُ فِي التَّوْحِيدِ وَالْقَدَرِ وَنَحْوِ ذَلِكَ مُوَافِقٌ لِاعْتِقَادِ هَؤُلَاءِ وَاعْتِقَادُ هَؤُلَاءِ هُوَ مَا كَانَ عَلَيْهِ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانِ وَهُوَ مَا نَطَقَ بِهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ.
‘আলহামদুলিল্লাহ। শাফেঈর আক্বীদা এবং মালেক, ছাওরী, আওযাঈ, ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ্র মত সালাফের আক্বীদা একই। অনুসরণীয় শায়খ-মাশায়েখের আক্বীদাও সেটাই, যেমন: ফুযাইল ইবনে আয়ায, আবু সুলায়মান দারানী, সাহ্ল ইবনে আব্দুল্লাহ তুসতুরী প্রমুখ। উছূলুদ দীনের (আক্বীদার) ব্যাপারে এ সকল ইমাম ও তাদের মত অন্যান্য ইমামের মধ্যে কোন দ্বন্দ্বই নেই। অনুরূপভাবে আবু হানীফাও। কেননা তাওহীদ, তাক্বদীর ইত্যাদি বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রমাণিত আক্বীদা ঐসকল ইমামের আক্বীদার সাথে মিলে যায়। আর ঐসকল ইমামের আক্বীদা তা-ই, যার উপর ছিলেন ছাহাবায়ে কেরাম ও তাদের যোগ্য অনুসারীগণ এবং সেটাই কিতাব-সুন্নাহ্র বক্তব্য’।[4]
নবীব ছিদ্দীক্ব হাসান খাঁন ভূপালী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
فَمَذْهَبُنَا مَذْهَبُ السَّلَفِ: إِثْبَاتٌ بِلَا تَشْبِيْهٍ، وَتَنْزِيْهٌ بِلَا تَعْطِيْلٍ، وَهُوَ مَذْهَبُ أَئِمَّةِ الْإِسْلَامِ، كَمَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَالثَّوْرِيِّ وَالْأَوْزَاعِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالْإِمَامِ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ بِنْ رَاهَوَيْهْ وَهُوَ اعْتِقَادُ الْمَشَايِخِ الْمُقْتَدٰى بِهِمْ، كَالْفُضَيْلِ بْنِ عَيَاضٍ وَأَبِيْ سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيِّ وَسَهْلِ بْنِ عَبْدِ اللهِ التُّسْتُرِيِّ، وَغَيْرِهِمْ. فَإِنَّه لَيْسَ بَيْنَ هٰؤُلَاءِ الْأَئِمَّةِ نِزَاعٌ فِيْ أُصُوْلِ الدِّيْنِ، وَكَذٰلِكَ أَبُوْ حَنِيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، فَإِنَّ الْاِعْتِقَادَ الثَّابِتَ عَنْهُ، مُوَافِقٌ لِاعْتِقَادِ هٰؤُلَاءِ، وَهُوَ الَّذِيْ نَطَقَ بِهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ.
‘সালাফের মাযহাবই হচ্ছে আমাদের মাযহাব, তা হচ্ছে- আল্লাহ্র গুণাবলিকে সাব্যস্ত করতে হবে, তবে কারো সাথে তুলনা করা বা সাদৃশ্য দেওয়া যাবে না। সেগুলোকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে হবে, তবে অকেজো বা অর্থহীন গণ্য করা যাবে না। ইসলামের ইমাম মালেক, শাফেঈ, ছাওরী, আওযাঈ, ইবনুল মুবারক, ইমাম আহমাদ, ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ্র-এর মাযহাবও তাই। অনুসরণীয় শায়খ-মাশায়েখ ফুযাইল ইবনে আয়ায, আবু সুলায়মান দারানী, সাহ্ল ইবনে আব্দুল্লাহ তুসতুরী প্রমুখের আক্বীদাও সেটাই। উছূলুদ দীনের (আক্বীদার) ব্যাপারে এ সকল ইমামের মধ্যে কোন দ্বন্দ্বই নেই। অনুরূপভাবে আবু হানীফাও। কেননা তার পক্ষ থেকে প্রমাণিত আক্বীদা ঐসকল ইমামের আক্বীদার সাথে মিলে যায়। আর ঐসকল ইমামের আক্বীদা তা-ই, যার উপর ছিলেন ছাহাবায়ে কেরাম ও তাদের যোগ্য অনুসারীগণ এবং সেটাই কিতাব-সুন্নাহ্র বক্তব্য’।[5]
বর্তমান বিশ্বের প্রথিতযশা আলেম ও মুহাদ্দিছ আল্লামা আব্দুল মুহসিন আল-আববাদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন,
مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ السُّنَّةِ الْإِمَامُ أَبُوْ حَنِيْفَةَ وَالْإِمَامُ مَالِكٌ وَالْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ وَالْإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلَ رَحِمُهُمُ اللهُ، وَعَقِيْدُتُهُمْ هِيَ عَقِيْدَةُ السَّلَفِ مِنَ الصَّحَابَةِ وَمَنْ سَارَ عَلٰى نَهْجِهِمْ.
‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমামগণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুমুল্লাহ। তাদের আক্বীদাই হচ্ছে ছাহাবায়ে কেরাম ও তাদের পথের পথিকদের আক্বীদা’।[6]
শায়খ আব্দুল্লাহ আব্দুল হামীদ আছারী হাফিযাহুল্লাহ সালাফে ছালেহীনের আক্বীদা সম্বলিত একটি বই রচনা করেন এবং উপসংহারে এসে তিনি বলেন,
فَهِيَ عَقِيْدَةُ السَّلَفِ الصَّالِحِ، وَالْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ، وَالطَّائِفَةِ الْمَنْصُوْرَةِ وَأَهْلِ الْحَدِيْثِ، وَأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ؛ وَهِيَ عَقِيْدَةُ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ أَصْحَابِ الْمَذَاهِبِ الْمُتَّبَعَةِ، وَعَقِيْدَةُ جُمْهُوْرِ الْفُقَهَاءِ، وَالْمُحَدِّثِيْنَ، وَالْعُلَمَاءِ الْعَامِلِيْنَ، وَمَنْ سَارَ عَلٰى نَهْجِهِمْ إِلٰى يَوْمِنَا هٰذَا، وَالْأَمْرُ بَاقٍ إِلٰى يَوْمِ الدِّيْنِ.
‘এগুলোই হচ্ছে সালাফে ছালেহীন, ফিরক্বা নাজিয়াহ, ত্বয়েফাহ মানছূরাহ, আহলেহাদীছ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা। এগুলোই অনুসরণীয় মাযহাব সমূহের চার ইমামের আক্বীদা। এগুলোই অধিকাংশ ফক্বীহ, মুহাদ্দিছ, আমলদার আলেম এবং আজ পর্যন্ত তাদের পথের পথিকদের আক্বীদা। আর বিষয়টি ক্বিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই থাকবে’।[7]
সম্মানিত পাঠক! বিখ্যাত চার ইমামের আক্বীদাই যে কুরআন-সুন্নাহ্র নির্দেশিত আক্বীদা; ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনের আক্বীদা এবং তাদের সবার আক্বীদাই যে এক, তা প্রমাণের জন্য উলামায়ে কেরামের আরো বক্তব্য পেশ করে লেখার কলেবরও বাড়াতে চাই না, আপনার ধৈর্যচ্যুতিও ঘটাতে চাই না। যতটুকু বলেছি, ততটুকুই যথেষ্ট মনে করি। তবে প্রসঙ্গক্রমে শেষের বক্তব্যটি থেকে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আপনাকে দিতে চাই, যা আমি আমার একাধিক লেখনী ও বক্তব্যে বলে থাকি। আর তা হচ্ছে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগত নামে অভিহিত হয়েছে। যেমন: আল-জামা‘আহ, আত-ত্বয়েফাহ আল-মানছূরাহ, আল-ফেরক্বাহ আন-নাজিয়াহ, আহলুল হাদীছ/আহলেহাদীছ, আছহাবুল হাদীছ, আহলুল আছার, সুন্নী, সালাফী ইত্যাদি। এসবগুলো নামেই তারা পরিচিত- যেমনটি শায়খ আব্দুল্লাহ আছারীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। উলামায়ে কেরামের এমন বক্তব্যের অভাব নেই।
এই ব্যাপক অর্থে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের প্রকৃত অনুসারীদের উপরও এসব নাম প্রযোজ্য হবে। কারণ ইমাম চতুষ্টয় আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমাম ছিলেন। তবে প্রসিদ্ধ চার ইমামের কোন অনুসারী যদি তার ইমামের আক্বীদা গ্রহণ না করে ভ্রান্ত ভিন্ন কোন আক্বীদা গ্রহণ করে, তাহলে তার হিসাব ভিন্ন। এসব নামের বেলায় বেশীরভাগ মানুষ বিপরীতমুখী দু’টি অবস্থান গ্রহণ করেছে:
(ক) এক শ্রেণীর মানুষ নিজেদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত দাবী করা সত্ত্বেও উপর্যুক্ত কোন কোন নামের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ করছে, সেগুলো সম্পর্কে বিষোদগার করছে, কটূক্তি করছে এবং নিজেদের ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগকে অস্বীকার করছে। কেউ কেউ আরো আগ বাড়িয়ে বর্তমান আধুনিক বিভিন্ন মিডিয়ায় এসবের মধ্যে কোন কোন নাম নিয়ে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিচ্ছে, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করছে। এটা আসলে নিজের গালে নিজেই থাপ্পড় দেওয়ার শামিল। কারণ, যে নিজেকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত দাবী করে, সে নিজেকে আহলেহাদীছ, আছহাবুল হাদীছ, সুন্নী ইত্যাদি পরিচয় দিতেও বাধ্য। কেননা, এগুলো বিপরীতমুখী পরিভাষা নয়; বরং সমার্থক পরিভাষা, যেগুলো একই আদর্শ ও আক্বীদার মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং আপনি যদি নিজকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অনুগামী মনে করেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই আহলেহাদীছের অনুগামীও মনে করতে হবে। বৈশিষ্ট্যগত অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য।
(খ) কেউ আবার সেগুলোকে গুটিকয়েক মানুষ নিয়ে গঠিত কোন দল, সংগঠন, মাযহাব বা জামা‘আতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার অপচেষ্টা করছে। কেউ আবার জন্মসূত্রিতার সাথে এর সম্পর্ক জুড়ার তালে ব্যস্ত। মূলত সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এই দুই পক্ষ উল্লেখিত পরিভাষাগুলো অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। আর তা না হলে কোন হীন উদ্দেশ্যে তারা সেগুলো না বুঝার ভান করেছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে অনুধাবনের তাওফীক্ব দান করুন।
(চলবে)
[1]. আক্বীদা প্রমাণের ক্ষেত্রে যারা নিজেদের মস্তিষ্কের উপর নির্ভর করে, তারাই আহলে কালাম। তারা বলে, মস্তিষ্ক আল্লাহ্র যেসব গুণ সাব্যস্ত করে, সেগুলোই সাব্যস্ত। আর যেগুলো সাব্যস্ত করে না, সেগুলো সাব্যস্ত নয়।
[2]. মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ, ৭/৪০২-৪০৩।
[3]. মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাক্বযি কালামিশ শী‘আতিল ক্বদারিয়্যাহ, ২/১০৬।
[4]. মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ, ৫/২৫৬।
[5]. ক্বতফুছ ছামার ফী বায়ানি আক্বীদাতি আহলিল আছার, পৃঃ ৫২-৫৩।
[6]. ক্বতফুছ জানা আদ-দানী শারহু মুক্বাদ্দিমাতি রিসাতি ইবনি আবী যায়েদ আল-ক্বায়রাওয়ানী, পৃঃ ৩৬।
[7]. আল-ওয়াজীয ফী আক্বীদাতিস সালাফিছ ছালেহ, পৃঃ ২৩১।
