ইসলামের ইতিহাসে মুহাররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে অশেষ মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। প্রাক ইসলামী যুগেও মুহাররমের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিদ্যমান ছিল। অফুরন্ত বরকত ও তাৎপর্যমণ্ডিত মুহাররম মাসে বহু নবী-রাসূল ঈমানের কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে মুক্তি ও নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। রামাযান মাসের ছিয়াম ফরয হওয়ার আগে পবিত্র আশূরার দিনে ছিয়াম রাখা ফরয ছিল। পরে তা রহিত করে মাহে রামাযানের ছিয়াম ফরয করা হয়। ইসলামপূর্বকালে বিভিন্ন জাতি নানা কারণে আশূরার দিন ছিয়াম রাখত। মুহাররম আরবী বছরের প্রথম মাস। বছরে মাসের সংখ্যা ও গণনা সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে কারীমে বলেন,
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহ্র বিধানে আল্লাহ্র নিকট মাস গণনায় বারোটি মাস, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এগুলোর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি যুলুম কর না এবং তোমরা মুশরিকদের সাথে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করবে, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে থাকে এবং জেনে রাখো, আল্লাহ তো মুত্তাক্বীদের সঙ্গে আছেন’ (তওবাহ, ৩৬)। হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ رضى الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا، أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ، ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ.
আবু বাকরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যেদিন আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন যামানা যেরূপ ছিল, তা চক্রাকারে ঘুরে আবার সেস্থানে এসে পৌঁছেছে। বছরে বারো মাস। এর মধ্যে চার মাস হারাম (পবিত্র), তন্মধ্যে পর পর তিন মাস হল, যুলক্বা‘দা, যুলহিজ্জা ও মুহাররম, আর মুযার গোত্রের রজব মাস, যা জমাদিউছ ছানী ও শা‘বানের মাঝখানে অবস্থিত’।[1]
আশূরা কী?
আশূরা শব্দটির বিশ্লেষণ নিয়ে ভাষাবিদগণ বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। অধিকাংশের নিকট মুহাররম মাসের দশম তারিখই হল আশূরার দিন। এটা আরবী শব্দ আশারা (عشر) হতে নির্গত, যার অর্থ দশ। অতএব, মুহাররম মাসের দশম তারিখে ছিয়াম রাখার নামই হল আশূরার ছিয়াম।[2]
আশূরার প্রেক্ষাপট :
পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের পেক্ষাপটে আশূরার প্রকৃত ঘটনা মূসা আলাইহিস সালাম ও বনী ইসরাঈলের মুক্তি বা বিজয়ের মধ্যেই নিহিত এবং সীমাবদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে উক্ত বিজয়ের পূর্বাপর বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরশাদ করেন,
إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَاءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ - وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ - وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُمْ مَا كَانُوا يَحْذَرُونَ
‘ফেরাউন পরাক্রমশালী হয়েছিল এবং সেখানকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে তাদের একটি শ্রেণীকে সে হীনবল করেছিল; তাদের পুত্রদেরকে সে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। সে তো ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। আমি ইচ্ছা করলাম, সে দেশে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতৃত্ব দান করতে ও উত্তরাধিকারী করতে এবং তাদেরকে দেশে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে আর ফেরাউন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে যা তারা তাদের নিকট থেকে আশঙ্কা করত’ (ক্বাছাছ, ৪-৬)।
ফেরাউন যখন জ্যোতিষী মারফত তার স্বপ্নের ব্যাখ্যায় জানতে পেরেছিল যে, বনী ইসরাঈল হতে এমন একজন মহান পুরুষ জন্মগ্রহণ করবেন, যিনি তার প্রভুত্বের যবনিকাপাত ও সাম্রাজ্যের অবসান ঘটাবেন। যার ফলে ফেরাউন পবিত্র কুরআনে বর্ণিত উপর্যুক্ত বর্বরতায় ঝাপিয়ে পড়েছিল। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও তাফসীরে সে বিষয়ে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এহেন প্রতিকূলতার মধ্যে সেই মহামানবের জন্ম হয়। তাই আল্লাহ তা‘আলা মূসা আলাইহিস সালাম এর শৈশব, যৌবন ও তার প্রতিপালন এবং উত্থান সম্পর্কে সূরা ক্বাছাছে ধারাবাহিক বর্ণনা দিতে গিয়ে ফেরাউনের পতন সম্পর্কে উক্ত সূরার ৩৯ ও ৪০ নং আয়াতে ইরশাদ করেন,
وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ - فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ
‘ফেরাউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহঙ্কার করেছিল এবং তারা মনে করেছিল যে, তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না। অতএব আমি তাকে ও তার বাহিনীকে ধরলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। দেখ, যালিমদের পরিণাম কী হয়ে থাকে’ (ক্বাছাছ, ৩৯-৪০)।
আল্লাহ তা‘আলা এখানে ফেরাউনের পতন তথা বনী ইসরাঈলের উত্থান প্রসঙ্গে আলোকপাত করেছেন। আর এই যে বিজয়, এই দিনটিই ছিল ‘ইয়াওমে আশূরা’ বা ১০ই মুহাররম। আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলদের লক্ষ্য করে উক্ত বিজয় স্মরণ করিয়ে দিতে ইরশাদ করেন,
وَ اِذْ فَرَقْنَا بِکُمُ الْبَحْرَ فَاَنْجَیْنٰکُمْ وَ اَغْرَقْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ وَ اَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ
‘আর যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে (সেখান থেকে) উদ্ধার করেছিলাম। আর ফেরাউনের স্বজনবৃন্দকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম এমতাবস্থায় তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে’ (বাক্বারাহ, ৫০)।
বিজয়ের অপূর্ব আনন্দ বনী ইসরাঈল উপভোগ করেছিল। স্বাধীনতার কী রকম সুখ ও পরম তৃপ্তি তারা সেদিন অনুধাবন করতে পেরেছিল। এই মহা আনন্দের দিনেও মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করেন এবং পরবর্তীতে এই মহান বিজয়ের স্মরণে তিনি আশূরার ছিয়াম পালন করতেন। আর এই ধারাবাহিকতায় বিশ্বনবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিয়াম পালন করতেন।[3]
আশূরায়ে মুহাররামে করণীয় :
আশূরায়ে মুহাররম সম্পর্কে আমরা পরিচিত হলাম। এখন জানা দরকার কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে আমাদের করণীয় কী? বিভিন্ন মিডিয়া ও মুসলিম বিশ্বের বাস্তব অবস্থার প্রতি নযর দিলে দেখা যায়, এ ব্যাপারে মানুষ চার ভাগে বিভক্ত : (১) চরমপন্থী শী‘আ সম্প্রদায়, যাদের কাছে এ দিনটি অন্যভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত তাদের ঐসব কর্মকাণ্ড মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনে ভিত্তিহীন। (২) যারা এদিন সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে গাফেল উদাসীন। (৩) যারা এদিনকে কিছুটা গুরুত্বব দেয়, তবে সীমা অতিক্রম করে মীলাদ-মাহফিল, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি কর্মে লিপ্ত হয়ে থাকে। (৪) যারা আল-কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে এ দিনটি যথাযথ মূল্যায়ন করে থাকেন। এটাই হল হক্ব। এটাই প্রতিটি উম্মতে মুহাম্মাদীর করা উচিত। কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে অন্য মাস বা দিনের ন্যায় ১০ই মুহাররামে একই ইবাদত রয়েছে, তবে এদিনের বিশেষ ইবাদত হল ছিয়াম রাখা।
আশূরার ছিয়ামের গুরুত্ব :
আশূরার ছিয়াম একটি বড় ফযীলতপূর্ণ ছিয়াম। এর ফযীলত সম্পর্কিত অনেক হাদীছ আছে। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করে ইয়াহূদীদেরকে আশূরার দিন ছিয়াম রাখতে দেখে প্রশ্ন করলেন, এটি কিসের ছিয়াম? তারা উত্তরে বলল,
هَذَا الْيَوْمُ الَّذِىْ أَظْهَرَ اللهُ فِيْهِ مُوْسَى وَبَنِىْ إِسْرَائِيْلَ عَلَى فِرْعَوْنَ فَنَحْنُ نَصُوْمُهُ تَعْظِيْمًا لَهُ فَقَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ أَوْلَى بِمُوْسَى مِنْكُمْ فَأَمَرَ بِصَوْمِهِ.
‘এটি একটি মহান দিন। এই দিনে আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর ক্বওমকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার লোকদের ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। ফলে মূসা আলাইহিস সালাম এই দিনে আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করে ছিয়াম রেখেছিলেন, তাই আমরাও এই দিন ছিয়াম রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, نَحْنُ أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ ‘তোমাদের চাইতে আমরাই মূসা আলাইহিস সালাম-এর (আদর্শের) অধিক হক্বদার ও অধিক দাবীদার। অতঃপর তিনি ছিয়াম রাখেন ও সকলকে রাখতে বলেন’।[4]
মু‘আবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাযিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে নববীতখুৎবাদানকালে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, هَذَا يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ وَلَمْ يُكْتَبْ عَلَيْكُمْ صِيَامُهُ وَأَنَا صَائِمٌ فَمَنْ شَاءَ فَلْيَصُمْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُفْطِرْ ‘আজ আশূরার দিন। এ দিনের ছিয়াম তোমাদের উপর ফরয করা হয়নি। তবে আমি ছিয়াম রেখেছি। এক্ষণে তোমাদের মধ্যে যে ইচ্ছা ছিয়াম পালন করুক, যে ইচ্ছা পরিত্যাগ করুক’।[5]
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - وَسُئِلَ عَنْ صِيَامِ، يَوْمِ عَاشُورَاءَ . فَقَالَ مَا عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَامَ يَوْمًا يَطْلُبُ فَضْلَهُ عَلَى الأَيَّامِ إِلاَّ هَذَا الْيَوْمَ وَلاَ شَهْرًا إِلاَّ هَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي رَمَضَانَ .
উবায়দুল্লাহ ইবনু আবু ইয়াযীদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে আশূরার দিনে ছওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ দিন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিনকে অন্য দিনের তুলনায় উত্তম মনে করে সেদিনে ছওম পালন করেছেন বলে আমার জানা নেই। অনুরূপভাবে রামাযান ব্যতীত রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাসকে অন্য মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করে ছওম পালন করেছেন বলেও আমার জানা নেই।[6]
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ تَصُوْمُهُ قُرَيْشٌ فِى الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِيْنَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ تَرَكَ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ.
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, জাহেলী যুগে কুরাইশরা আশূরার ছিয়াম পালন করত। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা পালন করতেন। মদীনায় হিজরতের পরেও তিনি পালন করেছেন এবং লোকদেরকে তা পালন করতে বলেছেন। কিন্তু (২য় হিজরী সনে) যখন রামাযান মাসের ছিয়াম ফরয হল, তখন তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছা কর আশূরার ছিয়াম পালন কর এবং যে ব্যক্তি ইচ্ছা কর তা পরিত্যাগ কর’।[7]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِيْنَةَ، فَرَأَى الْيَهُوْدَ تَصُوْمُ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قَالُوْا: هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّـى اللَّهُ بَنِيْ اِسْرَائِيْلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ، فَصَامَهُ مُوْسَى. قَالَ: فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوْسَى مِنْكُمْ. فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ.
ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহূদীরা আশূরার দিনে ছওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে ছওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা আলাইহিস সালাম ছওম পালন করেন। আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে ছওম পালন করেন এবং ছওম পালনের নির্দেশ দেন।[8]
আশূরার ছিয়ামের গুরুত্ব সম্পর্কে আরো বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ أَنْ أَذِّنْ فِي النَّاسِ أَنَّ مَنْ كَانَ أَكَلَ فَلْيَصُمْ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ أَكَلَ فَلْيَصُمْ، فَإِنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ.
সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন যে, ‘যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে ছওম পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন ছওম পালন করে। কেননা আজকের দিন ‘আশূরার দিন’।[9]
عَنْ أَبِيْ مُوْسَى رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ تَعُدُّهُ الْيَهُوْدُ عِيْدًا، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَصُوْمُوْهُ أَنْتُمْ.
আবূ মূসা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আশূরার দিনকে ইয়াহূদীরা ঈদ (উৎসবের দিন) মনে করত। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ছাহাবীগণকে) বললেন, ‘তোমরাও এ দিনের ছওম পালন কর’।[10]
আশূরার ছিয়ামের সংখ্যা :
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما يَقُولُ حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ. قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশূরার ছিয়াম পালন করলেন এবং ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইয়াহূদী ও নাছারারা এই দিনটিকে (১০ই মুহাররম) সম্মান করে। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আগামী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ৯ই মুহাররমসহ ছিয়াম রখব’। রাবী বলেন, কিন্তু পরের বছর মুহাররম আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়।[11]
অতএব দশম তারিখের আগে একদিন অথবা পরে একদিন যোগ করে দু’দিন ছিয়াম রাখাই উত্তম। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আশূরার ছিয়াম রাখ, ইয়াহূদ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধাচরণ কর এবং দশম তারিখের আগে একদিন অথবা পরে একদিন মিলিয়ে ছিয়াম রাখ’।[12]
আশূরায়ে মুহাররমে বর্জনীয় :
(১) আশূরায়ে মুহাররমকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে অনেকেই অনেক রকম কর্মসূচী গ্রহণ করে থাকে। কেউ এ দিনটিকে হিজরী বর্ষের প্রথম মাস হিসাবে আনন্দ উৎসব করে থাকে। মোরগ, খাশী জবাই করে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব সহকারে আনন্দ উল্লাসে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে। এ দিনে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করে এবং এর কারণে সারা বছর সচ্ছল থাকা যাবে বলে ধারণা রাখে। এ সম্পর্কিত অশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীছটি হল,
مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ فِي سَائِرِ سَنَتِهِ যে ব্যক্তি আশূরার দিনে তার পরিবারের লোকদের জন্য সচ্ছলতার (ভাল খাবার) ব্যবস্থা করবে, আল্লাহ সারা বছর তাকে সচ্ছল রাখবেন’।[13]
(২) ভাল ও নতুন পোশাক পরিধান করে এবং বিশ্বাস করে যে, বছরের প্রথম মাসে এরূপ করতে পারলে পূর্ণ বছরই তাদের আনন্দে কাটবে।
(৩) শী‘আ সম্প্রদায় এবং কিছু সুন্নী মুসলিমও তাদের সংস্পর্শে থেকে এ দিনটিকে শোকের দিন হিসাবে পালন করে থাকে। আর তারা শোক প্রকাশ করতে গিয়ে ঘোড়া, তা‘যিয়া, ঢোল-ঢাক, মিছিল-মিটিং, বুক চাপড়ানো, মুরসিয়া গান-গযল ইত্যাদি অনৈসলামিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করে থাকে। আবার মুসলিমদের মাঝে কেউ হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু ও তাঁর পরিবারের জন্য ছালাত, ছিয়াম, মীলাদ-মাহফিল, কুরআনখানি ইত্যাদি পালন করে থাকে। এসব কিছুই ইসলামে গর্হিত কাজ, যা কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য শোভা পায় না, বরং এগুলো বর্জন করা অপরিহার্য। কারণ হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাত বরণ নিশ্চয় মুসলিমদের জন্য এক দুঃখজনক বিষয়, অবশ্য আল্লাহ তা‘আলা তাকে এ শাহাদাতের মাধ্যমে আরো সম্মানিত করেছেন। কিন্তু এ শাহাদাতকে কেন্দ্র করে এভাবে শোক দিবস পালন করতে হবে তা ইসলামী নিয়ম নীতিতে পড়ে না। কারণ যদি তাই হতো তাহলে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আমীর হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর মর্মান্তিক শাহাদাতবরণ, ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু, তৃতীয় খলীফা ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু, চতুর্থ খলীফা হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর পিতা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখের শোক দিবস পালন করাটা আরো বেশী গুরুত্ববহ ছিল। এছাড়া যারা শোক দিবস পালনে ব্যাকুল হয়ে পড়েছে, তারা যদি সত্যিই হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতি দরদী হত, তাহলে কর্তব্য ছিল তার মতই নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রেখে যাওয়া ইসলাম অনুসরণ করে চলা। কিন্তু দেখা যায় তাদের চালচলন, আচার-আচরণ এক প্রান্তে আর ইসলাম আরেক প্রান্তে। তাইতো নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাই হচ্ছে তাদের জন্য সঠিক ফায়ছালা। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الخُدُودَ، وَشَقَّ الجُيُوبَ، وَدَعَا بِدَعْوَى الجَاهِلِيَّةِ
‘সে আমাদের মধ্যে নয়, যে মুখ চাপড়িয়ে বুক ফেড়ে জাহেলী প্রচলন অনুসরণে মর্সিয়া ক্রন্দন করে’।[14]
(৪) রক্তের নামে লাল রং ছিটানো হয়, রাস্তা-ঘাট সাজানো হয়।
(৫) লাঠি-তীর-বল্লম নিয়ে যুদ্ধের মহড়া দেওয়া হয়। সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল মিছিল করে কারবালা যুদ্ধের মহড়া দেয়।
(৬) হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নামে কেক ও পাউরুটি বানিয়ে ‘বরকতের পিঠা’ বলে বেশী দামে বিক্রি করা হয়। হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নামে ‘মোরগ’ পুকুরে ছুঁড়ে দিয়ে যুবক-যুবতীরা পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ ‘বরকতের মোরগ’ ধরার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।
(৭) এমনকি অনেকে শোকের মাস ভেবে এই মাসে বিবাহ-শাদী করা অন্যায় মনে করে থাকেন। এসবই জাহিলিয়্যাত।
(৮) মুহাররম মাসের প্রতিদিনের ছিয়ামের বিশেষ ফযীলত মনে করা। ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ আল-জামেউছ ছাগীর ও ইমাম ত্বাবরানী আল-মু‘জামুল কাবীরে ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেন,
مَنْ صَامَ يَوْمًا مِنَ الْمُحَرَّمِ فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ ثَلَاثُونَ يَوْمًا
‘যে ব্যক্তি মুহাররম মাসের এক দিন ছিয়াম রাখবে, তাকে প্রতি দিনের বিনিময়ে ৩০টি নেকী দান করা হবে’।[15]
আল্লামা হায়ছামী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই হাদীছে আল-হায়ছাম ইবনে হাবীব নামে একজন বর্ণনাকারী আছেন, যাকে হাফেয যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইমাম মুনাবী রাহিমাহুল্লাহ আল-জামেউছ ছাগীরের ব্যখ্যায় এবং শায়খ আলবানী ‘সিলসিলাতুয যাঈফাহ’য় এই হাদীছকে বেশ কয়েকটি কারণে জাল বলে মন্তব্য করেছেন।
(৮) ঐ দিন অনেকে পানি পান করা এমনকি শিশুর দুধ পান করানোকেও অন্যায় ভাবেন।
(৯) ওদিকে উগ্র শী‘আরা কোন কোন ‘ইমাম বাড়া’তে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর নামে বেঁধে রাখা একটি বকরীকে লাঠিপেটা করে ও অস্ত্রাঘাতে রক্তাক্ত করে বদলা নেয় ও উল্লাসে ফেটে পড়ে। তাদের ধারণা মতে, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর পরামর্শক্রমেই আবুবকর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুখের সময় জামা‘আতে ইমামতি করেছিলেন ও পরে খলীফা নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেকারণ আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু খলীফা হতে পারেননি (নাঊযুবিল্লাহ)।
(১০) ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু, ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু, মু‘আবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু, মুগীরা ইবনে শু‘বা রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখ জালীলুল ক্বদর ছাহাবীকে এ সময় বিভিন্নভাবে গালি দেওয়া হয়।
(১১) অনেক বক্তা এ মাসের বিশেষত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে এমন সব অমূলক কথা বর্ণনা করেন, ইতিহাসে যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। কেউ কেউ হাদীছ হিসাবেও এসব ভিত্তিহীন কথা বর্ণনা করেন। বলা বাহুল্য, শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটাও মারাত্মক গুনাহ ও বর্জনীয় কাজ। না জেনে কোন কথা বলা, আসর জমানোর জন্য ভিত্তিহীন কাহিনী বর্ণনা করা, ভিত্তিহীন চিন্তা ও বিশ্বাস পোষণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও গর্হিত আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত হওয়া নিতান্তই অন্যায়।
(১২) কেউ কেউ মনে করেন আশূরার দিনে গোসল ও চোখে সুরমা ব্যবহার করলে অনেক বিপদ হতে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে প্রচলিত একটি বানাওয়াট হাদীছ হচ্ছে,
مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ لَمْ يَمْرَضْ إِلا مَرَضَ الْمَوْتِ وَمَنِ اكْتَحَلَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ لَمْ تَرْمَدْ عَيْنَاهُ تِلْكَ السَّنَةَ كُلَّهَاَ
‘আশূরার দিনে যে ব্যক্তি গোসল করবে, সে ঐ বছর অসুস্থ হবে না। আর যে আশূরার দিনে সুরমা লাগাবে তার চোখ সে বছর প্রদাহগ্রস্ত হবে না’।
আল্লামা ইবনুল জাউযী রাহিমাহুল্লাহ ‘আল-মাউযূআত’ (জাল হাদীছ সমগ্র) গ্রন্থে এই হাদীছটি (জাল হাদীছের তালিকায়) উল্লেখ করেছেন।[16] এছাড়াও শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীছটিকে জাল বলে অভিহিত করেছেন।[17]
(১৩) আশূরার দিনে বিশেষ নফল ছালাত আছে বলে মনে করা। এ সম্পর্কে আল্লামা শাওকানী রাহিমাহুল্লাহ-এর জাল হাদীছ সংকলনগ্রন্থ ‘আল-ফাওয়াইদিল মাজমূ‘আহ ফিল আহাদীছিল মাউযূ‘আহ’য় আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে বর্ণিত একটি দীর্ঘ মারফূ‘ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যাতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আশূরার দিনে যোহর ও আসরের মাঝে ৪ রাক‘আত ছালাত আদায় করবে এবং তার প্রত্যেক রাক‘আতে ১০০ বার সূরা ফাতেহা ১০ বার আয়াতুল কুরসী ১১ বার সূরা ইখলাছ ও ১৫ বার সূরা ফালাক্ব ও নাস পড়বে, অতঃপর সালাম ফিরানোর পর ৭০ বার ইস্তেগফার করবে- আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উপর একটি সাদা গম্বুজ দান করবেন। এ হাদীছটি বর্ণনার পর তিনি এটাকে জাল বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এর বর্ণনাকারী সবাই অজ্ঞাত। এছাড়াও আশূরার দিনে বিশেষ পদ্ধতির নফল ছালাত সম্পর্কিত একাধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যার কোনটিই বিশুদ্ধ নয়।
(১৪) আশূরার দিনের ছিয়াম ৬০ বছর ইবাদতের সমতুল্য বলে অনেকে মনে করেন, যা আদৌ ঠিক নয়। ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর জাল হাদীছ সংকলন- ‘আল-লায়ালিউল মাছনূ‘আহ ফিল আহাদীছিল মাউযূ‘আহ’ গ্রন্থে ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে বর্ণিত এমন একটি দীর্ঘ হাদীছ বর্ণনা করেন, যাতে বলা হয়েছে,
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عِبَادَةَ سِتِّينَ سَنَةً
‘যে ব্যক্তি আশূরার দিন ছিয়াম রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ৬০ বছরের ইবাদত (এর ছওয়াব) লিপিবদ্ধ করবেন’। এই বর্ণনায় আরো আছে যে, আশূরার দিনে ছিয়াম রাখার বিনিময়ে দশ হাযার ফেরেশতার (ইবাদতের) ছওয়াব দেওয়া হবে।[18]
এই হাদীছটির সনদে হাবীব ইবনে আবুল হাবীব নামের বিখ্যাত মিথ্যা হাদীছ বর্ণনাকারী রয়েছে। মুহাদ্দিছীনে কেরামের নিকট যার ব্যপারে মিথ্যা হাদীছ রচনার কুখ্যাতি আছে।
আশূরার এসব বিদ‘আতের সূচনা :
আববাসীয় খলীফা মুত্বী‘ ইবনে মুক্বতাদিরের সময়ে (৩৩৪-৩৬৩হিঃ/৯৪৬-৯৭৪ খৃঃ) তাঁর কট্টরপন্থী শী‘আ আমীর আহমাদ ইবনে বূইয়া দায়লামী ওরফে ‘মুইযযুদ্দৌলা’ ৩৫১ হিজরীর ১৮ই যিলহজ্জ তারিখে বাগদাদে ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাত বরণের তারিখকে তাদের হিসাবে খুশীর দিন মনে করে ‘ঈদের দিন’ হিসাবে ঘোষণা করেন। শী‘আদের নিকটে এই দিনটি পরবর্তীতে ঈদুল আযহার চাইতেও গুরুত্ব পায়। অতঃপর ৩৫২ হিজরীর শুরুতে ১০ই মুহাররমকে তিনি ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করেন এবং সকল দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ করে দেন ও মহিলাদেরকে শোকে চুল ছিঁড়তে, চেহারা কালো করতে, রাস্তায় নেমে শোকগাঁথা গেয়ে চলতে বাধ্য করেন। শহর ও গ্রামের সর্বত্র সকলকে শোক মিছিলে যোগদান করতে নির্দেশ দেন। শী‘আরা খুশী মনে এই নির্দেশ পালন করে। কিন্তু সুন্নীরা চুপ হয়ে যান। পরে সুন্নীদের উপরে এই ফরমান জারী করা হলে ৩৫৩ হিজরীতে উভয় দলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। ফলে বাগদাদে তীব্র নাগরিক অসন্তোষ ও সামাজিক অশান্তির সৃষ্টি হয়।[19]
তা‘যিয়ার ইতিহাস :
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে কারো তা‘যিয়া হয়নি। ৬৬ হিজরীতে মুখতার ছাক্বাফী হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি নিয়ে মাথাচাড়া দেন এবং একটি চেয়ারকে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম করে বনী ইসরাঈলের ত্বাবূতের মত পবিত্র এবং বিজয় লাভের উপকরণ বলে আখ্যায়িত করেন।[20] এই চেয়ারটির অনুকরণে প্রায় আড়াইশ’ বছর পর তা‘যিয়া আবিষ্কৃত হয়।
ঐতিহাসিকরা বলেন, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের ৩৫০ বছর পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও তা‘যিয়া এবং মুহাররম উৎসব পালিত হয়নি। ৩৫২ হিজরীতে ফাতেমীয় খলীফা মুইযযুদ্দৌলা সর্বপ্রথম ইরাকের বাগদাদে তা‘যিয়া তৈরি করেন এবং শী‘আদের সমস্ত প্রথা জারী করেন। তিনি ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাতের তারিখকে ঈদের দিন হিসাবে ঘোষণা করেন। শী‘আদের নিকটে এই দিনটি পবিত্র ঈদুল আযহার চাইতেও অধিক গুরুত্ব পায়। অতঃপর ৩৫২ হিজরীর শুরুতে ১০ই মুহাররমকে তিনি ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করেন এবং সকল দোকান-পাট, ব্যবসা-বানিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ করে দেন ও মহিলাদেরকে শোকে ছিড়তে, চেহারা কালো করতে, রাস্তায় নেমে শোকগাঁথা গেয়ে চলতে বাধ্য করেন। শহর ও গ্রামের সর্বত্র সকলকে শোক মিছিলে যোগদান করতে নির্দেশ দেন।[21]
এরপর শী‘আ রাজা তৈমুরলঙ্গ এই তা‘যিয়া প্রথাকে বাজারে চালু করেন। তারপর মোঘল সম্রাট হুমায়ূন ৯৬২ হিজরীতে তার পুত্র আকবরের গৃহ শিক্ষক বৈরাম খাঁকে ইরাকের কারবালায় পাঠিয়ে সবুজ মার্বেল পাথরের নির্মিত ৪৬ তোলা ওযনের একটি তা‘যিয়া নিয়ে ভারতে আসেন। তখন থেকেই ভারতে এবং পৃথিবীর অন্যান্য শী‘আ অধ্যুষিত প্রান্তে তা‘যিয়া প্রথা চালু হয়ে পড়ে।[22]
আলেমগণের দৃষ্টিতে তা‘যিয়া :
ব্রেলভী হানাফী দলের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আহমাদ ছিয়াম খান বলেন, তা‘যিয়া রাখা নিঃসন্দেহে নাজায়েয ও হারাম। যারা তা‘যিয়ার সামনে মানত করে তারা জেনে নিন যে. আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ ছাড়া অন্য কারো কাছে মানত করা হারাম।[23]
এ মর্মে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্র নাফারমানীতে কোন মানত নেই। তথাপি যদি কেউ ভুল করে আল্লাহ্র অবাধ্যতামূলক কাজের মানত করে ফেলে তার জন্য রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্র নাফারমানীমূলক কোন কাজের জন্য মানত করলে তা পূরণ করতে হবে না।[24] সুতরাং তা‘যিয়ার সামনে মানত করা হারাম।
ভারতের বিখ্যাত হানাফী আলেম মাওলানা আব্দুল হাই লক্ষ্নৌবী বলেন, মুহাররামের ১০ দিনে কিংবা অন্য কোন সময়েও তা‘যিয়া, ঝাণ্ডা ও দুলদুল প্রভৃতি তৈরি করা বিদ‘আত। এর প্রমাণ নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাবেঈন পর্যন্ত পাওয়া যায় না। এসব জিনিষ নিজেদেরই আবিষ্কৃত এবং নির্ধারিত। যার সম্মান করা ‘ঠাকুর পূজা’র মতই। এ ব্যাপারে ইমাম শা‘বী রাহিমাহুল্লাহ-এর কিতাব কিফায়াতে যে হাদীছটি আছে, যার উপর ভিত্তি করে জাহেলরা তা‘যিয়া জায়েয বলে, তার বিশদ বর্ণনা হচ্ছে- একদা এক ব্যক্তি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি জান্নাতের দরজা ও সুলোচনা হূরদের চুমু খাবার কসম করেছি। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার মায়ের পা ও কপাল এবং পিতার ললাট চুমু খাবার হুকুম দিলেন। সে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ঐদিন আমার বাপ-মা না থাকে? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের কবরে চুমু খাও। লোকটি বলল, যদি আমি তাদের কবর চিনতে না পারি? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি দু’টি রেখা টানো এবং তন্মধ্যে একটিকে মায়ের ও অপরটিকে বাপের কবর মনে করে চুমু খাও। তাহলে তোমার কসম ভঙ্গ হবে না।[25] আলোচ্য হাদীছটি শী‘আদের তৈরি করা অসংখ্য জাল হাদীসের একটি।
হানাফী ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কানযুদ দাকায়েক্ব’ এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে আছে, ‘কোন সৃষ্টজীবের কাছে মানত করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম’। মাওলানা আব্দুল হাই লক্ষ্নৌবী বলেন, আল্লাহ ছাড়া অপরের নামে শিরনী কিংবা ফিরনী ধনী-গরীব সবার উপরেই হারাম।[26] আল্লামা শা‘বী হানাফী লিখেছেন, ‘আমাদের শরী‘আতে কোন উপায়েই একজনের অপরজনকে সিজদা করা জায়েয নয়। আর যে এরূপ করবে সে কাফের।[27] মুহাদ্দিছ আব্দুল হক্ব হানাফী বলেন, কবরে চুমু দেয়া, সিজদা করা এবং গাল ঘষা হারাম।[28] মুহাদ্দিছ মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, ‘নবী ও অলিদের কবরের চারপাশে চক্কর দেয়া হারাম।[29]
শুধু মুসলিম আলেমগণই নন, অমুসলিম পণ্ডিতরাও তা‘যিয়াকে হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাথে তুলনা করেছেন- ডাঃ জেমস ওয়াইজ মুহাররম উৎসবকে হিন্দুদের রথযাত্রা বলে বর্ণনা করেন। মিসেস এইচ আলী বলেন, দীর্ঘদিন হিন্দুদের সংস্পর্শে থেকে মুসলিমগণ তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলোকে হিন্দুদের অনুকরণে মিছিলের আকারে বাহ্যিক জাক-জমকপূর্ণ করে তুলেছে। ইউরোপীয়দের ন্যায় বিদেশী মুসলিমগণ বাংলার মুসলিমদের এ ধরনের ধর্মীয় উৎসবকে ইসলামের বিকৃতিকরণ ও অপবিত্রকরণ বলে মনে করে।[30]
ঐতিহাসিক এম. গ্রাসিন ডি ট্যাসিন বলেন, মুহাররমের তা‘যিয়া অবিকল হিন্দু দূর্গা পূজার অনুকরণ। দুর্গোৎসব যেমন দশদিন ধরে চলে এবং শেষদিনে ঢাক-ঢোল, বাদ্য-বাজনাসহ পূজারীগণ প্রতিমাসহ মিছিল করতঃ তাকে নদী অথবা পুকুরে বিসর্জন দেয়, মুসলিমগণও অনরূপভাবে দশ দিন ধরে মুহাররমের উৎসব পালন করে। শেষ দিনে দুর্গা বিসজ্যনের মত ঢাক-ঢোল বাজিয়ে মিছিল করে তা‘যিয়া পানিতে বিসর্জন দেয়।[31]
আল্লাহ আমাদের সকলকে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে আশূরায় মুহাররামে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী ইবাদত করার তাওফীক্ব দিন এবং আশূরাকে কেন্দ্র করে বিদ‘আত, কুসংস্কার ও জাহেলী কর্মকাণ্ড হতে হেফাযত করুন- আমীন!
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৬৬২।
[2]. মিরআতুল মাফাতিহ, ৭/৪৫ পৃঃ।
[3]. মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াকীল, আশূরা ও কারবালা, মাসিক আত-তাহরীক, ৫ম বর্ষ, ৬ষ্ঠ সংখ্যা, পৃঃ ৭।
[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩০।
[5]. ছহীহ বুখারী, হা/২০০৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১১২৯, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়।
[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৫২।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/২০০২, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়।
[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২০০৪।
[9]. ছহীহ বুখারী, হা/২০০৭।
[10]. ছহীহ বুখারী, হা/২০০৫; আহমাদ, হা/১৯৬৮৯।
[11]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩৪; মিশকাত, হা/২০৪১।
[12]. ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ, হা/২০৯৫।
[13]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৬৮২৪।
[14]. ছহীহ বুখারী, হা/১২৯৪।
[15]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৪১৩।
[16]. আল-মাওযূআত, ২/২০১।
[17]. মাজমূঊ ফাতাওয়া, ৪/৫১৩।
[18]. ‘আল-লায়ালিউল মাছনূ‘আহ, ২/৯২।
[19]. ইবনুল আছীর, তারীখ, ৮/১৮৪।
[20]. আল্লামা শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ১/১৯৯।
[21]. ইবনুল আছীর, তারীখ, ৮/১৮৪।
[22]. মাসিক আহলেহাদীছ (কলিকাতা : ১৯ নং মারকুইস লেন) ৯ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, পৃঃ ৬৫ ও ৬৬।
[23]. ফাতাওয়া সালাফিয়্যাহ, ২/৪২০।
[24]. আবুদাঊদ, ২/১১৩ পৃঃ।
[25]. মাসিক আহলেহাদীছ, ৯ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, পৃঃ ৬৫ ও ৬৬।
[26]. মাওলানা আব্দুল হাই লক্ষ্নৌবী, মাজমূ‘আ ফাতাওয়া (দেওবন্দ : ১৯৬৯ খৃঃ), পৃঃ ৯৩ ও ৯৪।
[27]. কিফায়া।
[28]. মাদারেজুন নবুয়াহ।
[29]. মাসিক আহলেহাদীছ, ৯ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা।
[30]. আববাস আলী খান, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস (ঢাকা : বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, মার্চ ২০০০), পৃঃ ৬২।
[31]. প্রাগুক্ত।
