কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪১): আমার মায়ের সাথে স্ত্রীর ঝামেলা লেগেই থাকে। বাসায় আসলেই বিভিন্ন অভিযোগ। স্ত্রী বাহিরে বাসা নিতে বলে যাতে ঝামেলা না হয়, কিন্তু মা নিতে না করেছে। এখন কি মায়ের কথা শুনব, নাকি স্ত্রীর? উল্লেখ্য, কেউ কাউকে মূলত সহ্য করতে পারে না।

উত্তর: মা ও স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব হওয়া অনেক পরিবারের সাধারণ সমস্যা। এ অবস্থায় ইসলামের নির্দেশ হলো ধৈর্যধারণ করা, উভয়ের হক্ব আদায় করার চেষ্টা করা, কারও প্রতি যুলম না করা এবং ফিতনা কমানোর ব্যবস্থা করা। প্রথমে মনে রাখতে হবে মায়ের হক্ব অনেক বেশি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে’ (আল-ইসরা, ১৭/২৩)। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উত্তম সঙ্গ ও সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হক্বদার কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, ‘তারপর তোমার পিতা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৪৮)। অন্যদিকে স্ত্রীরও শারঈ হক্ব রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো’ (আন-নিসা, ৪/১৯)। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম’ (তিরমিযী, হা/৩৮৯৫)। এ অবস্থায় করণীয়- ১. ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া। ২. স্বামীকে ইনছাফ করতে হবে অর্থাৎ স্ত্রীর সব কথা শুনে মায়ের উপর যুলম করা যাবে না, আবার মায়ের আবেগের কারণে স্ত্রীর হক্ব নষ্ট করাও যাবে না। মানুষের উপর তার স্ত্রী ও পিতা-মাতার সকলের হক্ব রয়েছে। তাই তাকে সবার হক্ব আদায়ে আল্লাহকে ভয় করতে হবে (মাজমূউল ফাতওয়া, ৩২/২৬১)। ২. কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না এবং প্রতিনিয়ত ঝামেলা (ঝগড়া, অপমান, গুনাহ ও সম্পর্ক নষ্ট হয়) হচ্ছে। এ অবস্থায় আলাদা বাসা নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে অধিক হিকমতপূর্ণ ও শরীআতসম্মত সমাধান হতে পারে, বিশেষত যদি এতে মা-ছেলের সম্পর্কও ঠিক থাকে, স্বামী-স্ত্রীর সংসারও বাঁচে, ঝগড়া ও গীবত কমে যায়। তবে আলাদা বাসা নেওয়া মানে মাকে পরিত্যাগ করা নয়। বরং নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, খরচ বহন করা, সেবা করা, সম্মান বজায় রাখা উচিত।

-কাওছার আলী

নওগাঁ সদর।


Magazine