উত্তর: প্রথমত, কুরআন মাজীদে যেমনিভাবে এই কথা এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা ‘হও’ বললেই হয়ে যায় (ইয়া-সীন, ৩৬/৮২), তেমনিভাবে এই কথাও এসেছে যে, তিনি আসমান এবং যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন (হূদ, ১১/০৭)। সুতরাং আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে যা বলেছেন তার প্রতি আমাদের অবশ্যই মজবুত ঈমান রাখতে হবে, এক্ষেত্রে আল্লাহর হিকমত আমাদের বুঝে আসুক বা না আসুক। দ্বিতীয়ত, মুফাসসিরগণ উক্ত বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একাধিক হিকমত উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য হিকমত হলো- ১. তাড়াহুড়া না করে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করে কর্ম সম্পাদন করার সবক শেখানো। মানুষ যেন এটা শেখে যে, আসমান এবং যমীন সৃষ্টি করতে যেখানে আল্লাহ তাআলার শুধু ‘হও’ বলাটাই যথেষ্ট ছিল, সেখানে তিনি তা সৃষ্টি করলেন ছয় দিনে। তাহলে মানুষের জন্য কর্ম সম্পাদন করার ক্ষেত্রে কী পরিমাণ পরিকল্পনা ও ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা উচিত! (তাফসীরে কুরতুবী, ৭/২১৯)। ২. সূরা হূদের ৭ নম্বর আয়াতে ছয় দিনে আসমান এবং যমীন সৃষ্টি করার বিষয়টি উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা এর হিকমত সম্পর্কে বলেন, لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا অর্থাৎ তিনি ছয় দিনে আসমান এবং যমীন সৃষ্টি করেছেন এটা পরীক্ষা করার জন্য যে, মানুষের মধ্যে কার আমল সবচেয়ে সুন্দর। সুতরাং এখানে দ্রুত আমল করা বা বেশি সংখ্যক আমল করা বিবেচ্য নয়; বরং সুন্দর আমল বিবেচ্য। আর সুন্দরভাবে আমল করতে গেলে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করতে হয় (তাফসীরে তাবারী, ১৫/২৫১)।
প্রশ্নকারী : মামুনুর রশিদ
জামালপুর।
