উত্তর: বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন শয়তানের পরিকল্পিত চক্রান্তের অন্যতম অংশ। গোপনে পাপ করিয়ে অভ্যস্ত করার পর শয়তান চক্রান্ত করে কীভাবে বিশ্বপরিসরে পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষকে একসঙ্গে পাপ করানো যায়। তখন সে তারই অনুসারী পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার মোড়লদের মস্তিষ্কে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের পরিকল্পনা ঢুকিয়ে দেয়। এই মোড়লরা নৈতিকতা, ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক রক্ষণশীলতা ইত্যাদির তোয়াক্কা না করে গরীবদের পকেট থেকে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বাগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শয়তানের উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। আবার এদের সঙ্গে যোগ দেয় স্বার্থবাদী ও ভণ্ড রাজনীতিবিদরা। কারণ জনগণকে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মত্ত রাখতে পারলে তারা রাজনৈতিক বহু ফায়দা লুটে নিতে সক্ষম হবে। বর্তমানে হচ্ছেও তাই। মানুষ এতটাই মত্ত হয়েছে যে, পুরো দেশ রসাতলে গেলেও কোনো পরোয়া নেই। এছাড়াও বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনে রয়েছে নানা ধরনের ঈমানবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মকাণ্ড নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
১. ফুটবল বিশ্বকাপ মূলত মানুষকে পশুতে রূপান্তরিত করে। কেননা ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ এমন উন্মত্ত, বিবেকহীন, চিৎকার-চেঁচামেচি ও নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ করে, যা কুরআনের ভাষায় চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার চাইতেও নিকৃষ্ট (আল-ফুরকান, ২৫/৪৩-৪৪)।
২. ফুটবল বিশ্বকাপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর। এটি বিশ্বব্যাপী জুয়া, বেটিং (কোনো খেলা, ঘটনা বা ফলাফল সম্পর্কে পূর্বানুমান করে অর্থ বা মূল্যবান কিছু বাজি রাখা) ও হারাম অর্থ লেনদেনের অন্যতম বৃহৎ উপলক্ষ, যা কুরআনে আল্লাহ তাআলা শয়তানের অপবিত্র কাজ ও হারাম বলে ঘোষণা করেছেন (আল-মায়েদা, ৫/৯০-৯১)।
৩. ফুটবল বিশ্বকাপে বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ হয়, যা একজন মুসলিমকে সাংস্কৃতিকভাবে ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানে রূপান্তরিত করে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মুসলিমরা অমুসলিমদের ধর্মীয় বা তাদের স্বাতন্ত্র্যসূচক সংস্কৃতি (প্রতীক, পতাকা, জার্সি, স্লোগান ও জীবনধারা) অন্ধভাবে অনুকরণ করে, তাদের প্রতি নিষিদ্ধ পর্যায়ের ভালোবাসা পোষণ করে। যে ব্যাপারে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদের রীতি-নীতি বিঘত-বিঘত ও হাত-হাত অনুসরণ করবে...’ ছাহাবীগণ বললেন, ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের? তিনি বললেন, ‘তাহলে আর কারা?’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩২০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৯)। আর যারা তাদের প্রতি নিষিদ্ধ পর্যায়ের ভালোবাসা পোষণ ও তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত (আল-মায়েদা, ৫/৫১; আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১)।
৪. ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গান, বাদ্যযন্ত্র ও হারাম বিনোদনের আয়োজন করা হয়, যা হারাম। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৯০)।
৫. ফুটবল বিশ্বকাপে দলীয় সমর্থনকে কেন্দ্র করে ঝগড়া, গালি, মারামারি ও সম্পর্ক নষ্ট করার মাধ্যমে বিভক্তি ও শত্রুতা সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে’ (আল-আনফাল, ৮/৪৬)।
৬. ফুটবল বিশ্বকাপে দলীয় পক্ষপাত, অনর্থক সময় ও অর্থের অপচয় করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (আল-ইসরা, ১৭/২৭)। বিশ্বকাপ ফুটবল একজন মুসলিমকে ইসলামী সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করে দেয়। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কোনো দলকে সাপোর্ট করা, বিভিন্ন দলের পতাকা বাড়ির ছাদে লাগানো, তাদের জার্সি পরিধান করা, তাদের খেলা সম্পর্কে মিছিল-মিটিং করাসহ ফুটবল বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় হারাম (মাজমূউ ফাতাওয়া, ২০/১৬৪)। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাযত করুন।
প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার
