কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

যেনার দণ্ডবিধি (শাস্তি)

post title will place here

যেনা বা ব্যভিচার হারাম এবং এটি সবচেয়ে বড় গুনাহের একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ’ (আল-ইসরা, ১৭/৩২)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,سَأَلْتُ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الذَّنْبِ عِنْدَ اللهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ ثُمَّ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ أَنْ تُزَانِيَ بِحَلِيلَةِ جَارِكَ আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, ‘কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, ‘তোমার সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে’। আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা’।[1] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন, وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا - يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا - إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ‘তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না। আর যথার্থতা ব্যতীত কোনো প্রাণ হত্যা করে না, যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন আর তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির মুখোমুখি হবে। ক্বিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে আর সে সেখানে লাঞ্ছিত হয়ে চিরবাস করবে। তবে তারা নয়; যারা তওবা করবে, ঈমান আনবে আর সৎকাজ করবে। আল্লাহ এদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু’ (আল-ফুরক্বান, ২৫/৬৮-৭০)

আর সামুরা ইবনু জুনদুব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত দীর্ঘ হাদীছে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা স্বপ্নের বর্ণনায় (এ কথাটি এসেছে) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

فَانْطَلَقْنَا فَأَتَيْنَا عَلَى مِثْلِ التَّنُّورِ قَالَ فَأَحْسِبُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فَإِذَا فِيهِ لَغَطٌ وَأَصْوَاتٌ قَالَ فَاطَّلَعْنَا فِيهِ فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ وَإِذَا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهَبٌ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ فَإِذَا أَتَاهُمْ ذَلِكَ اللَّهَبُ ضَوْضَوْا قَالَ قُلْتُ لَهُمَا مَا هَؤُلاَءِ؟...... قَالَا هُمُ الزُّنَاةُ وَالزَّوَانِي.

‘আমরা চললাম এবং চুলার মতো একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম’। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় যেন তিনি বলেছিলেন, ‘আর সেখানে শোরগোলের শব্দ ছিল’। তিনি বলেন, ‘আমরা তাতে উঁকি মারলাম, দেখলাম তাতে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী ও পুরুষ রয়েছে। আর নিচ থেকে বের হওয়া আগুনের লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করছে। যখনই লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করে, তখনই তারা উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে উঠে’। তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বললাম, এরা কারা? ...তিনি বললেন, (আর এ সকল উলঙ্গ নারী-পুরুষ যারা চুলা সদৃশ গর্তের ভিতর আছে) তারা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর দল’।[2] ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لاَ يَزْنِي العَبْدُ حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَشْرَبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَقْتُلُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ قَالَ عِكْرِمَةُ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ كَيْفَ يُنْزَعُ الإِيمَانُ مِنْهُ؟ قَالَ هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ أَخْرَجَهَا فَإِنْ تَابَ عَادَ إِلَيْهِ هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ.

‘মুমিন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। মুমিন থাকা অবস্থায় কোনো চোর চুরি করে না। মুমিন থাকা অবস্থায় কেউ মদ্যপান করে না। মুমিন থাকা অবস্থায় কেউ হত্যা করে না’। ইকরিমা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার থেকে ঈমান কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়? তিনি বললেন, এভাবে আর আঙুলগুলো পরস্পর জড়ালেন, এরপর অঙ্গুলিগুলো বের করলেন। যদি সে তওবা করে তবে পূর্বের অবস্থায় এভাবে ফিরে আসে। এ বলে অঙ্গুলিগুলো আবার পরস্পর জড়ালেন।[3]

যেনার (ব্যভিচারের) প্রকারভেদ:

ব্যভিচারী হয় বিবাহিত অথবা অবিবাহিত। সুতরাং যদি কোনো স্বাধীন, মুহছান (বিবাহিত), প্রাপ্তবয়স্ক ও শরীআত-দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ব্যভিচার করে[4]; তাহলে তার জন্য নির্ধারিত হদ্দ (শরীআতসম্মত শাস্তি) হলো পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা (রজম), যতক্ষণ না সে মারা যায়। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ আল-আনছারী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمْ أَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثَهُ أَنَّهُ قَدْ زَنَى فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ وَكَانَ قَدْ أُحْصِنَ আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল। এসে বলল, সে যেনা করেছে এবং নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, অতঃপর তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। সে ছিল বিবাহিত।[5]

ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, একদা উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন,

إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ مِمَّا أُنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ فَقَرَأْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا وَعَقِلْنَاهَا وَرَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ وَاللهِ مَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللهُ، وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَا إِذَا أُحْصِنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا كَانَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوِ الِاعْتِرَافُ.

নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন। আর তাঁর উপর যা নাযিল করা হয়েছিল, তার মধ্যে রজমের আয়াতও ছিল। আমরা তা পাঠ করেছি, সংরক্ষণ করেছি এবং ভালোভাবে বুঝে নিয়েছি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রজমের শাস্তি কার্যকর করেছেন এবং তাঁর পরে আমরাও তা কার্যকর করেছি। আমি আশঙ্কা করি, মানুষের উপর যদি দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়, তবে কেউ একজন বলবে, وَاللهِ مَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহর কিতাবে তো আমরা রজমের বিধান খুঁজে পাই না। ফলে তারা আল্লাহ কতৃর্ক নাযিলকৃত একটি ফরয বিধান পরিত্যাগ করার কারণে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। অথচ আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান সত্য অবধারিত সেসব পুরুষ ও নারীর জন্য, যারা বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচার করে। যখন (অপরাধ প্রমাণের জন্য) সুস্পষ্ট সাক্ষ্য থাকে অথবা গর্ভধারণ প্রমাণিত হয় অথবা অপরাধী নিজে স্বীকারোক্তি প্রদান করে’।[6]

দাস (ক্রীতদাস/ক্রীতদাসী)-এর জন্য নির্ধারিত শাস্তি (হদ্দ):

যদি স্বাধীন নয় এমন ব্যক্তি (সে দাস হোক বা দাসী) যেনা করে, তবে তার উপর রজমের শাস্তি প্রযোজ্য হবে না; বরং তাকে ৫০টি বেত্রাঘাত করা হবে। আল্লাহ তাআলার বাণী,فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ذَٲلِكَ لِمَنْ خَشِىَ ٱلْعَنَتَ مِنكُمْ‌ ‘অতঃপর যখন তারা বিবাহিত হবে, তখন যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়; তাহলে তাদের উপর স্বাধীন নারীর অর্ধেক আযাব হবে। এটা তাদের জন্য, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারের ভয় করে’ (আন-নিসা, ৪/২৫)

আব্দুল্লাহ ইবনু আইয়্যাশ আল-মাখযূমী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,أَمَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي فِتْيَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَجَلَدْنَا وَلَائِدَ مِنْ وَلَائِدِ الْإِمَارَةِ خَمْسِينَ خَمْسِينَ فِي الزِّنَا উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু আমাকে কুরাইশ বংশের কয়েকজন যুবকের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর আমরা সরকারি কোষাগারের তথা বায়তুল মালের কয়েকজন দাসীকে ৫০টি করে বেত্রাঘাত করেছিলাম যেনার অপরাধের কারণে।[7]

যাকে জোরপূর্বক যেনায় লিপ্ত করা হয়েছে, তার উপর কোনো হদ্দ (শাস্তি) প্রযোজ্য নয়:

আবূ আব্দুর রহমান আস-সুলামী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,أُتِيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بِامْرَأَةٍ جَهَدَهَا الْعَطَشُ فَمَرَّتْ عَلَى رَاعٍ فَاسْتَسْقَتْ فَأَبَى أَنْ يَسْقِيَهَا إِلَّا أَنْ تُمَكِّنَهُ مِنْ نَفْسِهَا فَفَعَلَتْ فَشَاوَرَ النَّاسَ فِي رَجْمِهَا فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ هَذِهِ مُضْطَرَّةٌ أَرَى أَنْ نُخْلِيَ سَبِيلَهَا فَفَعَلَ উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এক নারীকে আনা হলো, যাকে তীব্র তৃষ্ণা চরমভাবে কষ্ট দিচ্ছিল। সে পথে এক রাখালের কাছে গিয়েছিল এবং তার কাছে পানি চেয়েছিল; কিন্তু সে রাখাল পানি দিতে অস্বীকার করল, যতক্ষণ না সে তার সঙ্গে নিজের শরীর সমর্পণ করতে রাজি হয়। অতঃপর সে তাই করেছিল (চরম বাধ্যবাধকতার কারণে)। এরপর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু তার ব্যাপারে রজমের শাস্তি কার্যকর করা হবে কি-না সে বিষয়ে লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তখন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এই নারীটি ছিল চরমভাবে বাধ্য (মযবূর)। আমার পরমর্শ হলো, আমরা তাকে মুক্ত করে দিব। অতঃপর তিনি (উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাই করলেন।[8]

অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত শাস্তি (হদ্দ):

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন,الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ‘(অবিবাহিত) ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী প্রত্যেককে তোমরা ১০০ বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর এই বিধান বাস্তবায়নে তাদের প্রতি কোনোরূপ দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের এই শাস্তি প্রত্যক্ষ করে’ (আন-নূর, ২৪/২)। যায়দ ইবনু খালেদ আল-জুহানী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ فِيمَنْ زَنَى وَلَمْ يُحْصَنْ جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ দিতে শুনেছি, ওই ব্যক্তি সম্পর্কে ১০০ বেত্রাঘাত করার ও এক বছরের জন্য নির্বাসনের, যে অবিবাহিত অবস্থায় যেনা করেছে’।[9] উবাদা ইবনু ছামিত রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ ‘তোমরা আমার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো, তোমরা আমার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করেছেন। যদি কোনো অবিবাহিত পুরুষ কোনো কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে, তবে ১০০ বেত্রাঘাত করো এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোনো বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে; তবে তাদের প্রথমে ১০০ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে’।[10]

 

(ইনশা-আল্লাহ! আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

মূল: ড. আব্দুল আযীম আল-বাদাবী

* শায়খ আব্দুল আযীম বাদাবী প্রণীত ‘আল-ওয়াজীয ফী ফিক্বহিস সুন্নাতি ওয়াল কিতাবিল আযীয’ বই থেকে সংগৃহীত।

অনুবাদ: হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন

* প্রিন্সিপ্যাল, দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাজীপুর।

 

[1]. (حَلِيلَةِ جَارِكَ) বলতে প্রতিবেশীর সেই নারীকে বোঝানো হয়, যার সঙ্গে তার জন্য সহবাস বৈধ। আরেক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সে নারী, যে তার সঙ্গে একই বিছানায় বৈধভাবে অবস্থান করতে পারে (ছহীহ বুখারী, হা/৪৭৬১, ৬৮১১, ‘শব্দবিন্যাস তাঁরই’; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬; আবূ দাঊদ, হা/২৩১০; তিরমিযী, হা/৩১৮৩; মিশকাত, হা/৪৯)

[2]. ছহীহুল জামে‘, হা/৩৪৬২; ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৭, ‘শব্দবিন্যাস তাঁরই’।

[3]. ছহীহুল জামে‘, হা/৭৭০৮; ছহীহ বুখারী, হা/৬৮০৯, ‘শব্দবিন্যাস তাঁরই’; নাসাঈ, হা/৪৮৬৯; মিশকাত, হা/৫৪।

[4]. المحصن (মুহছান): সে ব্যক্তি, যার পূর্বে শরীআতসম্মত সঠিক বিবাহের মাধ্যমে সহবাস সম্পন্ন হয়েছে। আর المكلف ‘মুকাল্লাফ’ হলো, যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন। অতএব, শিশু ও পাগলের উপর কোনো হদ্দ (শাস্তি) প্রযোজ্য নয়; কেননা হাদীছে এসেছে,رفع القلم عن ثلاثة ‘তিন শ্রেণির ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে’—এ হাদীছটি পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৮১৪, ‘শব্দবিন্যাস তাঁরই’। উল্লেখ্য যে, লেখক উক্ত হাদীছে আবূ দাঊদ ও তিরমিযীর কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু উক্ত শব্দে সেখানে পাইনি। -অনুবাদক

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯১; আবূ দাঊদ, হা/৪৪১৮; তিরমিযী, হা/১৪৩২; নাসাঈ কুবরা, হা/৭১২১, ‘শব্দবিন্যাস তাঁরই’; মিশকাত, হা/৩৫৫৭।

[7]. ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩৪৫; মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৬ (আব্দুল বাক্বী); বায়হাক্বী, হা/১৭০৮৯, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে হাসান বলেছেন।

[8]. ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩১৩; বায়হাক্বী, হা/১৭০৫০, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[9]. ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩৪৭; ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৩১; মিশকাত, হা/৩৫৫৬, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[10]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯০; আবূ দাঊদ, হা/৪৪১৬; তিরমিযী, হা/১৪৩৪, ১৪৫১; ইবনু মাজাহ, হা/২৫৫০; মিশকাত, হা/৩৫৫৮, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

Magazine