কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সালাফদের গোপন ইবাদত ও বর্তমান আলেমসমাজের অবস্থা

post title will place here

ভূমিকা:

ইসলামের ইতিহাসে সালাফে ছালেহীন ছিলেন এমন অনন্য প্রজন্ম, যাদের জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গোপন ইবাদত ও একনিষ্ঠতা। তারা দুনিয়ার প্রদর্শনী ও লোকদৃষ্টির আড়ালে এমন সব আমল করতেন, যা কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই খালেছভাবে সম্পাদিত হতো। এই গোপন ইবাদতের মাধ্যমেই তাদের অন্তর পরিশুদ্ধ হতো এবং তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হতেন।

অন্যদিকে, বর্তমান যুগে ইবাদতের ক্ষেত্রে এক ধরনের পরিবর্তন ও দুর্বলতা লক্ষ করা যায়। প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে ইবাদতের প্রকাশ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে অনেক সময় একনিষ্ঠতা ও খুলুছিয়াত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে সালাফদের গোপন ইবাদত এবং বর্তমান সময়ের ইবাদতচর্চার বাস্তবতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করা হলো।

গোপন ইবাদতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

সালাফগণ প্রকাশ্য ইবাদতের চেয়ে গোপন ইবাদতেই বেশি মশগূল থাকতেন। দুনিয়ার যাবতীয় মোহ, ভোগবিলাস, চাহিদা, প্রবঞ্চনা, লোভ-লালসা ইত্যাদি সবকিছু বর্জন করে একমাত্র রবের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশা জাগ্রত করতেন এবং জান্নাতের মেহমান হওয়ার আশায় গোপন ইবাদতকে সম্বল করার সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকতেন।

মূলত, পূর্ববর্তী সালাফদের জীবনী পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আমাদের চলার পথে অনুপ্রেরণা জোগায়। গোপন ইবাদত আসলেই মুমিনের জীবনে এক মহা অস্ত্র, যার মাধ্যমে বান্দা সকল ধরনের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা লাভ করে। গোপন ইবাদত মানেই মহান রবের ভালোবাসা ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে হৃদয়ে পরম তৃপ্তি লাভ করা। এই ইবাদতই হলো বান্দা ও রবের মাঝে সম্পর্ক স্থাপনের এক মহাসেতুবন্ধন।

তাই পূর্ববর্তী বিদ্বানদের জীবনচরিত থেকে লক্ষ করা যায়, তারা পছন্দ করতেন এমন কিছু আমল, যা অন্য কেউ তো দূরের কথা, তাদের স্ত্রীরাও যেন না জানে।[1] মুসলিম ইবনে ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহর সাথে নিভৃতে প্রার্থনা করে যে তৃপ্তি অর্জিত হয় তা বিরল অর্জন।[2] ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি লোকচক্ষুর সামনে যেভাবে ছালাত আদায় করে সেভাবে যদি লোকচক্ষুর আড়ালে আদায় না করে, তাহলে সে আল্লাহকে তুচ্ছজ্ঞান করল।[3] অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার ১০৮ নম্বর আয়াত পেশ করে দলীল পেশ করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু একদিন তার সাথীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছাহাবীদের থেকে বেশি ছালাত আদায়কারী এবং অধিক জিহাদকারী, অথচ তারাই তোমাদের থেকে উত্তম। সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, তা কীভাবে? তিনি উত্তরে বললেন, তারা অধিক দুনিয়াবিমুখ ও আখেরাতমুখী ছিলেন।[4] প্রখ্যাত বিদ্বান ইবনু রজব হাম্বালী রাহিমাহুল্লাহ তার বিখ্যাত কিতাব ‘জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম’-এ ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ-এর একটি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যটি হলো, কল্যাণকর গোপন বিষয় দ্বারা আল্লাহর আনুগত্যকে নিষ্কলুষ করো। যার বাস্তবতা প্রমাণিত হবে তোমার বাহ্যিক ও প্রকাশ্য ইবাদতের মাধ্যমে। একথা কখনও ভেবো না যে, প্রকাশ্য ইবাদত গোপন ইবাদত হতে উত্তম ও সুফলদায়ক। কেননা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতের তুলনা হচ্ছে গাছের পাতার সাথে গাছের মূলের মতো। প্রকাশ্য ইবাদত পাতার মতো আর গোপন ইবাদত মূলের মতো। যদি গাছের মূলে পচন ধরে; তাহলে গাছের ডালপালা, পত্র-পল্লব, কাণ্ড সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি মূল ঠিক থাকে, তাহলে গোটা গাছ ঠিক থাকবে। সুতরাং গাছের বাহ্যিক অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার মূল মাটির নিচে তথা গোপন ও অদৃশ্য থাকবে। গোপনাংশ দ্বারা আল্লাহ বান্দার বাহ্যিক অংশকে সত্যায়িত করবেন।[5]

সালাফদের গোপন ইবাদতের অনুপম দৃষ্টান্ত:

১. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসে রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি এমন পুণ্যবান ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ পেয়েছি, যারা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করতে করতে নিজেদের বালিশ ভিজিয়ে ফেলতেন; অথচ একই বালিশে শায়িতা স্ত্রীও স্বামীর এ অবস্থা টের পেতেন না। এমন অনেকের সাক্ষাৎ পেয়েছি, যারা ছালাতের জন্য কাতারে দাঁড়িয়ে অশ্রু বিসর্জন দিতেন; অথচ তাঁর পাশের ব্যক্তিও তা অনুভব করতে পারত না।[6]

২. প্রখ্যাত বিদ্বান আইয়ূব আস-সাখতিয়ানী রাহিমাহুল্লাহ সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তা গোপন রাখতেন। যখন ফজরের সময় হতো, তখন তিনি এমন উঁচু আওয়াজ করতেন যেন মনে হতো তিনি এইমাত্র ঘুম থেকে জাগ্ৰত হলেন।[7]

৩. ইবনু ইসহাক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মদীনাবাসীরা জীবনোপকরণের বিভিন্ন সামগ্রী পেতেন; কিন্তু তারা বুঝতেই পারতেন না, কোথা থেকে এসব উপকরণ ও আসবাবপত্রের ব্যবস্থা ও আগমন ঘটত। অতঃপর যখন আলী ইবনুল হুসাইন ইন্তিকাল করলেন, তখন রাতের আঁধারে আসা সেই উপকরণও বন্ধ হয়ে গেল।[8]

৪. যায়েদা হতে বর্ণিত, মানছূর ইবনুল মু‘তামির দীর্ঘ ৪০ বছর রাত জেগে ইবাদত এবং দিনের বেলা ছিয়াম রেখে অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি অত্যধিক কান্নাকাটি করতেন। একারণে তার মা তাকে বলতেন, বাবা! তুমি কি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছ নাকি? (অধিক কান্নার কারণেই তার মা একথা জিজ্ঞেস করতেন)। তিনি উত্তরে বলতেন, মা, আমি আমার আত্মার অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত।

যখন সকাল হতো, তখন তিনি চোখে সুরমা লাগাতেন, মাথায় তেল দিতেন এবং ঠোঁট পরিপাটি করে মানুষের সামনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতেন। এর কারণ ছিল, মানুষ যেন তার গোপন ইবাদত সম্পর্কে টের না পায়।[9]

৫. আবূ শাসা রাবিয়া ইবনে ইয়াযীদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে এমনভাবে মসজিদে অবস্থান করেছি যে, মুয়াজ্জিন ফজরের আযান দিয়েছেন আর আমি সেখানে উপস্থিত থেকেছি, শুধু সফর বা অসুস্থতা ব্যতীত এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি।[10]

৬. বিখ্যাত তাবেঈ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুয়াজ্জিন ৩০ বছর ধরে আযান দিয়েছেন, আর আমি সে সময় মসজিদে উপস্থিত থেকেছি। ৫০ বছর যাবৎ আমার তাকবীরে তাহরীমা ছুটেনি। আর আমি ছালাতে কখনো মুছল্লীদের ঘাড় দেখিনি অর্থাৎ সর্বদা প্রথম কাতারেই অবস্থান করেছি।[11]

৭. হাসসান ইবনে আবী সিনান তার স্বামী সম্পর্কে বলেন, তিনি তার স্ত্রীর সাথে বিছানায় ঘুমাতেন। অতঃপর যখন বুঝতেন যে, তার স্ত্রী ঘুমিয়ে গেছে, তখন তিনি তাকে ফাঁকি দিয়ে উঠতেন যেমন মা তার ছোট্ট শিশুকে ফাঁকি দেয়।[12]

৮. ফুযাইল ইবনে ইয়ায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন সূর্য অস্ত যায়, তখন আমি আনন্দিত হই; কারণ রাতের অন্ধকারে আমি আমার রবের সান্নিধ্য লাভ করতে পারব। আর যখন সূর্য উদিত হয়, তখন আমি চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি।[13]

বর্তমান আলেম সমাজ ও গোপন ইবাদত:

বর্তমান আলেম সমাজের অবস্থা বলুন কিংবা সাধারণ মানুষের ইবাদতের কথা বলুন, প্রায় সকলের মধ্যেই ইবাদতে শৈথিল্য, নিয়্যতের প্রকাশ্য দুর্বলতা এবং আমল-আখলাকের মারাত্মক দৈন্য বিদ্যমান। সকলের অন্তরে লৌকিকতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও নিফাকের মতো ব্যাধি জেঁকে বসেছে। ফলে আজকের সমাজ ও অধিকাংশ মুসলিম গোপন ইবাদতের স্বাদ আস্বাদন করা থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে।

গোপন ইবাদতকে ইবাদতের রূহ তথা আত্মা বলা হয়। যার ইবাদত যত বেশি গোপনীয় হবে, তার দ্বীনের সৌন্দর্য, আত্মিক উন্নতি ও দুনিয়াবিমুখতা তত বেশি অর্জিত হবে। কারণ গোপন ইবাদত প্রত্যেক বান্দার জন্য ঢালস্বরূপ। যখন কোনো বান্দা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পতিত হয়, তখন সে এই ঢাল তথা হাতিয়ারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে দু‘আ করে বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে।

যুগে যুগে আমাদের পূর্বসূরীরা এভাবেই নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন। দুনিয়ার সব লোভ-লালসা, পদ-পদবি, তোষামোদ করে উপার্জন, মনোতুষ্টি অর্জন এবং শাসকের নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষাসহ সবকিছুর বন্ধন ছিন্ন করে তারা এক মহৎ জীবন গড়ে তুলেছিলেন। এজন্যই হাসান বাছরী বলেছেন, সে মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি এমন লোকদের সান্নিধ্যে থেকেছি, যারা দুনিয়াকে পায়ের তলার মাটির চেয়েও তুচ্ছ মনে করতেন।[14]

অথচ আমাদের দুনিয়ার প্রতি রয়েছে অগাধ লোভ ও লালসা। দুনিয়া অর্জনের জন্য কত ব্যস্ততা, দৌড়ঝাঁপ আর এদিক-ওদিক ছোটাছুটি! গোপন ইবাদতে মশগূল না হয়ে যতটুকু ইবাদত করা হয়, সেই ইবাদতের বরকতও নষ্ট করা হয় রিয়া তথা লৌকিকতার মাধ্যমে।

আগের যুগে মানুষকে ইবাদত দেখানোর বা শোনানোর সুযোগ ছিল স্থানগত সীমাবদ্ধতা ও ব্যক্তি-পরিসরে বার্তা ছড়ানোর মধ্যেই। কিন্তু আজকের এই প্রযুক্তির যুগে আমরা যেখানেই থাকি না কেন, ইবাদত প্রদর্শনের এক মহারোগ এমনভাবে আক্রমণ করেছে যে, তা সত্যিই ইবাদতের খুলুছিয়াতকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

আজকের যুগে ইবাদত প্রদর্শন বিভিন্ন মাধ্যমে হচ্ছে, যেমন- কেউ ছালাত আদায়ের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করছে, কেউ ছিয়ামের প্রচার করছে, আবার কেউ হজ্জ আদায়ের পর কা‘বার গিলাফ ধরে থাকা অবস্থার ছবি বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছে, কেউ আবার কুরবানীর চিত্রও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আশা করছে। এটাই বর্তমানের বাস্তবতা।

আবার যারা বিভিন্ন ওয়ায মাহফিল করেন, তাদের মধ্যেও অনেকেই সস্তা জনপ্রিয়তা, প্রসিদ্ধি লাভ এবং মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভঙ্গিমা ও আবেগপূর্ণ উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন, যা অনেক সময় নিয়্যতের অস্বচ্ছতার কারণে রিয়ার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

মিডিয়ার যুগে এসব এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, যেন মানুষকে না দেখালে বা না শোনালে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না, সমাদর পাওয়া যায় না। ফলে ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, দান-ছাদাক্বা ও দাওয়াতী কাজ সবকিছুই অনেক সময় লৌকিকতার মিশ্রণে ইবাদতের রূহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) অন্তরে প্রবেশ করে ইবাদতের মাহাত্ম্য নষ্ট করে দেয়। হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন,أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي، تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ অর্থাৎ ‘আমি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। যে ব্যক্তি কোনো কাজ করে আর ওই কাজে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে, তাহলে আমি ওই অংশীদারকে ও অংশীদারীকে (শিরক) প্রত্যাখ্যান করি’।[15]

একটু লক্ষ করুন! মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, গত ৪০ বছর যাবৎ যত কদম আমি হেঁটেছি, তার সবই ছিল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য। গত ৪০ বছর যাবৎ আল্লাহর প্রতি লজ্জাবশত কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আমি দৃষ্টিপাত করিনি। গত ৩০ বছর যাবৎ আমার দুই ফেরেশতাকে লেখার মতো কোনো পাপকর্ম আমি করিনি। আর যদি কখনো অল্প কিছু হয়েও থাকে, তবুও আমি তাদের দুজনকে লজ্জা পেয়েছি।[16]

সুবহানাল্লাহ! চিন্তা করুন, পূর্ববর্তী বিদ্বানগণ কীভাবে তাদের জীবনের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করেছেন। তারা তাদের সকল কর্ম লৌকিকতা থেকে মুক্ত রেখে কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সম্পাদন করতেন। ফলশ্রুতিতে তারা ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করেছেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হয়েছেন। সেখানে দুনিয়াবী কোনো স্বার্থ ছিল না, ছিল না মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ বা শোনানোর জন্য ঢাক-ঢোলের কোনো আয়োজন।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে আমলে একনিষ্ঠতা দান করুন এবং দুনিয়াবিমুখ একটি মহৎ জীবন গড়ার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

শিক্ষক, রাযিয়া হিফযুল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক একাডেমি, দিনাজপুর।


[1]. তাহযীবুল কামাল, ১৪/৪৬৪।

[2]. হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৪/২৭২।

[3]. ত্ববারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর, ৯/১৫৩।

[4]. ত্ববারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর, ৯/১৫৩।

[5]. জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম, পৃ. ৭৫।

[6]. তাহযীবুল কামাল, ২৮/৫৫৪।

[7]. তাযকিরাতুল হুফফায, ১/১৩১।

[8]. আল-মাহাজ্জাহ ফী সাইরিদ দুলজাহ, পৃ. ৫৬।

[9]. তাহযীবুল কামাল, ২৮/৫৫৪।

[10]. আহাদিছ ওয়া উযাত ফী ফাযলিত তাকবীরী ইলাছ ছালাত, পৃ. ৮।

[11]. প্রাগুক্ত।

[12]. ড. মুহম্মাদ বিন ইবরাহীম সুলায়মান আর-রূমী, ক্বিয়ামুল্লাইল, পৃ. ১০৩।

[13]. প্রাগুক্ত।

[14]. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৪২৭।

[15]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬৬৬; মিশকাত, হা/৫৩১৫।

[16]. ছিফাতুস ছাফ‌ওয়াহ, ৪/১৬৫।

Magazine