কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

যেসব দিনে ছিয়াম পালন করা নিষিদ্ধ

post title will place here

আল্লাহ রব্বুল আলামীনকে সন্তুষ্ট করার সেরা আমল হলো ছিয়াম। কিন্তু বছরে এমন কিছু দিন আছে, যে দিনগুলোতে ছিয়াম রাখা নিষিদ্ধ। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো—

১. দুই ঈদের দিন: ইবনু আযহারের আযাদকৃত দাস আবূ উবায়দা রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,شَهِدْتُ العِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَقَالَ هَذَانِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِمَا يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَاليَوْمُ الآخَرُ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ ‘আমি একদা ঈদে উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিন ছিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন—যে দিন তোমরা ছিয়াম ছেড়ে দাও তথা ঈদুল ফিতরের দিন এবং যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত খাও’।[1]

২. তাশরীকের দিন:[2] উম্মু হানী রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর আযাদকৃত দাস আবূ মুররাহ রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত,أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَلَى أَبِيهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَقَرَّبَ إِلَيْهِمَا طَعَامًا، فَقَالَ كُلْ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عَمْرٌو كُلْ فَهَذِهِ الْأَيَّامُ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِإِفْطَارِهَا وَيَنْهَانَا عَنْ صِيَامِهَا قَالَ مَالِكٌ وَهِيَ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ ‘একদা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের সাথে তাঁর পিতা আমর ইবনুল ‘আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট যান। তিনি তাদের উভয়ের সামনে খাবার এনে তা খেতে বললেন, আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি ছিয়ামরত আছি। আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনগুলোতে আমাদেরকে ছিয়াম ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ছিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন’। মালেক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘তা হলো তাশরীকের দিনগুলো’।[3] আয়েশা ও ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন,لَمْ يُرَخَّصْ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ أَنْ يُصَمْنَ إِلَّا لِمَنْ لَمْ يَجِدِ الهَدْيَ ‘যার নিকট কুরবানীর পশু নেই, তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে আইয়্যামে তাশরীকে ছিয়াম পালন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি’।[4]

৩. শুধু জুমআর দিন ছিয়াম পালন করা: আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, لَا يَصُومُ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الجُمُعَةِ إِلَّا أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ أَوْ يَصُومَ بَعْدَهُ ‘তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যেন শুধু জুমআর দিনে ছিয়াম পালন না করে, জুমআর পূর্বের দিন বা পরের দিন ছিয়াম না রেখে’।[5]

৪. শুধু শনিবার ছিয়াম পালন করা: আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর রাহিমাহুল্লাহ হতে তার বোন (আছ-ছামাই) সূত্রে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَا تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلَّا فِيمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا لِحَاءَ عِنَبَةٍ أَوْ عُودَ شَجَرَةٍ فَلْيَمْضُغْهُ ‘তোমাদের উপর ফরযকৃত ছিয়াম ব্যতীত তোমরা শনিবারে আর অন্য কোনো ছিয়াম পালন করো না। আঙুরের লতার বাকল বা গাছের ডাল ব্যতীত তোমাদের কেউ যদি আর কিছু না পায় (সেদিনের আহারের জন্য), তবে সে যেন তাই চিবিয়ে নেয় (ছিয়াম ভাঙার জন্য)’।[6]

৫. যার শা‘বান মাসে ছিয়াম পালন করাঅভ্যাস ছিল না, তার জন্য শা‘বান মাসের শেষার্ধে (অর্থাৎ ১৫ শা‘বানের পর থেকে) ছিয়াম পালন করা অপছন্দনীয়: আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا انْتَصَفَ شَعْبَانُ فَلَا تَصُومُوا ‘শা‘বান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তোমরা (নফল) ছিয়াম রাখবে না’।[7] উক্ত বর্ণনাকারী (আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে অনুরূপভাবে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لاَ يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمَهُ فَلْيَصُمْ ذَلِكَ اليَوْمَ ‘তোমরা কেউ রামাযানের একদিন কিংবা দুদিন পূর্ব হতে ছিয়াম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় ছিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে সে সেদিন ছিয়াম পালন করতে পারবে’।[8]

৬. সন্দেহের দিন ছিয়াম পালন করা: আম্মার ইবনু ইয়াসির রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে[9] ছিয়াম পালন করল, সে আবুল কাসেম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্যতা করল’।[10]

৭. সারা বছর ছিয়াম পালন করা, যদিও নিষিদ্ধ দিনগুলোতে ছিয়াম না রাখে: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন,يَا عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو إِنَّكَ لَتَصُومُ الدَّهْرَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ وَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ هَجَمَتْ لَهُ الْعَيْنُ وَنَهَكَتْ لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ ‘হে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর! তুমি তো একাধারে ছিয়াম পালন করে যাচ্ছ। সারা রাত ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাক। তুমি এরূপ করলে তাতে তোমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে। যে ব্যক্তি সর্বদা ছিয়াম পালন করল, সে মূলত ছিয়াম পালন করল না’।[11]

আবূ ক্বাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ تَصُومُ؟ فَغَضِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَوْلِهِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ عُمَرُ قَالَ رَضِينَا بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ غَضَبِ اللهِ وَمِنْ غَضَبِ رَسُولِهِ فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَدِّدُهَا حَتَّى سَكَنَ غَضَبُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ؟ قَالَ لَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ ‘একদা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কীভাবে ছিয়াম রাখেন?’ এতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু তা দেখতে পেয়ে বললেন, ‘আমরা আল্লাহকে আমাদের রব, ইসলামকে আমাদের দ্বীন এবং মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমাদের নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই’। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু উক্ত বাক্যটি বারবার বলতে লাগলেন, এক পর্যায়ে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টির ভাব দূরীভূত হলো। এরপর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ওই ব্যক্তি কেমন, যে সারা বছর ছিয়াম পালন করে? তিনি বললেন, ‘সে ছিয়াম পালন করেনি এবং ছিয়াম ভঙ্গও করেনি’।[12]

৮. স্বামী উপস্থিত থাকলে স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর নফল ছিয়াম পালন করা নিষেধ: আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لاَ تَصُومُ المَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ‘কোনো স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ব্যতীত নফল ছিয়াম রাখবে না’।[13]

পরিশেষে বলা যায় যে, ছিয়াম অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ আমল হওয়া সত্ত্বেও উপরিউক্ত দিনগুলোতে ছিয়াম না রাখাই সুন্নাহ। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন এবং সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার তাওফীক্ব দিন- আমীন!

শায়খ আব্দুল আযীম বাদাবী প্রণীত ‘আল-ওয়াজীয ফী ফিক্বহিস সুন্নাতি ওয়াল কিতাবিল আযীয’ বই থেকে সংগৃহীত।

মূল: ড. আব্দুল আযীম আল-বাদাবী

অনুবাদ: হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন

প্রিন্সিপ্যাল, দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাজীপুর।


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩৭; আবূ দাঊদ, হা/২৪১৬; তিরমিযী, হা/৭৭১।

[2]. أيام التشريق বা তাশরীকের দিন অর্থাৎ কুরবানীর দিন (১০ জিলহজ্জ)-এর পরবর্তী দিনগুলো। এগুলো দুই না তিন দিন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এগুলোকে তাশরীকের দিন বলা হয়, কারণ এই সময় কুরবানীর পশুর গোশত সূর্যের আলোয় থাকে। আরো বলা হয়েছে, সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত কুরবানীর পশু যবেহ করা হয় না। আরো বলা হয়েছে যে, ঈদের ছালাত সূর্যোদয়ের সময় পড়া হয়। আরও বলা হয়ে থাকে, তাশরীক অর্থ হলো প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর তাকবীর বলা (ফাতহুল বারী, ৪/২৮৫)

[3]. আবূ দাঊদ, হা/২৪১৮, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৯৭-১৯৯৮।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৮৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৪; আবূ দাঊদ, হা/২৪২০; তিরমিযী, হা/৭৪৩, শব্দ বিন্যাস তারই; ইবনু মাজাহ, হা/১৭২৩।

[6]. আবূ দাঊদ, হা/২৪২১; তিরমিযী, হা/৭৪৪, শব্দ বিন্যাস তারই; ইবনু মাজাহ, হা/১৭২৬; মিশকাত, হা/২০৩৬, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন। এ হাদীছের ব্যাপারে কথা আছে (ছহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ‘বাংলা’, ৪/২৪০, টীকা নং ৬১২)

[7]. আবূ দাঊদ, হা/২৩৩৭, শব্দ বিন্যাস তারই; তিরমিযী, হা/৭৩৮; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৫১, সমার্থক শব্দ; মিশকাত, হা/১৯৭৪, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৮২; আবূ দাঊদ, হা/২৩২৭; তিরমিযী, হা/৭৩৮; নাসাঈ, হা/২১৭৪; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৫০।

[9]. শা‘বান মাসের ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ তারিখ ছিয়াম রাখা এ সন্দেহে যে, হয়তো রামাযানের চাঁদ উঠেছে। -অনুবাদক

[10]. ইরওয়াউল গালীল, হা/৯৬১; তিরমিযী, হা/৬৮৬; আবূ দাঊদ, হা/২৩৩৪; নাসাঈ, হা/২১৮৮; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৪৫; মিশকাত, হা/১৯৭৭, আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৭৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯।

[12]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯; আবূ দাঊদ, হা/২৪২৫, শব্দ বিন্যাস তারই; নাসাঈ, হা/২৩৮১।

[13]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/১০২৬; আবূ দাঊদ, হা/২৪৫৮; তিরমিযী, হা/৭৮২; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৬১ ‘এতে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে’।

Magazine