কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন থেকে প্রজ্ঞা: কুরআনের জীবনদর্শন

post title will place here

ভূমিকা:

কুরআন মাজীদ মানুষকে শুধু ইবাদতের দিকনির্দেশনা দেয়নি, বরং এটি মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। ছাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা يَسْأَلُونَكَ অর্থাৎ ‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে’—এই শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

এই আয়াতগুলোর তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, প্রশ্ন মানবিক; উত্তর রব্বানী। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উত্তর শরীআতের মৌলিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করে। তৃতীয়ত, ইমাম ইবনু কাছীর ও ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ-এর মতো মহান মুফাসসিরগণ এসব আয়াত থেকে আক্বীদা, ফিক্বহ ও আখলাকের গভীর দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। এ আয়াতগুলো আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ইসলাম সকল যুগের সকল সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম।

আসুন! يَسْأَلُونَكَ বাক্য সংবলিত আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসীর অধ্যয়ন করি।

১. চাঁদ ও সময় নির্ধারণ:

আল্লাহ তাআলার বাণী,يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ ‘তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। বলুন, এগুলো মানুষের সময় ও হজ্জের সময় নির্ধারক’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৯)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন,يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ أَيْ عَنْ حِكْمَتِهَا فِي تَغَيُّرِهَا অর্থাৎ ‘তারা চাঁদের বৃদ্ধি-হ্রাসের হিকমত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন’।[1] ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, جُعِلَتْ مَوَاقِيتَ لِلنَّاسِ فِي الصِّيَامِ وَالْحَجِّ অর্থাৎ ‘চাঁদকে ছিয়াম ও হজ্জের সময় নির্ধারণের মাধ্যম করা হয়েছে’।[2]

মর্মার্থ: চাঁদের হিসাব ইসলামী শরীআতের মৌলিক ভিত্তি। এর মাধ্যমে রামাযান, যাকাত, ইদ্দত, লেনদেন ইত্যাদির মেয়াদ নির্ধারিত হয়।

২. ব্যয়ের খাত:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ ‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করেন, তারা কী ব্যয় করবেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২১৫)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, أُمِرُوا بِإِنْفَاقِ الْفَضْلِ مِنَ الْمَالِ অর্থাৎ ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।[3] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,الْخَيْرُ هُوَ الْمَالُ الطَّيِّبُ অর্থাৎ ‘খায়ের অর্থ পবিত্র ও হালাল সম্পদ’।[4]

মর্মার্থ: ব্যয়ের ক্রম হলো পিতা-মাতা, আত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির। সম্পদ অবশ্যই হালাল হতে হবে।

৩. হারাম মাসে যুদ্ধ:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ ‘তারা আপনাকে হারাম মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২১৭)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, وَإِنْ كَانَ كَبِيرًا فَصَدُّ النَّاسِ أَعْظَمُ অর্থাৎ ‘হারাম মাসে যুদ্ধ বড় অপরাধ, কিন্তু মানুষকে আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া আরও বড় অপরাধ’।[5] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, فِيهِ تَعْظِيمُ حُرْمَةِ الزَّمَانِ অর্থাৎ ‘এতে সময়ের পবিত্রতার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে’।[6]

মর্মার্থ: যুলক্ব‘দাহ, যুলহিজ্জাহ, মুহাররম, রজব এই চার মাসের সম্মান রক্ষা করা ওয়াজিব। তবে কুফর ও ফিতনা এর চেয়ে মারাত্মক।

৪. মদ ও জুয়া:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِر ‘তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২১৯)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, تَمْهِيدٌ لِتَحْرِيمِ الْخَمْرِ অর্থাৎ ‘এটি মদ হারামের দিকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞার সূচনা’।[7] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, فِيهِمَا مَفَاسِدُ دِينِيَّةٌ وَدُنْيَوِيَّةٌ অর্থাৎ ‘এতে ধর্মীয় ও দুনিয়াবী অনেক ক্ষতি রয়েছে’।[8]

মর্মার্থ: মদ ও জুয়ার ক্ষতি অপরিসীম। কারণ এর পরে সূরা আল-মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াতে মদ চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষিত হয়।

৫. প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয়:

আল্লাহ তাআলার বাণী, وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ ‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করেন, তারা কী ব্যয় করবেন। বলুন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ’ (আল-বাক্বারা, ২/২১৯)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, مَا فَضَلَ عَنْ حَاجَتِهِ অর্থাৎ ‘নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ’।[9] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, الْعَفْوُ هُوَ الزَّائِدُ عَنِ الْكِفَايَةِ অর্থাৎ ‘যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে’।[10]

মর্মার্থ: ইসলাম কৃপণতা ও অপচয়—উভয়কেই নিষিদ্ধ করেছে। বরং ইসলাম ব্যয়-ব্যবহারে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

৬. ইয়াতীমের হক্ব:

আল্লাহ তাআলার বাণী, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى ‘তারা আপনাকে ইয়াতীমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২২০)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, حِفْظُ أَمْوَالِهِمْ وَرِعَايَتُهُمْ অর্থাৎ ‘তাদের সম্পদ রক্ষা ও তাদের লালনপালন করা’।[11] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, وُجُوبُ رِعَايَةِ الْيَتِيمِ অর্থাৎ ‘ইয়াতীমের দায়িত্ব গ্রহণ করা ওয়াজিব’।[12]

মর্মার্থ: ইয়াতীমের সম্পদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে, দায়িত্বশীল ব্যক্তি শরী‘আত অনুমোদিত নিয়মে খেতে পারবে।

৭. ঋতুস্রাবের বিধান:

আল্লাহ তাআলার বাণী, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ‘তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-বাক্বারা, ২/২২২)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, أَيْ شَيْءٌ يُؤْذِي فَاجْتَنِبُوا جِمَاعَهُنَّ অর্থাৎ ‘এটি কষ্টদায়ক অবস্থা, তাই সহবাস থেকে বিরত থাকো’।[13] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, فِيهِ بَيَانُ أَحْكَامِ الْعِشْرَةِ অর্থাৎ ‘এতে দাম্পত্য সম্পর্কের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে’।[14]

মর্মার্থ: ঋতুস্রাব অবস্থায় সহবাস হারাম। তবে স্ত্রীর সাথে ওঠাবসা জায়েয।

৮. হালাল খাদ্য:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ ‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করেন, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে’ (আল-মায়েদা, ৫/৪)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, الطَّيِّبَاتُ هِيَ الْحَلَالُ النَّقِيُّ অর্থাৎ ‘পবিত্র ও হালাল জিনিস’।[15] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,كُلُّ مَا خَلَصَ مِنَ الْخَبَثِ অর্থাৎ ‘যা অপবিত্রতা থেকে মুক্ত’।[16]

মর্মার্থ: মূলনীতি হলো- পবিত্র বস্তু হালাল, অপবিত্র হারাম।

৯. গনীমতের মাল বণ্টন:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ ‘তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-ফুরক্বান, ৮/১)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, تَدْبِيرُهَا لِلْإِمَامِ অর্থাৎ ‘এর ব্যবস্থাপনা শাসকের দায়িত্ব’।[17] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, نِظَامُ تَقْسِيمِ الْأَمْوَالِ অর্থাৎ ‘সম্পদ বণ্টনের নিয়ম’।[18]

মর্মার্থ: গনীমতের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বায়তুল মাল ও রাষ্ট্রীয় খাতে যাবে। বাকি চার ভাগ মুজাহিদদের মাঝে বণ্টিত হবে।

১০. ক্বিয়ামতের সময়:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ ‘তারা আপনাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৮৭)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللَّهُ অর্থাৎ ‘এর জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই আছে’।[19] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, إِخْفَاؤُهَا لِلِابْتِلَاءِ অর্থাৎ ‘এটি মানুষের পরীক্ষা হিসেবে গোপন রাখা হয়েছে’।[20]

মর্মার্থ: ক্বিয়ামতের সময় গায়েব বিষয়ক জ্ঞান, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারও জানা নেই। বান্দার কাজ হলো প্রস্তুতি নেওয়া।

১১. রূহের স্বরূপ:

আল্লাহ তাআলার বাণী, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ ‘তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (বনী ইসরাঈল, ১৭/৮৫)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, اسْتَأْثَرَ اللَّهُ بِعِلْمِهِ অর্থাৎ ‘এর জ্ঞান আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন’।[21] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, مِنْ غَيْبِ اللَّهِ الَّذِي لَا يُدْرَكُ অর্থাৎ ‘এটি আল্লাহর অদৃশ্য জ্ঞান, যা মানুষ জানতে পারে না’।[22]

মর্মার্থ: রূহ আল্লাহর আদেশ। বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হোক, রূহের হাকীকত জানতে পারবে না।

১২. যুলকারনাইন:

আল্লাহ তাআলার বাণী, وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ ذِي الْقَرْنَيْنِ ‘তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আল-কাহফ, ১৮/৮৩)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, مَلِكٌ صَالِحٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُدْرَةَ অর্থাৎ ‘তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও ক্ষমতাবান শাসক’।[23] কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, الْمُلْكُ قَدْ يَكُونُ مَعَ الصَّلَاحِ অর্থাৎ ‘রাজত্ব বা ক্ষমতা কখনো কখনো সততার সাথেও থাকতে পারে’।[24]

মর্মার্থ: যুলকারনাইন ছিলেন একজন মুসলিম বাদশা। তিনি ইয়াজূজ-মাজূজের দেওয়াল নির্মাণ করেছিলেন।

১৩. পাহাড়ের পরিণতি:

আল্লাহ তাআলার বাণী, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ ‘তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (ত্ব-হা, ২০/১০৫)।

ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, كَالْهَبَاءِ الْمُنْبَثِّ অর্থাৎ ‘এটি ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে’।[25] কুরতুবী বলেন, فَنَاءُ الدُّنْيَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থাৎ ‘ক্বিয়ামতের দিন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে’।[26]

মর্মার্থ: ক্বিয়ামতের ভয়াবহতা বুঝাতে পাহাড়ের ধ্বংসের দৃশ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

১৪. ক্বিয়ামতের সময়:

আল্লাহ তাআলার বাণী, يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ ‘তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন’ (আন-নাযিআত, ৭৯/৪২)।

কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, إِخْفَاؤُهَا لِلتَّحْفِيزِ عَلَى الِاسْتِعْدَادِ অর্থাৎ ‘এটি প্রস্তুতির জন্য গোপন রাখা হয়েছে’।[27]

মর্মার্থ: সময় না জানার হিকমত হলো মানুষ যেন সর্বদা তওবা ও আমলে লেগে থাকে।

উপসংহার:

يَسْأَلُونَكَ বাক্য সংবলিত আয়াতসমূহ কুরআনের এক অনন্য মু‘জিযা। ১৪০০ বছর আগের প্রশ্ন, অথচ তার উত্তরে নিহিত রয়েছে আজকের সমস্যারও সমাধান।

এই আয়াতগুলো থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। প্রথমত, ইলমের প্রকৃত উৎস আল্লাহ। সকল জ্ঞানের মালিক তিনিই আর বান্দার জিজ্ঞাসার উত্তরও তিনিই প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, শরীআতের ব্যাপকতা। ইবাদত থেকে অর্থনীতি, যুদ্ধ থেকে পারিবারিক জীবন—মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তৃতীয়ত, মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। কিয়ামত ও রূহের মতো বিষয়ে মানুষের জ্ঞান সীমিত, এ ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের পূর্ণ আত্মসমর্পণ করাই মুমিনের কর্তব্য। চতুর্থত, আমলের আহ্বান। যা জানা হয়েছে, তার উপর আমল করা এবং যা অজানা, সে বিষয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা—এ দুটিই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

আল্লাহর তাআলার বাণী,وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ ‘আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যাতে রয়েছে প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা’ (আন-নাহল, ১৬/৮৯)।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন বুঝে পড়া, তাফসীর অধ্যয়ন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

সহকারী অধ্যাপক (আল-হাদীছ), শরীফবাগ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, ধামরাই, ঢাকা।


[1]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৮/৫১৬।

[2]. তাফসীরে কুরতুবী, ২/৩৪৭।

[3]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৮/৫৬৯।

[4]. তাফসীরে কুরতুবী, ২/৯১।

[5]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ১/৫৭৪।

[6]. তাফসীরে কুরতুবী, ৩/৯৮।

[7]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ১/৫৭।

[8]. তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১০৪।

[9]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ১/৫৭৯।

[10]. তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১০৬।

[11]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ১/৫৮১।

[12]. তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১০৯।

[13]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ১/৫৮৪।

[14]. তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১৭।

[15]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/১।

[16]. তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৩৯।

[17]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/২৮৪।

[18]. তাফসীরে কুরতুবী, ৭/২।

[19]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/২৩৬।

[20]. তাফসীরে কুরতুবী, ৭/১৯৮।

[21]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/৪৯।

[22]. তাফসীরে কুরতুবী, ১০/২০৭।

[23]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/১০৭।

[24]. তাফসীরে কুরতুবী, ১০/৩১৩।

[25]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/১৭৯।

[26]. তাফসীরে কুরতুবী, ১/১২৭।

[27]. তাফসীরে কুরতুবী, ১৯/১৯০।

Magazine