নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতে সাম্প্রতিক হিমবাহ ও পাথরধসের ঘটনা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংকেত দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চলের ‘পারমাফ্রস্ট’ বা স্থায়ী বরফস্তর দ্রুত গলে যাওয়াই এর মূল কারণ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লাখ লাখ টন পাথর ও কাদার এই ধস নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর স্বাভাবিক গতিপথ অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে ভাটির দেশ ভারত ও বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে। এই উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পলি ও ঢলের কারণে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর চরাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনাকে বৃদ্ধি করছে। অতিরিক্ত পলির কারণে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেবে এবং নদীর গতিপথ বদলে কৃষিজমি ও অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এই নজিরবিহীন সংকট মোকাবিলায় ভারত, নেপাল ও চীনের সাথে যৌথ উপগ্রহ নজরদারি ও রিয়েল-টাইম ডাটা শেয়ারিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ড্রেজিং, বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং চরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরী। উল্লেখ্য, (তথ্য: ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) নেপালে ভয়াবহ হিমবাহ ও পাথরধসে ১৩০০ জন নিহত এবং ৫৯০ বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ৪০০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কাদার তোড়ে বাড়িঘর, ছয়টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সীমান্ত পোর্ট বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় ৯৩,০০০ মানুষ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
