রুকূর মাঝেও বেশ কিছু সুন্নাত রয়েছে, নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো—
১. দুই হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরা এবং হাতের আঙুলগুলো প্রসারিত রাখা: আবূ হুমাইদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছালাত সম্পর্কে অধিক স্মরণ রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি (ছালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবীর বলে দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন আর যখন রুকূ করতেন, তখন দুই হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন...।[1] আবূ মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীছে রয়েছে, হাঁটুর চারপাশে আঙুলগুলো ছড়িয়ে রাখতেন…।[2]
২. রুকূতে পিঠ সমানভাবে প্রসারিত করা সুন্নাত: আবূ হুমাইদ সাঈদী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকূ করতেন, তখন দুই হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন...।[3]
অনুরূপভাবে মাথা উঁচুনিচু না রেখে সোজা পিঠ বরাবর সমান রাখা সুন্নাত: ছহীহ মুসলিমে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রুকূর ধরন বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, যখন তিনি রুকূ করতেন, তখন তিনি মাথা উঁচুও রাখতেন না, আবার নিচুও রাখতেন না। বরং মাঝামাঝি রাখতেন।[4]
৩. রুকূ অবস্থায় হাতের কনুই পার্শ্বদেশ থেকে আলাদা রাখা সুন্নাত: অর্থাৎ দুই হাত পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখবে। পূর্বের আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীছ। তাতে রয়েছে, তিনি (ইবনু মাসঊদ) রুকূ করলেন, অতঃপর তার দুই হাত পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখলেন, তারপর দুই হাত হাঁটুর উপর রাখলেন আর হাতের আঙুলগুলো প্রসারিত রাখলেন... এরপর তিনি বললেন, আমি এভাবেই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ছালাত আদায় করতে দেখেছি।[5]
ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দুই হাত পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখা মুস্তাহাব। এ বিষয়ে কোনো আলেম দ্বিমত করেছেন বলে আমার জানা নেই। ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ এব্যাপারে আলেমদের অভিমত বর্ণনা করেছেন যে, রুকূ ও সিজদাতে দুই হাত পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখা মুস্তাহাব।[6]
৪. রুকূতে রুকূর জন্য বর্ণিত দু‘আ পাঠ করা সুন্নাত:
রুকূতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আযীম’ পাঠসহ অন্যান্য দু‘আ পাঠ করা সুন্নাত। দু‘আসমূহ নিম্নরূপ-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
(ক) ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমি প্রশংসা সহকারে তোমার পবত্রিতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো’। এ দু‘আটি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।[7]
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلائِكَةِ وَالرُّوحِ
(খ) ‘(আল্লাহ) স্বীয় সত্তায় পবিত্র এবং গুণাবলিতেও পবিত্র, যিনি ফেরশতাকুল এবং জিবরীল আলাইহিস সালাম-এর প্রতিপালক’। এ দু‘আটি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।[8]
اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعَظْمِي وَعَصَبِي
(গ) ‘হে আল্লাহ! তোমার জন্যই রুকূ করেছি, একমাত্র তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি। একমাত্র তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কর্ণ, চোখ, মস্তিষ্ক, হাড়, স্নায়ূ তোমার ভয়ে-শ্রদ্ধায় বিনয়াবনত’। এ দু‘আটি আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।[9]
سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ
(ঘ) ‘ক্ষমা, রাজত্ব, বড়ত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী যিনি, তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি’।[10]
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৮২৮।
[2]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭০৮১; আবূ দাঊদ, হা/৮৬৩; নাসাঈ, হা/১০৩৮, হাদীছটির সনদ হাসান। ইবনু খুযায়মাতে বর্ণিত ওয়ায়েল ইবনু হুজর এর হাদীছটি তার শাহেদ হাদীছ।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৮২৮।
[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯৮।
[5]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭০৮১; আবূ দাঊদ, হা/ ৮৬৩; নাসাঈ, হা/১০৩৮, হাদীছটির সনদ হাসান। ইবনু খুযায়মাতে বর্ণিত ওয়ায়েল ইবনু হুজর এর হাদীছটি তার শাহেদ হাদীছ।
[6]. আল-মাজমূ‘, ৩/৪১০।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৯৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৮৪।
[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৮৭।
[9]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭১১।
[10]. আহমাদ, হা/২৩৪১১; আবূ দাঊদ, হা/৮৭৩; নাসাঈ, হা/১০৫০। আলোচ্য দু‘আটি আউফ ইবনু মালেকের হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন, আবূ দাঊদ, ৪/২৭।
