কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩১): আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি। সামনে আসছে ঈদে মীলাদুন্নবী। সেই দিন সরকারি ছুটি। সেই দিনে বড় খানার আয়োজন করা হয়৷ প্রশ্ন হলো, সেই খাবার কি আমার জন্য হালাল?

উত্তর: ইসলামে বাৎসরিক ঈদ মাত্র দুইটি তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ঈদ হলো ইবাদত। সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নাবী নামে নতুন ঈদ আবিষ্কার করা মানে নতুন ইবাদত আবিষ্কার করা, যা নিকৃষ্ট বিদআত। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ ؛ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ". ‘তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকো; কারণ (দ্বীনের মধ্যে) প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বিষয় হলো বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭)। অন্য হাদীছে এসেছে, وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ ‘আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭; নাসাঈ, হা/১৫৭৮)।  অপর হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে (বিদআত চালু করবে), তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিসম্পাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬৭)।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَمَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ ‘যে বিদআত করবে বা বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা, মানুষ এবং সকলের লা‘নত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরয আমল এবং কোনো নফল কবুল করবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৫৫)। সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নাবীর নামে প্রচলিত এই নিকৃষ্ট বিদআত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান ও খাবার বর্জন করতে হবে। কারণ এমন খাবারে বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা মানে উক্ত বিদআতকে সমর্থন করা, যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। বরং এসব আয়োজন প্রত্যাখ্যান করার ফায়েদা আছে, তা হলো, মানুষ এই বিদআত সম্পর্কে জানবে এবং আগামীতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।

Magazine