উত্তর : আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিল, ক্বিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার কাছে কোনো দলীল বা প্রমাণ থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, তার কাঁধে কোনো বায়‘আত নেই, সে জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৫১; মিশকাত, হা/৩৬৭৪)। ‘তার কোনো দলীল থাকবে না’ এই কথার উদ্দেশ্য হলো, لَاحُجَّةَ لَهُ فِي فِعْلِهِ وَلَا عُذْرَ لَهُ يَنْفَعُهُ ‘তার আনুগত্য ত্যাগের কোনো দলীল থাকবে না এবং এমন কোনো অজুহাত পেশ করতে পারবে না, যা তার সামান্য উপকারে আসবে’ (শারহুন নববী, ১২/২৪০ পৃ.)
বর্তমানে এই হাদীছগুলোকে দলীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা হাদীছের অর্থের বিকৃতি। হাদীছগুলো মূলত মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় নেতা বা খলীফা বা কেন্দ্রীয় শাসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা মুসলমানদের কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তারাই খারেজী তদেরই জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু হবে। যেমন শায়খ আলবানী (রহিঃ) বলেন,
واعلم أن الوعيد المذكور إنما هو لمن لم يبايع خليفة المسلمين وخرج عنهم وليس كما يتوهم البعض أن يبايع كل شعب أو حزب رئيسه بل هذا هو التفرق المنهي عنه في القرآن الكريم.
জেনে রাখা দরকার, উক্ত হুঁশিয়ারী বাণী ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে মুসলিম খলীফার হাতে বায়‘আত করেনি এবং মুসলিম জামা‘আত থেকে বের হয়ে গিয়েছে। বিষয়টা তেমন নয়, যেমনটা অনেকেই মনে করে থাকে যে, প্রত্যেক দল-উপদল তাদের প্রধানের হাতে বায়‘আত করবে। বরং এটা (দল-উপদলের প্রধানের হাতে বায়‘আত করা) মুসলিম সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করার শামিল। যা কুরআনুল কারীমে নিষেধ করা হয়েছে’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৮৪, ২/৬৭৭ পৃ.)।
-আনোয়ার হোসেন
কাশিমপুর, গাজীপুর।
