কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৭): কোনো মহিলা গর্ভবতী হওয়ার পর বাচ্চা হওয়ার আগে বাচ্চার লিঙ্গ মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে পারবে কি? এটা কি জায়েয নাকি এতে পাপ হবে?

উত্তর: মূল প্রশ্নের উত্তর জানার পূর্বে এটা জানা আবশ্যক যে, গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলা রাখেন; অন্য কেউ নয় (আন-নামল, ২৭/৬৫)। কোনো মাধ্যম ছাড়া অদৃশ্য বস্তু সম্পর্কে জানাকে ‘গায়েবের জ্ঞান’ বলা হয়। সুতরাং গর্ভস্থ বাচ্চার শারীরিক গঠন পূর্ণ হওয়ার পর আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে তার লিঙ্গ সম্পর্কে অবগত হওয়া কোনোভাবেই গায়েব জানার অন্তর্ভুক্ত নয় (মাজমূউল ফাতাওয়া, ইবনু উছায়মীন, ১/৬৮)। দ্বিতীয়ত, গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ জানার জন্য ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করা বা ডাক্তার কর্তৃক লিঙ্গ প্রকাশ করা উল্লেখযোগ্য দুইটি কারণে বৈধ নয়- ১. কিছু বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে জানা গেছে যে, গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ জানার পর লিঙ্গ কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় বাচ্চাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা বাচ্চার মাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ইসলামী শরীয়াহর একটি নীতি سد الذرائع (নিষিদ্ধ বিষয়ের মাধ্যম, ভূমিকা ও পথও নিষিদ্ধ) অনুযায়ী উক্ত কাজ অবৈধ। ২. বাংলাদেশে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ (দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রি.) আর প্রশাসনের নিয়ম মানা আবশ্যক; যদি ইসলামবিরোধী না হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৫৭)। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অগ্রিম খারাপ প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি উক্ত কাজ একটি অনর্থক কাজ। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির মুসলিম হওয়ার সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক কথা বা কাজ পরিত্যাগ করে’ (তিরমিযী, হা/২৩১৭)।

-খন্দকার সাদাত

ঢাকা। 


Magazine