কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১) : আমরা জানি আমাদের রিযিক্ব পূর্ব নির্ধারিত। এখন ধরে নিই একজন ব্যক্তি দুনিয়াতে সূদী ব্যাংকে চাকুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এর অর্থ এ রকম নয় কি যে, আল্লাহ তাআলা তার ভাগ্যে ঐ রুযী লিখে রেখেছেন বলে সে তা উপার্জন করছে?

উত্তর : প্রত্যেক প্রাণীর রিযিক্ব পূর্ব নির্ধারিত একথাই ঠিক। তবে আল্লাহ রিযিক্ব অন্বেষণের বৈধ ও অবৈধ পথ ও পন্থা কুরআন ও হাদীছের মাধ্যমে সুষ্পষ্ট করে দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫২)। সুতরাং বান্দা তার নির্ধারিত রিযিক্ব বৈধ পন্থায় অন্বেষণ করবে না অবৈধ পন্থায় অন্বেষণ করবে তা তার ইচ্ছাধীন রয়েছে। যদি সে বৈধ পন্থায় অন্বেষণ করে, তাহলে তা তার জন্য হালাল রিযিক্ব হিসাবে বিবেচিত হবে। আর যদি অবৈধ পন্থায় অন্বেষণ করে, তাহলে তা হারাম রিযিক্ব হিসাবে বিবেচিত হবে। এই মর্মে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো দেহ তার (নির্ধারিত) রিযিক্ব পরিপূর্ণভাবে ভোগ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং ধন-সম্পদ উপার্জনে উত্তম (বৈধ) নীতি অবলম্বন করো। কাঙ্ক্ষিত রিযিক্ব পৌঁছার বিলম্বতা যেন তোমাদের আল্লাহর অবাধ্যতার পথে তা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে (মিশকাত, হা/৫৩০০)। অপর বর্ণনায় রয়েছে- يَا أَيُّهَا النَّاسُ وَأَجْمِلُوا فِى الطَّلَبِ خُذُوا مَا حَلَّ وَدَعُوا مَا حَرُمَ ‘হে মানুষ সকল! তোমরা ধন-সম্পদ উপার্জনে উত্তম নীতি অবলম্বন করো। যা হালাল তা গ্রহণ করো আর যা হারাম তা বর্জন করো (সুনানূল কুবরা বায়হাক্বী, হা/১০৭০৮)। অতএব হারাম পথে উপার্জন করে, বিষয়টি আল্লাহর উপর চাপিয়ে দেওয়া জায়েয নয়। বরং ব্যক্তি হারাম পথ ছেড়ে দিয়ে বৈধ পথে রিযিক্ব অন্বেষণ করবে।

প্রশ্নকারী : নিবির হাসান

শাজাহানপুর, বগুড়া। 


Magazine