উত্তর : যেকোন বালা-মুছীবত পৃথিবীবাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে মানুষের পাপের ফলস্বরূপ অথবা পরীক্ষাস্বরূপ (রূম, ৪১; বাকারা, ১৫৫)। তাই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রথমত, আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে এবং ভুল-ত্রুটি ও পাপ থেকে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, কুরআন-হাদীছে বর্ণিত দু‘আর মাধ্যমে বিপদ-আপদ ও অসুখ-বিসুখ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। এ ধরনের কয়েকটি দু‘আ হলো : ১. ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুন্তু মিনায যোলেমীন’। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার নবী যুন-নূন (ইউনুস আলাইহিস সালাম) মাছের পেটে থাকা কালে যে দু‘আ করেছিলেন তা হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লা আমত্মা সুবহানাকা ইন্নী কুন্তু মিনাজ যোলেমীন’ অর্থ: ‘তুমি ব্যতীত কোনো মা‘বূদ নেই, তুমি অতি পবিত্র। আমি নিশ্চয় যালিমদের দলভুক্ত’ (আম্বিয়া, ৮৭)। কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে কখনো এ দু‘আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তার দু'আ কবুল করেন (তিরমিযী, হা/৩৫০৫; মিশকাত, হা/২২৯২)।
২. আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযূ বিকা মিনাল বারাছি, ওয়াল যুনূনী, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম’। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার নিকট কুষ্ঠ, ধবল, পাগলামি ও সর্বপ্রকার খারাপ রোগ থেকে পরিত্রাণ চাই’ (আবুদাঊদ, হা/১৫৫৪; মিশকাত, হা/২৪৭০)। ৩. ‘বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াযুর্রু মা‘আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরযি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম।’ আবান ইবনে ওছমান রাহিমাহুল্লাহ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, এবং তিনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে, ‘আল্লাহর নামে যার নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী’। সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো আকষ্মিক বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো আকষ্মিক বিপদ আসবে না।
কিন্তু আবান রাহিমাহুল্লাহ পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। তখন যে লোকটি তার থেকে হাদীছ শুনেছিল, তার দিকে তাকাচ্ছিল। তখন আবান রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, তোমার কী হয়েছে? তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো কেন? বিশ্বাস করো, আল্লাহর কসম! আমি ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিনি। আর ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহুও নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেননি। তবে যেদিন আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছিলাম, সেদিন রাগের বশে আমি এই দু‘আ পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম (আবুদাঊদ, হা/৫০৮৮; তিরমিযী, হা/৩৩৮৮; মিশকাত, হা/২৩৯১)।
-আইয়ুব আলী
দুবাই।
