কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৯) : জীবন বীমাসহ আরো যে সকল বীমা রয়েছে তা কি বৈধ?

উত্তর : প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার কোনোটিই বৈধ নয়। কেননা প্রথমত, এখানে দাতাপক্ষের টাকা নিয়ে দ্বিগুণ বিনিময় দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারী পক্ষ লাভবান হয়। কিন্তু যদি বিনিয়োগকারী পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দাতাপক্ষের সমস্ত টাকাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা এক প্রকার জুয়ার শামিল। আর ইসলামে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা কবীরা গুনাহ (মায়েদাহ, ৯০-৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৬)। দ্বিতীয়ত, এটি একটি সূদভিত্তিক লেনদেন। কেননা একটি নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দাতাপক্ষ তার প্রদেয় টাকার দ্বিগুণ গ্রহণ করে থাকে, যা নিঃসন্দেহে হারাম (বাক্বারাহ, ২৭৫-২৭৬; ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৪১৭৬)। তৃতীয়ত, এটি এক প্রকার ধোঁকা, কেননা দাতাপক্ষকে কী পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে তা সাধারণত তাকে জানানো হয় না। তাই এটা একটি অনির্দিষ্ট বস্তু প্রাপ্তির চুক্তি, যা নিষিদ্ধ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৮১, আবুদাঊদ, হা/৩৩৭৮; মিশকাত, হা/২৮৫৪)। চতুর্থত, জীবন বীমার মাধ্যমে অন্য পরিবারের যে ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়া হয়, এমনটি শারঈ বিধান নয়। কেননা সে পরিবার কীভাবে চলবে তা আল্লাহ্র যিম্মাদারীতে রয়েছে।

-মুহাম্মদ বিল্লাল

ওয়ারী, পুরান ঢাকা।


Magazine