উত্তর : যিনা কাবীরা গুনাহের অন্যতম। আল্লাহ তা‘আলা বার বার এই জঘণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (বানী ইসরাঈল, ৩২; নূর, ২)। যিনা বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। নিজের স্ত্রী বা দাসী ব্যতীত অন্য মহিলার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করাকে যৌনাঙ্গের যিনা বলে। এছাড়া চোখের যিনা হচেছ দেখা, মুখের বা জিহবার যিনা হচ্ছে কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬২৪৩; মিশকাত, হা/৮৬)। যিনাকারীর শাস্তি হলো- অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং বিবাহিতের শাস্তি হচ্ছে রজম করা তথা কোমর পর্যন্ত পুতে পাথর মেরে হত্যা করা (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯০; ইবনু মাজাহ, হা/২৫৫০; মিশকাত, হা/২৫৫৮)। উল্লেখ্য, দেশের শাসক বা তার প্রতিনিধিই কেবল এই শাস্তি কার্যকর করবেন (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২২/৩৫ পৃ.)। যিনা-ব্যভিচার যেহেতু কাবীরা গুনাহ, সেহেতু তওবা ব্যতীত এ গুনাহ মাফ হয় না। ব্যভিচারী ব্যক্তি ঐ গর্হিত কর্ম থেকে ফিরে আসার জন্য অনুতপ্ত হয়ে খাছ অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ (তওবা, ৮২; ফুরকান, ৬৮-৭০)। তবে যিনার কারণে তার ইবাদত কবুল হবে না এই মর্মে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা শরী‘আতে পাওয়া যায় না। বরং ইবাদতই হবে তার তওবার মাধ্যম ও পাপ মোচনের পথ। সুতরাং তার উচিত তওবা ও পাপ মোচনের লক্ষ্য বেশি বেশি ইবাদত করবে। আল্লাহ চাইলে তার তওবা কবুল করবেন এবং তার ইবাদতও কবুল করবেন।
-মাহদী হাসান পরশ
মনিরামপুর, যশোর।
