কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৫) : ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার দাফন-কাফনে বাধা দিতে পারে কি?

উত্তর : না, ঋণগ্রহীতার দাফন-কাফনে বাধা দেয়া উচিত নয়; বরং ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হলে ঋণদাতাকে অপেক্ষা করা উচিত। আর ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে তা দান করা কিংবা ক্ষমা করা উত্তম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি ঋণগ্রহিতা অভাবগ্রস্ত হয় তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। তবে তোমাদের জন্য দান করাই উত্তম’ (বাক্বারাহ, ২৮০)। উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য উচিত মৃত্যু আসার পূর্বে ঋণ পরিশোধ করা এবং উপায় না থাকলে ওয়ারিছগণকে সে ব্যাপারে অছিয়ত করে যাওয়া। অন্যথা তার আত্মা ঝুলন্ত থাকবে (তিরমিযী, হা/১০৭৮, ‘জানাযা’ অধ্যায়)। এসব ব্যক্তির জানাযার ছালাত রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়াননি। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাযা উপস্থিত করা হলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে গেছে কি? যদি বলা হত যে, ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে গেছে, তবে তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করতেন। অন্যথা মুসলিমদেরকে বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার ছালাত পড়ে নাও’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৯৮, ৫৩৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬১৯; মিশকাত, হা/২৯১৩)। ঋণের ব্যাপারে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি উপরিউক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে যায় তাহলে সে দায়ী থাকবে। পক্ষান্তরে ওয়ারিছগণ যদি তার ঋণ পরিশোধ না করে তাহলে তারা অপরাধী হবে। কেননা মৃতের পরিত্যক্ত সম্পদ দিয়ে সর্বপ্রথমে তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর ঋণ পরিশোধ করতে হবে ও অছিয়ত পুরা করতে হবে। তবে অছিয়ত যেন এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের বেশি না হয়। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পদ ওয়ারিছগণের মধ্যে তাদের অংশ মোতাবেক বণ্টন হবে।

-রহমতুল্লাহ

 আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,

 ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।


Magazine