উত্তর : বীমার ধারণাটাই ইসলামী অর্থনীতির বিরোধী এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির অনুসঙ্গ। ইসলামী শরী‘আতে ব্যবসা-বাণিজ্য মাত্র দু’ধরনের : (১) ‘মুশারাকাহ’ (مشاركة) অর্থাৎ শরীকানা ব্যবসা। এতে লাভ অংশহারে বণ্টন হবে। অর্থাৎ যার যেমন অর্থ থাকবে, সে তেমন লভ্যাংশ পাবে (আবুদাঊদ, হা/৪৮৩৬, সনদ ছহীহ; বুলূগুল মারাম, হা/৮৭০; নায়লুল আওতার, হা/২৩৩৪-৩৫)। (২) ‘মুযারাবাহ’ (مضاربة) অর্থাৎ এক জনের অর্থ এবং অপর জনের ব্যবসা। যাতে লাভ চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন হবে (দারাকুৎনী, হা/৩০৭৭; মুওয়াত্ত্বা, হা/২৫৩৫; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৪৭২, ৫/২৯২; বুলূগুল মারাম, হা/৯০৫, মওকূফ ছহীহ)। বর্তমান যুগে অনেক প্রতারণাপূর্ণ বীমা ও ব্যবসা বেরিয়েছে যা থেকে বেঁচে থাকা মুমিনের কর্তব্য। কারণ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে আমাদের সাথে প্রতারণা করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০২; মিশকাত, হা/২৮৬০)। তিনি বলেন, ‘তুমি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে নিঃসন্দেহের দিকে ধাবিত হও’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭২৩; তিরমিযী, হা/২৫১৮; নাসাঈ, হা/৫৭১১; মিশকাত, হা/২৭৭৩)। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহে পতিত হলো, সে হারামে পতিত হলো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯; মিশকাত, হা/২৭৬২)। প্রচলিত ইসলামী বীমাসমূহ স্পষ্টভাবে হালাল নয়, বরং সন্দেহ যুক্ত। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা উত্তম।
-মাইনুল ইসলাম
নাটোর সদর, নাটোর।
