কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১২) : কেউ কবরস্থানে গেলে মৃত ব্যক্তিরা কি তা বুঝতে পারে?

উত্তর : না, কোনো ব্যক্তি কবরস্থানে গেলে মৃত ব্যক্তিরা তাদের ব্যাপারে কোনো কিছু বুঝতে ও শুনতে পারে না। কেননা মানুষ যখন কবরস্থ হয়ে যায়, তখন সে বারযাখি জগতে চলে যায়। যে জগতের সাথে দুনিয়া জগতের কোনো প্রকারের সম্পর্ক থাকে না। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না এবং বধিরকেও আপনার আহবান শোনাতে পারবেন না, যখন তারা পৃষ্ট প্রদর্শন করে’ (রূম, ৫২)। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘(হে রাসূল!) আপনি কবরে শায়িতদের শোনাতে সক্ষম নন’ (ফাতির, ২২)। উল্লেখ্য, কয়েকটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, মৃতরা জীবিতদের আওয়ায শুনতে পায়। যেমন: ১. মৃতকে কবরস্থ করে রেখে আসার সময় কবরস্থ ব্যক্তি ফিরে আসা ব্যক্তিদের জুতার আওয়ায শুনতে পায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩৮)। ২. বদর প্রান্তরে অবস্থিত একটি নোংরা ও আবর্জনাপূর্ণ কূপে ২৪ জন কুরাইশ নেতার লাশ নিক্ষেপ করা হলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কূপের পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়ান এবং কূপে নিক্ষিপ্ত মরদেহ ও তাদের বাপ-দাদার নাম ধরে ডেকে বলতে লাগলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি এখন বুঝতে পারছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে এখন খুশী হতে পারতে? আল্লাহ আমাদের সঙ্গে যে অঙ্গীকার করেছিলেন আমরা তা পুরোপুরি সঠিক পেয়েছি। তোমরা কি তোমাদের প্রভুর ওয়াদা সঠিক পেয়েছ? তখন ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে সমস্ত দেহে প্রাণ নেই আপনি তাদের সাথে কথা বলছেন? নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমি যা বলেছি, তা তোমরা তাদের চাইতে অধিক শুনতে পাওনি। অন্য বর্ণনায় আছে, তোমরা তাদের অপেক্ষা অধিক শুনতে পাওনি; কিন্তু তারা জবাব দিতে পারে না (ছহীহ বুখারী, হা/৩৯৭৬, ১৩৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৭৩; মিশকাত, হা/৩৯৬৭)। ৩. নাসাঈর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা এখন তোমাদের চেয়ে অধিক শুনতে পাচ্ছে’ (নাসাঈ, হা/২০৮৮) ইত্যাদি। এর সমাধান হলো, প্রথমত, এসব ঘটনা ব্যক্তি, অবস্থা ও সময়ের সাথে নির্দিষ্ট। কেননা দাফনকৃত ব্যক্তি ফিরে আসা ব্যক্তিদের জুতার আওয়ায শুনার বিষয়টি মূলত নব্য দাফনকৃত ব্যক্তি ও সে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট। দ্বিতীয়ত, মুশরিক নেতাদের শুনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘এখন’ কথাটি উল্লেখ করেছেন। যা সে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট ছিল। এ মর্মে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ক্বাতাদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জীবিত করেছেন, যাতে করে তিনি তাদেরকে তিরস্কার, ক্ষুদ্রকরণ, ঘৃণা, পরিতাপ ও অনুশোচনার কথা শুনাতে পারেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৯৭৬)।

-রাশিদুল ইসলাম

খানসামা, দিনাজপুর।


Magazine