কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৪): ইসলামে নারীদের বহুবিবাহের অনুমতি নেই। পুরুষের বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়া আছে। এর হিকমত কী?

উত্তর: ইসলামী শরীআহ অনুযায়ী একজন নারী তার স্বামীর অধীনে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু বিধবা বা তালাকপাপ্তা নারীর জন্য অন্য পুরুষকে বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত ‘বহুবিবাহের অনুমতি নেই’ বাক্যটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ।

অনুরূপভাবে পুরুষের ‘বহুবিবাহের অনুমতি আছে’ বাক্যটিও ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। কারণ ইসলাম বিশৃঙ্খলভাবে পুরুষকে বহুবিবাহের অনুমতি দেয়নি। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও শর্তাবলি রয়েছে। অতঃপর জানা উচিত যে, প্রত্যেক মুসলিমকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে, ইসলামের প্রত্যেকটি বিধানে আল্লাহ তাআলার হিকমত এবং মানুষের কল্যাণ রয়েছে, মানুষের সেটা বুঝে আসুক বা না আসুক। উল্লিখিত বিধানে বাহ্যিকভাবে যে হিকমত বুঝে আসে তা হলো, পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে মুসলিম উম্মাহ, নারীজাতি ও তার নিজের কল্যাণ বিবেচনা করে। মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ: যেমন- তাওহীদপন্থী ও মুজাহিদদের সংখ্যা বৃদ্ধি। নারীজাতির কল্যাণ: যেমন- ১. বর্তমান পৃথিবীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী নারীদের জনসংখ্যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি এবং এটা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে, ইন-শা-আল্লাহ! সুতরাং পুরুষ যদি একজন স্ত্রীতে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অনেক নারী বিবাহবঞ্চিত থাকবে। ২. সমাজে বিধবা, তালাকপাপ্তা ও অসহায় নারীদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তাই সামর্থ্যবান পুরুষদের এসব নারীদের দায়িত্ব নিতে হবে। পুরুষের কল্যাণ: যেমন- ১. কখনো স্ত্রী গর্ভধারণে অক্ষম হয়ে থাকে, তখন বংশধারা রক্ষার্থে একাধিক বিয়ের প্রয়োজন পড়ে। ২. স্ত্রীর হায়েয, নিফাস বা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় স্বামীর যৌনচাহিদা পূরণের প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী থাকলে সমাধান হয়ে যায়। ৩. অনেক পুরুষের যৌনচাহিদা বেশি থাকে। এক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী থাকা উত্তম সমাধান।

অনুরূপভাবে নারীকে স্বামীর অধীনে থাকা অবস্থায় একাধিক বিয়ের অনুমতি প্রদান করা হয়নি মুসলিম উম্মাহ, পুরুষজাতি ও তার নিজের কল্যাণ বিবেচনা করে। মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ: যেমন- যেহেতু নারীদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যা কম। তাই নারী যদি একাধিক বিয়ে করে, তাহলে অনেক নারী বিবাহবঞ্চিত থাকবে। এতে ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে। ফলে অশ্লীলতা, ব্যভিচার ও জারজ সন্তানের আধিক্যের কারণে মুসলিম উম্মাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পুরুষজাতির কল্যাণ: ১. আল্লাহ তাআলা পুরুষদের সৃষ্টি করেছেন গায়রত বা আত্মমর্যাদাবোধ দিয়ে। কোনো সুস্থ রুচির পুরুষ তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে মেনে নিতে পারে না। ২. পুরুষ বিয়ে করে বংশধারা রক্ষার্থে। অথচ স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকলে জন্ম নেওয়া সন্তানের পিতা নিশ্চিত করা যাবে না। ফলে বিয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে, পাশাপাশি সন্তানের দাবি নিয়ে হানাহানি হবে। নারীর কল্যাণ: যেমন- ১. নারীকে আল্লাহ তাআলা এমন মর্যাদাবোধ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে, সে একজন স্বামীর অধীনে থাকা অবস্থায় বহুগামিতা (একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক) পছন্দ করে না এবং এটাই বাস্তব। পশ্চিমা সংস্কৃতি লালন করা নারীদের রুচি বিকৃত, তাই তারা পছন্দ করতে পারে। ২. উক্ত বহুগামিতা প্রথমত নারীর এইডস রোগসহ আরও বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর সেটা পুরো সমাজে ছড়ায়। এছাড়াও আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। এর মূল কারণ একমাত্র আল্লাহ তাআলা জানেন। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রতিটি বিধান দ্বিধাহীন চিত্তে মেনে নেওয়ার এবং আমল করার তাওফীক দান করুন- আমীন!

প্রশ্নকারী : তানযিলা

বরিশাল।


Magazine