কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩) : মুশরিকদের স্থান জাহান্নাম, তাহলে যারা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে, তারা শাস্তি ভোগ করার পরে জান্নাতে যাবে কি?

উত্তর : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি প্রদান করার অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বূদ নেই। সুতরাং এ কথার স্বীকৃতি প্রদানের পরে কেউ শিরক করতে পারে না। তাই কোনো মুশরিক যদি মুখে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে কিন্তু ঈমান ও আমলে তা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তাদের আমল বিনষ্ট হবে এবং তাদের স্থান হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। তারা কখনোই জান্নাতে যেতে পারবে না। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন এবং তার বাসস্থান হচ্ছে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই’ (মায়েদাহ, ৭২)।

উলেস্নখ্য যে, সূরা হূদের ১০৭ ও ১০৮ নং আয়াতে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামীদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তারা অনন্তকাল সেখানে থাকবে, যে পর্যন্ত আসমান ও যমীন স্থায়ী থাকবে। তবে আল্লাহ অন্য কিছু চাইলে ভিন্ন কথা’। উক্ত আয়াত থেকে অনেকে বুঝেছেন যে, জাহান্নামে কাফের-মুশরিকদের শাস্তি স্থায়ী হবে না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তি হবে। অর্থাৎ যতদিন আসমান ও যমীন বিদ্যমান থাকবে, ততদিন তাদের শাস্তি হবে। উক্ত ধারণা সঠিক নয়। কারণ আরবদের রীতি ছিল, কোনো জিনিসের স্থায়িত্ব বুঝানোর জন্য তারা বলত هذا دائم دوام السماوات والارض ‘আসমান ও যমীনের ন্যায় এটা চিরস্থায়ী’। আরবদের এই ভাষারীতিই কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ কাফের-মুশরিকরা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে। এ বিষয়ে কুরআনের বহু আয়াতে বর্ণিত রয়েছে। যেমন সূরা বাক্বারাহ, ১৬১-৬২; আলে ইমরান, ৮৮; তওবা, ৬৮; আহযাব, ৬৪-৬৫; যুমার, ৭২ প্রভৃতি। এ ছাড়া অনেক ছহীহ হাদীছে জাহান্নামীদের চিরস্থায়ী শাস্তির কথা বলা হয়েছে। যেমন- ‘মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত রংয়ের একটি দুম্বার আকৃতিতে হাযির করে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে যবেহ করা হবে। অতঃপর বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! মৃত্যুহীন স্থায়ী জীবন যাপন করো। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যুহীন স্থায়ী জীবন যাপন করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৭৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৪৯)। দ্বিতীয়ত, আসমান ও যমীন থেকে জিনস উদ্দেশ্য। অর্থাৎ দুনিয়ার আসমান ও যমীনের ধ্বংসের পর পরকালে আল্লাহ যে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করবেন, তা হবে চিরস্থায়ী। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে’ (ইবরাহীম, ৪৮)। উক্ত (হূদের ১০৭ ও ১০৮) আয়াতের শেষাংশে ‘আল্লাহ যদি অন্য কিছু চান’ দ্বারা পাপী মুমিনদের বুঝানো হয়েছে। যারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাহান্নামে শাস্তি ভোগের পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, হূদ, ১০৭ ও ১০৮ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্র.)। আরও উল্লেখ্য যে, একটি জাল হাদীছে এসেছে যে, ‘একদিন জাহান্নামের অবস্থা এমন হবে, সেখানে একজন আদম সন্তানও আর অবশিষ্ট থাকবে না’ (ইবনুল জাওযী, কিতাবুল মাওযূ‘আত ৩/২৬৮ ‘জাহান্নাম খালি হয়ে যাওয়া’ অনুচ্ছেদ)। উক্ত জাল হাদীছ দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। মোটকথা, কাফের-মুশরিকরা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে। তবে ঈমানদার পাপীরা তাদের পাপের শাস্তি ভোগের পর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফা‘আতক্রমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

-নূরুল ইসলাম

নীমতলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।


Magazine