উত্তর : স্ত্রী উপার্জন করে যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় অথবা যে কোনোভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে তার যাকাত তাকেই আদায় করতে হবে। স্ত্রী যদি স্বামীকে ওয়াকীল নির্ধারণ না করে এবং স্বামী তার পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করে দেয়, তাহলে এই যাকাত আদায় হবে না। কেননা যাকাত হলো একটি ইবাদত। আর ইবাদতের জন্য নিয়্যত শর্ত। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল’ (ছহীহ বুখারী, হা/১; আবূ দাউদ, হা/২২০৩; মিশকাত, হা/১)। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ঈদুল আযহা অথবা, ঈদুল ফিতরের দিনে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং ছালাত শেষ করলেন। পরে লোকদের উপদেশ দিলেন এবং তাদের ছাদাক্বা করার নির্দেশ দিলেন আর বললেন, লোক সকল! তোমরা ছাদাক্বা করো। অতঃপর মহিলাগণের নিকট গিয়ে বললেন, মহিলাগণ! তোমরা ছাদাক্বা করো। আমাকে জাহান্নামে তোমাদেরকে অধিক সংখ্যক দেখানো হয়েছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এর কারণ কী? তিনি বললেন, তোমরা বেশি অভিশাপ দিয়ে থাকো এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো। হে মহিলাগণ! জ্ঞান ও দ্বীনে অপরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দৃঢ়চেতা পুরুষের বুদ্ধি হরণকারিণী তোমাদের মতো কাউকে দেখিনি। যখন তিনি ফিরে এসে ঘরে পৌঁছলেন, তখন ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী যায়নাব রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! যায়নাব এসেছেন। তিনি বললেন, কোন যায়নাব? বলা হলো ইবনু মাসঊদের স্ত্রী। তিনি বললেন, হ্যঁা, তাকে আসতে দাও। তাকে অনুমতি দেওয়া হলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ আপনি ছাদাক্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার অলংকার আছে। আমি তা ছাদাক্বা করার ইচ্ছা করেছি। ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু মনে করেন, আমার এ ছাদাক্বায় তার এবং তার সন্তানদেরই হক্ব বেশি। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু ঠিক বলেছেন। তোমার স্বামী ও সন্তানই তোমার এ ছাদাক্বার অধিক হাক্বদার (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৬২)। এ হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, স্ত্রীর যাকাত স্ত্রীকেই আদায় করতে হয় এবং স্বামী ও সন্তানাদী গরীব হলে তারাই এই মালের বেশি হক্বদার। সামর্থ্য থাকলে স্ত্রী কুরবানী করতে চাইলে কুরবানী করতে পারে। উম্মে সালমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যিলহজ্জের দশম তারিখে তোমাদের কেউ কুরবানী করতে চাইলে সে যেন কুরবানী না করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে’ (নাসাঈ, হা/৪৩৬৩; মিশকাত, হা/১৪৫৯)। তবে পরিবারের কর্তা কুরবানী দিলে সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে (তিরমিযী, হা/১৫১৮; আবূ দাঊদ, হা/২৭৮৮, সনদ ছহীহ; ইবনু মাজাহ, হা/৩১২৫, সনদ হাসান)।
-তরীকুল ইসলাম
ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।
