উত্তর: খতমে তারাবীহ নামে কুরআনের অশুদ্ধ তেলাওয়াত এবং ভুলত্রুটি পরোয়া না করে যেভাবে কুরআন খতম করা হচ্ছে এটা তারাবীহর ছালাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। খতমে তারাবীহর নামে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে চাঁদা তুলে টাকাপয়সা খরচ করে একাধিক ইমাম দিয়ে কুরআন খতম করানো হচ্ছে এটা তারাবীহর ছালাতের উদ্দেশ্য নয়। খতমে তারাবীহর নামে ছালাতের ধীরস্থিরতা ও বিনয়ী ভাব ক্ষুণ্ন করে তারাবীহ পড়া তারাবীহর ছালাতের উদ্দেশ্য নয়। বরং জামাআতে হোক বা একাকী হোক দীর্ঘ কিয়াম, রুকূ, সিজদার মাধ্যমে বিনয়ী হয়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার আশায় তারাবীহর ছালাত আদায় করাই হচ্ছে এই ছালাতের উদ্দেশ্য, যা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। তাই তাড়াহুড়া না করে ধীরস্থিরভাবে তেলাওয়াত করতে হবে। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান ও রামাযানের বাইরে এগারো রাকাআতের বেশি (কিয়ামুল লায়ল) ছালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকআত ছালাত আদায় করতেন (এমনভাবে যে) তুমি এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য নিয়ে আর জিজ্ঞাসা করো না! এরপর তিনি (আরও) চার রাকআত ছালাত আদায় করতেন (এমনভাবে যে) এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য নিয়ে আর জিজ্ঞাসা করো না! এরপর তিনি তিন রাকআত ছালাত আদায় করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৭)। তবে কেউ যদি শুদ্ধভাবে ও ধীরস্থিরতার সঙ্গে তিলাওয়াত করে কুরআন খতম করতে পারেন, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই।
প্রশ্নকারী : মাজেদুর রহমান
