উত্তর: আযানের পর হোক বা অন্য যেকোনো সময় মসজিদের আদব রক্ষা করা আবশ্যক। মসজিদ আল্লাহর নিকট পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় স্থান। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর নিকট (পৃথিবীর) সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদসমূহ এবং আল্লাহর নিকট (পৃথিবীর) সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হলো বাজারসমূহ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭১)। সুতরাং আল্লাহর প্রিয় স্থানে তাঁর অপ্রিয় স্থানের পরিস্থিতি তৈরি করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অন্য হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إياكم وهيشات الأسواق ‘খবরদার! তোমরা (মসজিদে) বাজারের মতো শোরগোল, ঝগড়া ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩২)। এছাড়াও মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা নিষেধ। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু দুজন ব্যক্তিকে বললেন, যদি তোমরা স্থানীয় হতে, তাহলে তোমাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছ! (ছহীহ বুখারী, হা/৪৭০)। আর এসময় বেশি বেশি দু‘আ করা উচিত। কেননা আযান ও ইকামতের মাঝে দু‘আ ফেরত দেওয়া হয় না (আবূ দাঊদ, হা/৫২১)। মসজিদে বাজারের মতো পরিবেশ দেখলে করণীয় হলো, উক্ত হাদীছগুলোর মাধ্যমে নছীহত করা, হুমকিধামকি বা চিল্লাচিল্লি না করা; অন্যথায় মসজিদের পরিবেশ আরও নষ্ট হবে। খতীব ছাহেবের উচিত জুমআর খুৎবায় এ বিষয়ে মুছল্লীদের সতর্ক করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ‘আপনি আহ্বান করুন আপনার রবের পথে, হিকমত (প্রজ্ঞা) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে…’ (আন-নাহল, ১৬/১২৫)।
প্রশ্নকারী : তাহমিদ
