কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

কুরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে তাওহীদের আলো ও শিরকের অন্ধকার (পর্ব-২)

 (জানুয়ারী’১৯ সংখ্যায় প্রকাশিতের পর)

তাওহীদের প্রকার সমূহ :

সকল বান্দার ইবাদাত পাওয়ার একমাত্র হকদার মহান আল্লাহ তাআলা। ইবাদতের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠচিত্তে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করাকে তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ বলা হয়,। আর এটাই ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ। আর তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ-এর মধ্যে সকল প্রকার তাওহীদ বিদ্যমান ।[1]

তাওহীদ দুই ভাগে বিভক্ত:

(১) তাওহীদুল খাবারী আল-ইলমী আল-ই‘তিক্বাদী’।[2] এটা জ্ঞানগত তাওহীদ।এই প্রকার তাওহীদ বা এককত্বকে ’’তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ ও আসমা ওয়া ছিফাত বলে। আর তা হচ্ছে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব, নাম, গুণাবলী, কার্যাবলী ও নির্দিষ্ট বান্দার সাথে কথা বলাকে সাব্যস্ত করা। এবং তাঁর ক্ষমতা, ফায়ছালা ও প্রজ্ঞার ব্যাপকতাকে সাব্যস্ত করা। আর তাঁকে অনুপযুক্ত দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র মনে করা।

(২) তাওহীদুত ত্বালাবী, আল-ক্বাছদী আল-ইরাদী: ‘আর এই (তাওহীদ) ইচ্ছা ও চাওয়ার ক্ষেত্রে, আর এই প্রকার তাওহীদকে তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ’ বলা হয়’।[3]

বিস্তারিত বিশ্লেষণে তাওহীদ আবার তিন ভাগে বিভক্ত। যেমন-

প্রথম প্রকার: তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ :

আর তা হল, দৃঢ় বিশ্বাস যে, আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি, পরিচালনা ও জীবিকাগত দিক থেকে এক ও অদ্বিতীয় যিনি তাঁর নে‘মত দ্বারা পৃথিবীর সকল সৃষ্টিজীবকে লালন-পালন করেন। তিনি নবীগণকেও আলাইহিমুস সালাম লালন পালন করেছেন উত্তম চরিত্র, উপকারী জ্ঞান ও সৎ আমলের অধিকারী করে। এই উপকারী অনুশীলন আত্মার দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে।

দ্বিতীয় প্রকার: তাওহীদুল আসমা ওয়া ছিফাত:

এটা এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস যে, সকল গুণাবলীর দিক থেকে তিনি পরিপূর্ণ ও একক। আর এটা হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও হাদীছে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোকে কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য স্থাপন ও দূরবর্তী ব্যাখ্যা ছাড়াই যেভাবে মহান আল্লাহর শানে মানায় সেভাবে সাব্যস্ত করা। আর যে সমস্ত দোষ-ত্রুটি থেকে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন সেগুলো থেকে পবিত্র ঘোষণা করা তথা সেই দোষ ত্রুটিগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত না করা। এই প্রকার এককত্ব বা তাওহীদের স্পষ্ট বর্ণনা আল্লাহ তা‘আলা সূরা হাদীদের শুরুতে, সূরা ত্বো-হায়, সূরা হাশরের শেষে, সূরা আলে ইমরানের প্রথমে এবং পূর্ণাঙ্গ সূরা ইখলাছে বর্ণনা করেছেন’।[4]

তৃতীয় প্রকার : তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ :

একে আবার তাওহীদুল ই‘বাদাহও বলা হয়। জ্ঞান, আমল, ও জানার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি এমন দৃঢ় বিশ্বাস যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সকল সৃষ্টিজীবের মা‘বূদ বা ইলাহ। একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য। আর তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ থাকলে তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ ও আসমা ওয়া ছিফাত অত্যাবশ্যক। তাওহীদুর রুবুবিয়্যহ-এর মধ্যে এই দুই প্রকার তাওহীদ বিদ্যমান। কেননা উলূহিয়্যাহ সকল পরিপূর্ণ গুণাবলীকে বুঝায় এবং সকল প্রভুত্বের ও মহানের গুণাবলীকে বুঝায়। আর মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে যায় ও ইবাদাত করে তার মহত্ব ও বড়ত্বের কারণে আর তিনি বান্দাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তার কারণে। আর পরিপূর্ণ গুণাবলীর দিক থেকে তার একক ও পূত-পবিত্র হওয়া ও প্রভুত্বের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় হওয়া এটাই আবশ্যক করে যে, তিনি ব্যতীত আর অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। আর তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ ছিল রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সূরা ‘ক্বুল ইয়া আইয়ুহাল কাফেরূন’,قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُوْنِ اللهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُوْلُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُوْنَ ‘হে নবী আপনি বলুন, ‘হে আহলে কিতাব! এমন এক কথার দিকে আসো, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, তা এই যে, আমরা আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো ইবাদত করব না এবং কোন কিছুকে তাঁর শরীক করব না এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাদের মধ্যে কেউ কাউকে রব হিসাবে গ্রহণ করব না। তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলে দাও, তোমরা এ বিষয়ে সাক্ষী যে, আমরা আত্মসমর্পণকারী’ (আলে ইমরান ৩/৬৪)। আর সূরা সাজদাহর শুরু ও শেষে এবং সূরা গাফিরের শুরু, শেষ ও মাঝে, সূরা আ‘রাফের শুরু ও শেষসহ কুরআনে অধিকাংশ সূরার সাথে।

পবিত্র কুরআনের প্রত্যেকটি সূরায় তাওহীদের কোন একটি প্রকারের আলোচনা রয়েছেই। কুরআনের প্রত্যেকটি সূরায় তাওহীদের প্রকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কেননা সম্পূর্ণ কুরআনে হয় আল্লাহ্র ব্যাপারে অথবা তাঁর গুণাবলীর ব্যাপারে অথবা তাঁর কথা ও কর্মের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। আর এই প্রকার (তাওহীদ) বা এককত্বকে التَّوْحِيدُ الْعِلْمِيُّ الْخَبَرِيُّ الِاعْتِقَادِيُّ বা অপর নামتَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ وَالْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ বলা হয়। অথবা পবিত্র কুরআনে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করার দিকে আহববান করা হয়েছে। আর এটাই হচ্ছে التَّوْحِيدُ الْإِرَادِيُّ الطَّلَبِيُّ বা অপর নাম تَوْحِيدُ الْأُلُوهِيَّةِ বলা হয়। আর আদেশ, নিষেধ ও আনুগত্যের আবশ্যকতা এই সবকিছুই তাওহীদের দাবী বা পরিপূর্ণতা। অথবা একত্ববাদীদের সম্মান ও দুনিয়ায় তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা এবং পরকালে তাদের সম্মান সবই হচ্ছে তাওহীদের ফল। আর মুশরিকদের দুনিয়াতে অপমান ও পরকালের শাস্তি সবই হচ্ছে তাওহীদে বিশ্বাস না করার ফল। অতএব পবিত্র কুরআনে সম্পূর্ণভাবে তাওহীদ ও শিরকের স্বরূপ, প্রতিদান ও এদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে’।[5]

তাওহীদের ফলাফল ও উপকারিতা :

‘তাওহীদের মহৎ মর্যাদা, প্রশংসনীয় প্রভাব ও সুন্দর ফলাফল রয়েছে। যেমনটি নিম্নে আলোচনা করা হল :

(১) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ তাওহীদের ফল স্বরুপ পাওয়া যায়।

(২) তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার মহাবিপদ দূরীভূত করেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখেরাতে বান্দার শাস্তি প্রতিহত করেন।

(৩) একনিষ্ঠ তাওহীদ বান্দাকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দেয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী, الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَلَمْ يَلْبِسُوْا إِيْمَانَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُوْنَ ‘যারা ঈমান এনেছে আর যুলুম (অর্থাৎ শিরক) দ্বারা তাদের ঈমানকে কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা লাভ তারাই করবে আর তারাই হল সঠিক পথপ্রাপ্ত’ (আন‘আম ৬/৮২)

(৪) পরিপূর্ণ হেদায়াত অর্জন করতে পারে এবং সুযোগ কল্যাণ প্রাপ্ত হয়।

(৫) আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদের মাধ্যমে বান্দার পাপকে ক্ষমা করে দেন, গুণাহকে মোচন করে দেন। যেমনটি হাদীছে কুদসীতে এসেছে,

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَرْفَعُهُ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِيْ بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيْتَنِيْ لَا تُشْرِكُ بِيْ شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً.

আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, .....‘হে আদম সন্তান! তুমি যদি সারা পৃথিবী পরিমাণ গোনাহ (পাপ) নিয়েও আমার নিকট আসো এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব’।[6]

(৬) বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। হাদীছে এসেছে,

عَنْ عُبَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللهُ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنْ الْعَمَلِ.

উবাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই আর মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর নিশ্চয়ই ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং কালিমাহ যা তিনি মারইয়ামকে পৌঁছিয়েছেন আর তাঁর নিকট হতে একটি রূহ মাত্র, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন’।[7] জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীছে এসেছে,

عَنْ جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ.

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, ...... ‘নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্র সাথে শরীক না করে যে ব্যক্তি মারা যাবে সে জানণাতে প্রবেশ করবে’।[8]

(৭) তাওহীদ বান্দাকে জাহান্নামে প্রবেশে বাধা দেয়। হাদীছে এসেছে,

عُتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: .... فَإِنَّ اللهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللهِ.

উতবান ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্মধন করে বলেন,......‘আল্লাহ তা‘আলা তো এমন ব্যক্তির প্রতি জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলে’।[9]

(৮) ঈমানে নূন্যতম বিন্দু যদি অন্তরে থেকে থাকে তাহলে সে তাওহীদের কারণে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে বেচে যায়’।[10]

(৯) তাওহীদ বান্দার জন্য আল্লাহ্র চরম ছওয়াব ও সন্তুষ্টি পেতে সহায়তা করে। মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ পাওয়ার সৌভাগ্য সেই অর্জন করে مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ ‘যে একনিষ্ঠচিত্তে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ (অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে’।১১

(১০) সকল কথা ও কাজ কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে তাওহীদের উপর নির্ভর করে। তাওহীদ বান্দার অন্তরে যত শক্তিশালী হয় তখন সবকিছুই তত পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

(১১) বান্দার সকল কল্যাণকর কাজ সহজ করে দেন। খারাপ কাজগুলোকে দূর করে দেন। বিপদের সময় সহযোগিতা করেন তাওহীদের কারণে। গুণাহের কাজ পরিত্যাগ করা সহজ করে দেন।

(১২) তাওহীদ যখন অন্তরে পরিপূর্ণভাবে গৃহীত হয় তষন মহান আল্লাহ সেই তাওহীদবাদী ব্যক্তির অন্তরে ঈমানের প্রতি ভালবাসা ও কুফরের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দেন।

(চলবে)

মূল : ড. সাঈদ ইবনু আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী

অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হুসাইন 


[1]. শায়খ সুলায়মান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওহহাব, তায়সীরুল আযীযিল হামীদ, পৃঃ ৭৪; সা‘দী, আল-কওলুস্ সাদীদ, পৃঃ ১৭; শায়খ ছালেহ আল-ফাওযান, বায়ানু হাক্বীকাতুত তাওহীদ, পৃঃ ২০।

[2]. মাদারিজুস সালিকীন, ইবনুল ক্বাইয়িম, ৩/৪৪৯ পৃঃ।

[3]. ইবনুল ক্বাইয়িম, ইজতিমাঊল জুয়ুশিল ইসলামিয়াহ আ‘লা গাযওয়াল মু‘ত্বালাত ওয়াল জাহমিয়াহ, ২/৯৪ পৃঃ; হাফেয হাকামী, মা‘আরিজুল কুবুল, ১/৯৮ পৃঃ; আব্দুর রহমান ইবনু হাসান, ফাৎহুল মাজীদ, পৃঃ ১৭।

[4]. ফাৎহুল মাজীদ, পৃঃ ১৭; শায়খ আব্দুর রহমান ইবনু নাছির ইবনু সা‘দী, আল-কওলুস্ সাদীদ ফী মাকাছিদুত তাওহীদ, ১৪-১৭ পৃঃ; মা‘আরিজুল কুবুল, ১/৯৯ পৃঃ।

[5]. ইবনুল ক্বাইয়িম, মাদারিজুস সালিকীন, ৩/৪৫০ পৃঃ; ফাৎহুল মাজীদ ১৭-১৮ পৃঃ; ক্বওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৬; মা‘আরিজুল কুবুল, ১/৯৮ পৃঃ।

[6]. তিরমিযী, ‘দু‘আ’ অধ্যায়, ‘তওবা ক্ষমা প্রার্থনার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ, ৫/৫৪৮ পৃঃ, হা/৩৫৪০; আলবানী ছহীহ, ছহীহ আত-তিরমিযী, ৩/১৭৬ পৃঃ; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১২৭, ১২৮।

[7]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, ছহীহুল বুখারী, ‘নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম)-এর হাদীছ সমূহ’ অধ্যায়, ‘মহান আল্লাহ্র বাণী’{يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوْا فِي دِيْنِكُمْ} ‘হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৪৩৫; ছহীহ মুসলিম, ‘ঈমান’ অধ্যায়, ‘যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে-এর দলীল’ অনুচ্ছেদ, ১/৫৭ পৃঃ, হা/২৮।

[8]. ছহীহ মুসলিম, ‘ঈমান’ অধ্যায়, ‘শিরক না করা অবস্থায় যারা মৃত্যু হয় সে জান্নাতী, ১/৯৪ পৃঃ, হা/৯৩।

[9]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, ছহীহুল বুখারী, ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘ঘর-বাড়ীতে মসজিদ তৈরি’ অনুচ্ছেদ, ১/১২৫ পৃঃ, হা/৪২৫; ছহীহ মুসলিম, ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থানসমূহ’ অধ্যায়, ‘কোন ওযরবশত জামা‘আতে শরীক না হওয়া’ অনুচ্ছেদ, ১/৪৫৫ পৃঃ, হা/৩৩।

[10]. ছহীহুল বুখারী, ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, অল্লাহ তা‘আলার বাণী, ‘যাকে আমি নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি’ অনুচ্ছেদ, হা/৭৪১০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩, ১৯৩।

[11]. বুখারী, ‘ইলম’ অধ্যায়, ‘হাদীছের প্রতি লালসা’ অনুচ্ছেদ, ১/৩৮পৃঃ, হা/৯৯।

Magazine