কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১) : শা‘বান মাসে কয়টি ছিয়াম রাখতে হবে? এর ফযীলত কী?

উত্তর : শা‘বান মাসে কয়টি ছিয়াম রাখতে হবে তা নির্দিষ্টভাবে হাদীছে বর্ণিত হয়নি। তবে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাস ব্যতীত বাকি এগারো মাসের মধ্যে শা‘বান মাসে বেশি বেশি ছিয়াম রাখতেন। উসামা ইবনু যায়দ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে তো শা‘বান মাসে যে পরিমাণ ছিয়াম পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোন মাসে সে পরিমাণ ছিয়াম পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন, ‘শা‘বান মাস রজব এবং রামাযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না। অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ্র নিকটে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পসন্দ করি যে, আমার ছিয়াম পালনরত অবস্থায় আমার আমলনামা আল্লাহ তা’আলার নিকটে উত্তোলন করা হবে (নাসাঈ, হা/২৩৫৯)।

তবে কয়দিন ছিয়াম রাখতে হবে এই মর্মে একটি বর্ণনায় প্রথম থেকে পনের শা‘বান পর্যন্ত ছিয়াম রাখার কথা পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন শা‘বান মাস অর্ধেক হয়ে যায়, তখন তোমরা আর (নফল) ছিয়াম রেখ না (আবুদাঊদ, হা/২৩৩৭)। তবে পনের শা‘বানের পরেও রাখা যায়

কিন্তু শর্ত হচ্ছে রামাযানের সাথে যেন মিলে না যায়। বরং রামাযানের আগে এক দুই দিন ছিয়াম ছেড়ে দিতে হবে।

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কয়েক দিন ব্যতীত) পূর্ণ শা‘বান মাস ছিয়াম রাখতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৬; মিশকাত, হা/২০৩৬)।

-আবু হমাইদ সাঈদী

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।


Magazine