কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

বানর, হরিণ ও দুষ্ট শেয়াল

অনেক অনেক দিন আগের কথা। মণিবলস্ন রাজার সময় ঐ রাজ্যের উত্তর-দক্ষিণ কোণে প্রাকৃতিক মনোরম সুন্দর একটি বন ছিল। যেহেতু বনটিতে সারাটি সময় সুখ-শান্তি বিরাজ ছিল, তাই বনটির নাম দেয়া হয়েছিল স্বর্ণসুখেসিনি। ভারি মজার নাম। এই বনের পশু-পাখিগুলো যেন একে অন্যের আত্মীয়ের মত। কোন বিভেদ ছিল না একে অন্যের সাথে। ঐ বনের এক গহীন কোণে দুইজন প্রাণী বাস করত। তারা আর কেউ নয়, তারা হচ্ছে বানর ও হরিণ। দু’জনে খুবই অনেক কাছের। জাতে আলাদা হলেও তারা একে অন্যের ভাইসম। যখন যার যেটা দরকার হতো, তখন সেটা তারা এনে দিতে কোন দ্বিধাবোধ করত না। হরিণ তৃণলতা খেয়ে বাঁচে তাই বানর গাছ থেকে পাতা ছিঁড়ে দেয় আর হরিণ তা খায়। একদিন বনে এক কাণ্ড ঘটল। তাদের এলাকায় এসে একজন শিকারি পশুদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেখানে হরিণও বন্দি হল। বানর তখন কী করে? তার বন্ধুকে তো বাঁচাতেই হবে। তাই সে গাছের একটা ডাল সুঁচ করে গাড়ির চাকাতে মারে আর তাতেই চাকা পাংচার হয়ে গেল। সেই সুযোগে বানর সবাইকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেল। তখন থেকে দু’জনের বন্ধুত্ব আরও মযবূত হয়ে উঠল। সে সময় থেকে বনে সুখ-শান্তি বিরাজ করতে লাগল। হঠাৎ একদিন বনে দেখা গেল উটকো এক প্রাণি। যেন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে স্বর্ণসুখেসিনি বনে। সে আর কেউ নয়, দুষ্ট শেয়াল। একের সাথে অন্যের প্যাঁচ লাগিয়ে বেড়ায়। অনেকদিন থাকার পর শেয়ালের কাজ শুরু হল তাদের উপর সমাচার করা। বানরের কথা হরিণকে বলতে লাগল আর হরিণের কথা বানরকে। বনে যেন অন্ধকার পড়ে গেছে। সেদিন থেকে বানর আর হরিণের মধ্যে দেখা হলে তারা কোন কথা বলে না, বনে হাঁটতে গেলে দু’জনের মধ্যে দেখা হলে তারা কোন কথা বলতো না, শুধু নীরব থাকতো। শেয়াল তখন আড়াল থেকে মনে মনে হেসে চলে। বনে কোন শান্তি নেই সেইদিন থেকে।

‘সবকিছু দেখে বনের ভেতরে

সিংহ মামা হাসে,

সিংহ মামা বলে ভালোবাসা নাশ করল

দুষ্ট শেয়াল এসে’।

শিক্ষা :

সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা অন্যের সমালোচনা করে। একে-অন্যের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। যখন তারা কোন সমাজে এসব কাজ করে, তখন ঐ সমাজে কোন ভালোবাসা থাকে না। এসব বদাভ্যাস থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

শাকিব হাসান

খানসামা, দিনাজপুর।

Magazine