ভূমিকা:
হিজরী বর্ষের ১২টি মাসের প্রতিটি মাসই বিশেষ তাৎপর্য ও ফযীলতের অধিকারী হলেও যিলহজ্জ মাসের মর্যাদা এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। এটি এমন একটি মাস, যেখানে রয়েছে আত্মশুদ্ধি, তাক্বওয়া অর্জন, কুরবানীর ত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুবর্ণ সুযোগ। যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের ফযীলত এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, তা শ্রেষ্ঠ আমলের শ্রেষ্ঠ সময় বলে গণ্য হয়। এই মাসে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের এমন সুযোগ দেন, যা বছরের অন্য কোনো সময়ে মিলে না। হজ্জের মাধ্যমে গুনাহ মাফ, কুরবানীর মাধ্যমে ত্যাগের পরীক্ষা আর সৎ আমলের মাধ্যমে জান্নাতের পথ প্রশস্ত করার সুযোগ ঘটে। অথচ আমাদের অনেকেই এই মহামূল্যবান দিনগুলোকে অবহেলায় কাটিয়ে দেই। এই প্রবন্ধে যিলহজ্জ মাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
যিলহজ্জ মাসের পরিচিতি:
হিজরী বর্ষের মাসের সংখ্যা ১২টি। মহান আল্লাহ বলেন,إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ‘আসমান-যমীন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কিতাবে মাসগুলোর সংখ্যা হলো ১২। তার মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস’ (আত-তওবা, ৯/৩৬)। এই ১২ মাসের শেষ মাস এবং চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো যিলহজ্জ। যিলহজ্জ মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাস, যে মাসে হজ্জ ও কুরবানী করা হয়ে থাকে। এ মাসেই মুসলিমদের অন্যতম উৎসব ঈদুল আযহা পালিত হয়।
যিলহজ্জ মাসের গুরুত্ব:
আল্লাহ তাআলার নিকট গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস যিলহজ্জ। অল্প সময়ে অধিক নেকী উপার্জনের জন্য মহান আল্লাহ বিভিন্ন মাস ও দিবসকে গুরুত্বারোপ করেছেন। অনুরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস হচ্ছে যিলহজ্জ মাস।
১. যিলহজ্জ হারাম বা সম্মানিত মাস: আল-কুরআনে বর্ণিত সম্মানিত চারটি মাসের একটি যিলহজ্জ মাস। এ মাসগুলোতে যুদ্ধ-বিদ্রোহ বা সংঘাতে লিপ্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ ‘কাজেই ঐ সময়ের মধ্যে নিজেদের উপর যুলম করো না’ (আত-তওবা, ৯/৩৬)। চারটি হারাম মাস হলো যিলক্বদ, যিলহজ্জ, মুহাররম ও রজব।
২.হজ্জের মাস যিলহজ্জ: উমরার জন্য সারা বছর সুযোগ থাকলেও হজ্জের জন্য শরীআত কর্তৃক নির্ধারিত মাস রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ ‘হজ্জ নির্দিষ্ট মাসগুলোতে। অতএব, এ মাসগুলোতে যে কেউ হজ্জ করার সংকল্প করবে, তার জন্য হজ্জের মধ্যে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয় এবং তোমরা যেকোনো সৎকাজই কর, আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় তাক্বওয়া বা আত্মসংযম। সুতরাং হে জ্ঞানবানগণ! তোমরা আমাকে ভয় করো’ (আল-বাক্বারা, ২/১৯৭)। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, হজ্জের সুনির্দিষ্ট মাসগুলো হলো শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জ। আল্লাহ এ মাসগুলো হজ্জের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এ মাসগুলো ব্যতীত হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলে হজ্জ হবে না।
৩. যিলহজ্জ কুরবানীর মাস: কুরবানী করা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর সুন্নাত, যা আমাদের মধ্যে সামর্থ্যবানদের আদায় করতে হয়। আর কুরবানীর জন্য একমাত্র মাস যিলহজ্জ। এই মাসের ১০ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত মোট চারদিন কুরবানী করার বৈধ সময়। কুরবানী করার সময় শুরু হবে ১০ যিলহজ্জ ঈদুল আযহার ছালাতের পর। ঈদের ছালাতের আগের কুরবানী আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَلْيَذْبَحْ مَكَانَهَا أُخْرَى، وَمَنْ كَانَ لَمْ يَذْبَحْ حَتَّى صَلَّيْنَا فَلْيَذْبَحْ عَلَى اسْمِ اللهِ ‘যে ব্যক্তি ছালাতের পূর্বে যবেহ করেছে, সে যেন তদস্থলে আরেকটি যবেহ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি আমাদের ছালাত আদায় করা পর্যন্ত যবেহ করেনি, সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করে’।[1]
যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের ফযীলত:
মহান আল্লাহর কাছে যিলহজ্জ মাস পুরোটাই ফযীলতপূর্ণ। তবে প্রথম দশকের বিশেষ কিছু ফযীলত রয়েছে। যেমন-
১. যিলহজ্জের প্রথম দশক নিয়ে আল্লাহর কসম: মহান আল্লাহ কুরআনে বিভিন্ন বিষয়ের কসম করেছেন। অনুরূপভাবে যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের তিনি কসম করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَالْفَجْرِ-وَلَيَالٍ عَشْرٍ ‘কসম ভোরবেলার! কসম ১০ রাতের!’ (আল-ফজর, ৮৯/১-২)। ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যিলহজ্জ মাসের ১০ দিন।[2]
২. যিলহজ্জের প্রথম দশকের আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়: আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامٍ أَفْضَلَ مِنْهَا فِي هَذِهِ قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ وَلاَ الْجِهَادُ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَيْءٍ ‘যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়’। ছাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না’।[3]
৩. বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক: জাবের ইবেন আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامُ الْعَشْرِ ‘দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো যিলহজ্জের ১০ দিন’।[4]
৪. যিলহজ্জের প্রথম দশকে সকল মৌলিক ইবাদত একত্রিত হয়: এই দশকে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত প্রায় সকল ইবাদত একত্রিত হয়, যা অন্য কোনো সময়ে একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়। যেমন- হজ্জ, কুরবানী, ছালাত, ছিয়াম, দান-ছাদাক্বাসহ সকল ইবাদত এই ১০ দিনে একত্রিত করা যায়। ইবনু হাজার আসক্বালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, وَالَّذِي يَظْهَرُ أَنَّ السَّبَبَ فِي امْتِيَازِ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ لِمَكَانِ اجْتِمَاعِ أُمَّهَاتِ الْعِبَادَةِ فِيهِ وَهِيَ الصَّلَاةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ وَالْحَجُّ وَلَا يَتَأَتَّى ذَلِكَ فِي غَيْرِهِ ‘এ কথা স্পষ্ট হয় যে, যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ গুরুত্বের কারণ হলো- ঐ দিনগুলোতে মৌলিক ইবাদতসমূহ একত্রিত হয়েছে। যেমন- ছালাত, ছিয়াম, ছাদাক্বা ও হজ্জ, যা অন্যান্য দিনগুলোতে এভাবে একত্রিত হয় না’।[5]
৫. যিলহজ্জের প্রথম দশকে দ্বীনের নিদর্শনসমূহের সম্মানের সময়: এই ১০ দিনে যেহেতু ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো একত্রিত হয়, সেহেতু আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা সহজ হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ ‘এটাই হলো আল্লাহর বিধান, যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাক্বওয়া থেকেই’ (আল-হাজ্জ, ২২/৩২)। ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন সর্বোত্তম দিন আর রামাযান মাসের শেষ ১০ রাত সর্বোত্তম রাত।[6]
যিলহজ্জের প্রথম দশকে করণীয় আমল:
যিলহজ্জের প্রথম দশক দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনগুলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশাল নেয়ামত। এই দিনগুলো ইবাদতের একটা মৌসুম, যা বছরে মাত্র একবার আসে। তাই এই মৌসুমে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগী করা সকলের জন্য উচিত। যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের আমলগুলোকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
(ক) ‘আম বা সাধারণ ইবাদত। অর্থাৎ যেগুলো যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন ছাড়াও বছরের অন্যান্য দিনে করা যায়।
(খ) খাছ বা বিশেষ ইবাদত। অর্থাৎ যে সকল নেক আমল যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের সাথে সম্পৃক্ত, যা বছরের অন্যান্য দিনে করা যায় না।
(ক) প্রথম দশকের ‘আম বা সাধারণ আমল:
১. তওবা ও ইস্তেগফার করা: তওবা অর্থ ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সারাজীবনের জন্য খারাপ কাজ থেকে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প করা। যিলহজ্জের প্রথম দশকের দিনগুলোতে তওবা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوْا تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوبَة نَّصُوحًا ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা করো, বিশুদ্ধ তওবা’ (আত-তাহরীম, ৬৬/৮)।
২. ফরয ও নফল ছালাতগুলো গুরুত্বের সাথে আদায় করা: এই ফযীলতপূর্ণ দিনগুলোতে ফরয ও নফল ছালাতের ব্যাপারে খুবই যত্নবান হতে হবে। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন, مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ: كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا، وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ، وَمَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَنْ نَفْسِ المُؤْمِنِ، يَكْرَهُ المَوْتَ وَأَنَا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সঙ্গে শত্রুতা রাখে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরয ইবাদতের চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারা সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নেই যে, (অবস্থা এমন যে) আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে আমার কাছে কোনো কিছু চাইলে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দিই। আমি যে কোনো কাজ করতে চাইলে তাতে কোনো রকম দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকে, অথচ আমি তার প্রতি কষ্টদায়ক বস্তু দিতে অপছন্দ করি’।[7]
৩. ছিয়াম পালন করা: যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনে ছিয়াম পালন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। বান্দার পাপরাশি ক্ষমাকরণে ছিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা ছিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ নিজ হাতে প্রতিদান দেন। তাই এ দিনগুলোতে খুব যত্নসহকারে ছিয়াম পালন করা উচিত। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلَّا بَاعَدَ اللهُ، بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও ছিয়াম পালন করে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন হতে ৭০ বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন’।[8] রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে ছিয়াম পালন করতেন। তবে ঈদুল আযহা ও আইয়ামে তাশরীকের তিনদিন ছিয়াম পালন করা যাবে না।
৪. বেশি বেশি যিকির-আযকার করা: পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ দিন যিলহজ্জের প্রথম দশক। তাই এই দিনগুলোতে অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি বেশি বেশি যিকির-আযকার করা উচিত। যিকর-আযকার বলতে অধিক পরিমাণে তাকবীর, তাহমীদ ও তাহলীল পাঠ করা। মহান আল্লাহ বলেন,لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ‘যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিযিক্ব দিয়েছেন, তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে’ (আল-হজ্জ, ২২/২৮)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمَ عِنْدَ اللهِ وَلاَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَمَلِ فِيْهِنَّ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ الْعَشْرِ فَأَكْثِرُوْا فِيْهِنَّ مِنَ التَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ وَالتَّحْمِيْدِ ‘এই দিনসমূহ আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং এই ১০ দিনের মধ্যে সম্পাদিত আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। সুতরাং এই দিনগুলোতে তোমরা বেশি বেশি তাহলীল, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ করো’।[9]
চারটি যিকির বেশি বেশি পাঠ করার চেষ্টা করতে হবে। সেগুলো হলো তাসবীহ (سُبْحَانَ اللّٰهِ), তাহমীদ (اَلْحَمْدُ لِلَّٰهِ), তাহলীল (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) এবং তাকবীর (اللّٰهُ أَكْبَر)।[10]
৫. অধিক পরিমাণে দান-ছাদাক্বা করা: দান-ছাদাক্বা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর এই আমলটি করার সুবর্ণ সময় হলো যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক। দান-ছাদাক্বার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, অভাবগ্রস্তকে উপকার করা যায় আর নিজের পাপসমূহ ক্ষমা করিয়ে নেওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন,وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ وَمَا تُنْفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ‘তোমরা যে সম্পদ ব্যয় কর, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই। আর তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যয় কর এবং তোমরা কোনো উত্তম ব্যয় করলে তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। আর তোমাদের প্রতি যুলম করা হবে না’ (আল-বাক্বারা, ২/২৭২)।
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দান-ছাদাক্বা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ ‘তোমরা জাহান্নাম হতে আত্মরক্ষা করো, এক টুকরা খেজুর ছাদাক্বা করে হলেও’।[11]
এছাড়াও আমাদের উচিত কুরআন তেলাওয়াত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ পাঠ, অন্যায়-অত্যাচার থেকে বিরত থেকে বেশি বেশি নেক আমলে রত থাকা আর সকল ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকা।
(খ) প্রথম দশকের খাছ বা বিশেষ আমল:
১. হজ্জ পালন করা: হজ্জ পালনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কয়েকটি মাস থাকলেও একমাত্র হজ্জের কার্যক্রম সম্পাদন করা হয় যিলহজ্জ মাসে। তাই সামর্থ্যবান সকল মুসলিমের উপর হজ্জ পালন করা ফরয (আলে ইমরান, ৩/৯৭)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ‘যে ব্যক্তি হজ্জ করেছে, তাতে কোনো অশ্লীল আচরণ করেনি, কোনো পাপে লিপ্ত হয়নি; তাহলে সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে গেল, যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল’।[12] অন্যত্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا ، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‘এক উমরা থেকে অন্য উমরাকে তার মধ্যবর্তী পাপসমূহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আর কবুল হজ্জের পুরস্কার কেবলই জান্নাত’।[13]
২. ঈদুল আযহার ছালাত আদায় করা: প্রথম দশকের অন্যতম আমল ঈদুল আযহার ছালাত আদায় করা। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى، فَأَوَّلُ شَىْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلاَةُ ثُمَّ يَنْصَرِفُ، فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ، وَالنَّاسُ جُلُوسٌ عَلَى صُفُوفِهِمْ، فَيَعِظُهُمْ وَيُوصِيهِمْ وَيَأْمُرُهُمْ، فَإِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا قَطَعَهُ، أَوْ يَأْمُرَ بِشَىْءٍ أَمَرَ بِهِ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ করতেন, তা হলো ছালাত আদায়। আর ছালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তারা কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাদের নছীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোনো সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোনো বিষয়ে নির্দেশ জারি করার ইচ্ছা করতেন, তবে তা জারি করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন’।[14]
উল্লেখ্য, মহিলারাও ঈদের ছালাতে পুরুষদের সাথে পর্দা সহকারে গমন করে ছালাত আদায় করতে পারবে।
৩. কুরবানী করা: যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের বিশেষ আরেকটি আমল হলো কুরবানী করা। পৃথিবীর প্রত্যেক মুসলিম সে হজ্জ পালনকারী হোন বা হজ্জের বাইরে থাকুন সকলেই এই দিনে কুরবানী করে আল্লাহর আদেশ পালন করেন। হজ্জে তামাত্তু‘ ও হজ্জে ক্বিরান পালনকারীগণ মিনা ও তার আশপাশের হারাম এলাকায় আর হজ্জের বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মুসলিমরা তাদের স্ব স্ব অবস্থানস্থলে কুরবানী করেন। কুরবানীর নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ‘আপনি আপনার রবের জন্য ছালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন’ (আল-কাওছার, ১০৮/২)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে’।[15] তবে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে সে জন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আবূ বকর, উমার ফারূক, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস, বেলাল, আবূ মাসঊদ আনছারী রাযিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ ছাহাবীগণ কখনো কখনো কুরবানী করতেন না।[16] প্রত্যেক পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক বছর একটি পশু দ্বারা কুরবানী করাই যখেষ্ট।[17] তবে কুরবানীর ছওয়াব বিবেচিত হবে তাক্বওয়ার ভিত্তিতে। মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ‘আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক’ (আল-আনআম, ৬/১৬২)।
তাই কুরবানী শুধু আল্লাহকে রাজি-খুশী ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই করতে হবে।
৪. আরাফার ছওম পালন করা: সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ছিয়াম হলো আরাফার দিনের ছিয়াম। আর এই আরাফার দিন যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে। হজ্জ পালনকারী ছাড়া অন্যান্য মুসলিম এ দিনে ছওম পালন করবে। আবূ ক্বাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার দিনের ছওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হবে’।[18] রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ غُفِرَ لَهُ ذَنْبَ سَنَتَيْنِ مُتَتَابِعَتَيْنِ ‘যে ব্যক্তি আরাফার দিন ছওম রাখে, তার পরপর দুই বছরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়’।[19]
৫. কুরবানীদাতার জন্য চুল ও নখ কর্তন না করা: যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের আরেকটি আমল হলো যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী পর্যন্ত চুল ও নখ কর্তন না করা। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ رَأَى هِلاَلَ ذِى الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّىَ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ، ‘যে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখল এবং কুরবানী করার ইচ্ছা করল, সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে’।[20]
৭. তাকবীর পাঠ করা: সাধারণত যিলহজ্জ মাসের প্রথম থেকে ১৩ তারিখ মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ পাঠ করতে হবে। বিশেষ করে ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত প্রত্যেক ছালাত শেষে তাকবীর পাঠ করতে হবে।[21] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু আরাফার দিন ফজর থেকে কুরবানীর দিন আছর পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন।[22] তাকবীর হলো,اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো মা‘বূদ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান আর সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য’।[23]
হাজীগণ ইহরাম বাঁধার পর থেকে ১০ যিলহজ্জ কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পড়বেন। তালবিয়া হচ্ছে,
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ.
‘আমি হাযির, হে আল্লাহ! আমি হাযির। আমি হাযির। আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা, অনুগ্রহ ও সাম্রাজ্য সবই আপনারই। আপনার কোনো শরীক নেই’।[24] এই দিনগুলোতে তাকবীর উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করতে হবে।[25] তবে, নারীরা নিঃশব্দে তাকবীর দিবেন।
উপসংহার: উপরিউক্ত আমলগুলো পালনের মাধ্যমে যিলহজ্জ মাসের যথাযথ মূল্যায়ন করা যায়, ফযীলত লাভ করা যায় এবং নিজেদেরকে পাপমুক্ত করা যায়। অশেষ ছওয়াব হাছিলের মাধ্যমে জান্নাতের পথকে সহজ করা যায়। তাই আমাদের উচিত যিলহজ্জ মাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইবাদত- বন্দেগী, নেক আমল ও যিকির-আযকারের মাধ্যমে ফযীলতপূর্ণ উক্ত মাসকে বরণ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক্ব দিন- আমীন!
আবূ মাহদী মামুন বিন আব্দুল্লাহ
অধ্যয়নরত, আক্বীদা ও দাওয়াহ বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৫০০; নাসাঈ, হা/৪৪১০।
[2]. উল্লেখকৃত আয়াতের তাফসীর দৃষ্টব্য।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৬৯; তিরমিযী, হা/৭৫৭।
[4]. ছহীহুল জামে‘, হা/১১৩৩; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৫০।
[5]. ফাতহুল বারী, ২/৪৬০।
[6]. মাওসূআতুল ফাতাওয়া আল-বাযিয়াহ, ৮৯০৮।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫০২।
[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৪০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৩।
[9]. আহমাদ, হা/৫৪৪৬; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১২৪৮।
[10]. আহমাদ, হা/৫৪৪৬।
[11]. ছহীহ বুখারী, হা/১৪১৭।
[12]. ছহীহ বুখারী, হা/১৪৪৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৫০।
[13]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪৯।
[14]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬।
[15]. ইবনু মাজাহ, হা/৩১২৩; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪৯০।
[16]. বায়হাক্বী, ৯/২৬৪, হা/১৯৫০৬; ইরওয়াউল গালীল, হা/১১৩৯, ৪/৩৫৪; মিরআত, ৫/৭২-৭৩; উছায়মীন, মাজমূ ফাতাওয়া, ২৫/১০।
[17]. আবূ দাঊদ, হা/৭৮৮; তিরমিযী, হা/১৫১৮; মিশকাত, হা/১৪৭৮।
[18]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৩, ২৮০৩; আবূ দাঊদ, হা/২৪২৫।
[19]. ত্ববারানী, হা/৫৭৯০; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০১২।
[20]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭; আবূ দাঊদ, হা/২৭৯১; তিরমিযী, হা/১৫২৩।
[21]. ইবনু তায়মিয়্যাহ, মাজমূউল ফাতওয়া, ২৪/২২০।
[22]. যাদুল মাআদ, ২/৩৬০।
[23]. দারাকুত্বনী, হা/১৭৫৬; ইরওয়াউল গালীল, ৩/১২৫, ৬৫৪।
[24]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৪৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৮৪; আবূ দাঊদ, হা/১৮১২।
[25]. ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭।
