কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত (পর্ব-২৩)

নীরবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম বলতে হবে :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (বিলকিস বলল, হে পরিষদবর্গ!) এটা সুলায়মানের নিকট হতে এবং এটা এই দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহ্র নামে’ (নামল, ৩০)। এই আয়াতে প্রমাণ হয় সুলায়মান যখন বিলকিসের কাছে পত্র লিখেছিলেন, তখন প্রথমে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ লিখেছিলেন। এ ব্যাপারে যরূরী কথা হচ্ছে যে, সূরার প্রথম থেকে পড়া আরম্ভ হলে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ পড়তে হবে। আর সূরার মধ্যের কোন অংশ পড়া হলে বলতে হবে না।

عَنْ اُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِى الصَّلاَةِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ وَعَدَّهَا آيَةً.

উম্মু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছালাতের মধ্যে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ পড়লেন এবং তাকে একটি আয়াত হিসাবে গণ্য করলেন।[1]

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَرَأْتُمُ الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاقْرَءُوْا بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ إِنَّهَا أُمُّ الْقُرْآَنِ وَأُمُّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعُ الْمَثَانِيْ وَبِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ إِحْدَاهَا.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বা সূরা ফাতিহার ক্বিরাআত কর, তখন তোমরা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ পড়। কারণ সূরা ফাতিহা হচ্ছে কুরআনের মূল, কিতাবের মূল এবং ছালাতের মধ্যে বার বার তেলাওয়াত করা সাত আয়াত বিশিষ্ট সূরা আর ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ তার একটি আয়াত’।[2] এই হাদীছ দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয় যে, বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার সাত আয়াতের একটি আয়াত।

عَنْ اُمِّ سَلَمَةَ اَنَّهَا سُئِلَتْ عَنْ قِرَاءَةِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالتْ كَانَ يُقَطِّعُ قِرَأَتَهُ آيَةً آيَةً بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرحِيْمِ، الْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ، مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ.

উম্মু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্বিরাআত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কিরাআতে প্রতিটি আয়াত পৃথক পৃথক করে পড়তেন। ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ পৃথক করতেন এবং ‘আল-হামদুলিল্লাহি রবিবল আলামীন’ পৃথক করতেন এবং ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ পৃথক করতেন।[3]

كَانَ إِذَا قَرَأَ قَطَعَ قِرْائَتَهُ آيَةً آيَةً يَقُوْلُ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرحِيْمِ ثُمَّ يَقِفُ ثُمَّ يَقُوْلُ الْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ثُمَّ يَقِفُ ثُمَّ يَقُوْلُ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ.

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ক্বিরাআত করার সময় প্রতিটি আয়াত পৃথক পৃথক করে পড়তেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ বলতেন অতঃপর থেমে যেতেন। তারপর الْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ বলতেন, অতঃপর থেমে যেতেন, তারপরالرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ বলতেন। অতঃপর থেমে যেতেন।[4]

عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ كَيْفَ كَانَتْ قِرَأةُ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَتْ مَدًّا مَدًّا ثُمَّ قَرَأَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرحِيْمِ يَمُدُّ بِسْمِ اللهِ وَيَمُدُّ بِالرَّحْمَنِ وَيَمُدُّ بِالرحِيْمِ.

তাবেঈ ক্বাতাদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদা আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করা হল, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন তেলাওয়াত কীরূপ ছিল? তিনি বলেন, তা ছিল ধীরস্থিরভাবে টানা টানা। অতঃপর আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু টান দিয়ে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ পড়লেন, তিনি টান দিয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়লেন, তারপর ‘রহমান’ টান দিয়ে পড়লেন, তারপর ‘রহীম’ টান দিয়ে পড়লেন’।[5]

উক্ত হাদীছসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সূরা ফাতিহার একটি আয়াত। তিনি মাদ্দের অক্ষরগুলো টেনে টেনে পড়তেন। যথা- আল্লাহ্র লামে, রহমানের মীমে এবং রহীমের হা-তে টান দিয়ে পড়তেন।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِالتَّكْبِيْرِ وَالْقِرَاءَةِ بِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ.

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরের মাধ্যমে ছালাত আরম্ভ করতেন আর ক্বিরাআত আরম্ভ করতেন ‘আলহামদুলিল্লাহি রবিবল ‘আলামীন’ দ্বারা।[6]

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكَانُوْا يَسْتَفْتِحُوْنَ بِ الْحَمْد لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ. وَفِىْ مُسْلِمٍ لاَ يَذْكُرُوْنَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرحِيْمِ فِىْ اَوَّلِ قِرَأَةٍ وَلَا فِىْ آخِرِهَا.

আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবুবকর, ওমর, ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহুম-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছি। তাঁরা ‘আল-হামদুলিল্লাহি রবিবল ‘আলামীন’ দ্বারা ক্বিরাআত আরম্ভ করতেন। আর মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সরবে পড়তেন না।[7]

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُسْمِعْنَا قِرَاءَةَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ وَصَلَّى بِنَا أَبُوْ بَكْرٍ وَعُمَرَ فَلَمْ نَسْمَعْهَا مِنْهُمَا.

আনাস ইবনু মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ছালাত আদায় করালেন, তিনি আমাদেরকে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’-এর ক্বিরাআত শুনালেন না। তিনি বলেন, আমাদেরকে আবুবকর এবং ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা ছালাত আদায় করিয়েছেন। আমরা তাঁদের দু’জন থেকেও ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’-এর ক্বিরাআত শুনিনি।[8]

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْهُمْ يَجْهَرُ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ.

আনাস ইবনু মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবুবকর ও ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছি। তাঁদের কাউকেও ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সরবে পড়তে শুনিনি।[9]

উক্ত হাদীছসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সূরা ফাতিহার অংশ। তবে তা নীরবে পড়তে হবে।

عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ قَالَ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ آنِفًا سُوْرَةٌ فَقَرَأَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ حَتَّى خَتَمَهَا فَلَمَّا قَرَأَهَا قَالَ هَلْ تَدْرُوْنَ مَا الْكَوْثَرُ قَالُوا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهُ نَهْرٌ وَعَدَنِيْهِ رَبِّيْ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْجَنَّةِ.

মুখতার ইবনু ফুলফুল রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘এইমাত্র আমার উপর একটি সূরা নাযিল করা হল’। অতঃপর তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ পড়লেন এবং সূরা কাওছার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি জানো কাওছার কী জিনিস? ছাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তা হচ্ছে একটি নহর, যা আমার প্রতিপালক আমাকে জান্নাতে দেয়ার ওয়াদা করেছেন’।[10]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَعْرِفُ فَصْلَ السُّوْرَةِ حَتَّى تَنَزَّلَ عَلَيْهِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ.

ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সূরা হতে অপর সূরার বিচ্ছিন্নতা বুঝতে পারেননি।[11]

বিসমিল্লাহ সরবে পড়ার প্রমাণে হাদীছটি যঈফ :

একদা মু‘আবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু মদীনার মসজিদে এশার ছালাতের ইমামতি করেন। সেখানে তিনি সরবে ক্বিরাআত করেন। কিন্তু সূরা ফাতিহার সাথে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ পড়লেন না। এরপর অন্য সূরা পাঠ করার সময়ও ‘বিসমিল্লাহ’ পড়লেন না। যখন রুকূতে গেলেন, তখন তাকবীরও দিলেন না। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন বিভিন্ন দিক থেকে আনছার ও মুহাজির ছাহাবীগণ এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি ছালাত চুরি করলেন না ভুলে গেলেন? তারপর থেকে তিনি আর কখনো সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরার সাথে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া বাদ দেননি অর্থাৎ ‘বিসমিল্লাহ’ পড়েছেন।[12] হাদীছটি যঈফ।[13]

নিমেণর সূরাগুলো পাঠ করলে জবাব দিতে হবে না :

(১) সূরা ত্বীনের শেষে, بَلَى وَأَنَا عَلَى ذَلِكَ مِنَ الشَّاهِدِينَ বলা যাবে না।[14]

(২) সূরা মুরসালাতের শেষে ‘আমান্না বিল্লাহ’ বলা যাবে না। এর প্রমাণে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ।[15]

(৪) সূরা যুহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত প্রত্যেক সূরার শেষে ‘আল্লাহু আকবার’ বলার প্রমাণে হাদীছ যঈফ ও মুনকার।[16]

(৫) সূরা জুমু‘আর শেষে ‘আল্লাহুম্মার যুকনা রিযকান হাসানা’ বলার বর্ণনা জাল, যঈফ, ভিত্তিহীন।

(৬) সূরা বানী ইসরাঈল শেষে ‘আল্লাহু আকবার কাবীরা’ বলার কোন ভিত্তি নেই।

(৭) সূরা ওয়াক্বি‘আহ শেষে ‘সুবহানা রবিবয়াল আযীম’ বলার কোন ভিত্তি নেই।

(৮) সূরা হাক্কাহ শেষে ‘সুবহানা রবিবয়াল আযীম’ বলার কোন জাল, যঈফ বর্ণনাও প্রমাণিত নেই।

(৯) সূরা মুলক শেষে ‘আল্লাহু ইয়াতীনা ওয়া হুয়া রাববুল আলামীন’ বলার কোন ছহীহ প্রমাণ নেই।

(১০) এছাড়াও বিভিন্ন প্রেস থেকে ছাপা কুরআনের শেষে ‘দো‘আয়ে খাতমীল কুরআন’ নামে যে প্রচলিত দো‘আ লেখা দেখা যায়, তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তবে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তেলাওয়াত শেষে নিমেণর দো‘আটি পড়তেন:[17]

سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِك لَا إِلَه إِلَّا أَنْت أستغفرك وَأَتُوب إِلَيْك.

উচ্চারণ : সুবহা-নাকা ওয়া বিহামদিকা, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।

অর্থ : ‘মহাপবিত্র তুমি, তোমার প্রশংসার সাথে (সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,) তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকেই ফিরে যাচ্ছি (বা তওবা করছি)।

যেসব সূরা ও আয়াতের উত্তর দিতে হবে:

(১) সূরা ক্বিয়ামাহ-এর শেষে سُبْحَانَكَ فَبَلَى বলতে হবে। মূসা ইবনে আবু আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একজন ছাহাবী তার ঘরের ছাদে সূরা ক্বিয়ামাহ শেষ করে বললেন, سُبْحَانَكَ فَبَلَى। লোকেরা তাকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটা বলতে শুনেছি।[18]

(২) সূরা আ‘লার প্রথম আয়াত পাঠ করলে سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى বলতে হবে। ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى পাঠ করলেন, তখন سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى বললেন।[19]

(৩) সূরা রহমানের এই আয়াতে فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ। জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাহাবীগণের নিকট তাদের সামনে সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লেন, তখন ছাহাবীগণ চুপ থাকলেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জিনের রাতে জিনদের সামনে এই সূরাটি পড়েছিলাম। তারা তোমাদের চেয়ে উত্তম উত্তর দিয়েছিল। যতবার আমি এ আয়াত فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ পড়েছি, ততবার তারা বলেছে لاَ بِشَىْءٍ مِنْ نِعَمِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ فَلَكَ الْحَمْدُ।[20]

(৪) সূরা গাশিয়ার শেষে اللَّهُمَّ حَاسِبْنِى حِسَاباً يَسِيرًا বলতে হবে।

(৫) আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার কোন ছালাতে বলতে শুনলাম, اللَّهُمَّ حَاسِبْنِى حِسَاباً يَسِيرًا। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সহজ হিসাব কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ মানুষের আমলনামা দেখবেন কিন্তু না দেখার মত এড়িয়ে যাবেন। ওহে আয়েশা! সেদিন যার হিসাব তন্নতন্ন করে নেয়া হবে, সে ধ্বংস হবে’।[21] এই হাদীছে কোন সূরা নির্ধারণ নেই, তবে ছালাতের কথা আছে। অতএব যে কোন ছালাতে বা যে কোন সূরাতে হিসাবের কথা আসলে অত্র দু‘আ পড়া সুন্নাত।

ছালাত অবস্থায় এদিক-সেদিক লক্ষ্য করা যাবে না :

মুছল্লীকে ছালাতে স্থির থাকতে হবে। অমনোযোগী হয়ে এদিক-সেদিক তাকানো যাবে না। এসব শয়তানের প্রলোভন। এতে ছালাতের একাগ্রতা নষ্ট হয়।

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয় নিষেধ করেন এবং তিনটি বিষয় আদেশ করেন। তিনি আমাকে যা নিষেধ করেন, তা হল: (১) আমাকে মোরগের মত ঠোকর দিতে অর্থাৎ তাড়াহুড়া করে রুকূ-সিজদা করতে (২) কুকুরের মত বসতে অর্থাৎ হাত পিছন দিকে মাটির উপর খাড়া করে রেখে দুই পায়ের গোড়ালি খাড়া করে দুই পায়ের গোড়ালির উপর নিতম্ব রেখে বসতে নিষেধ করেছেন (৩) শিয়ালের মত এদিক-সেদিক তাকাতে নিষেধ করেছেন।[22]

মাটিতে হাত আগে রাখতে হবে :

ছালাতে সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে হাত আগে রাখতে হবে প্রমাণে অনেক ছহীহ হাদীছ রয়েছে।

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সিজদা করবে, তখন সে যেন উটের শয়নের মত না করে। সে যেন দুই হাঁটুর আগে দুই হাত রাখে’।[23] প্রকাশ থাকে যে, চতুষ্পদ জন্তুর হাঁটু হল হাতে অর্থাৎ সামনের পা দু’টি হল হাত আর মানুষের হাঁটু হল পায়ে। ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন সিজদা করতেন, তখন দুই হাঁটু রাখার পূর্বে দুই হাত রাখতেন। আর তিনি বলতেন নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন।[24] এসব হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আগে হাত রাখতে হবে।

হাঁটু আগে রাখার প্রমাণে হাদীছগুলো যঈফ :

ওয়ায়েল ইবনে হুজর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাকে দেখেছি, তিনি দুই হাত রাখার আগে দুই হাঁটু রাখতেন এবং যখন তিনি উঠতেন, তখন হাঁটুর আগে দুই হাত উঠাতেন।[25] হাদীছটি যঈফ।[26]

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিজদা দিবে, তখন সে যেন দুই হাত দেওয়ার পূর্বে দুই হাঁটু দিয়ে শুরু করে। উট যেভাবে বসে সেভাবে যেন না বসে’।[27] হাদীছটি যঈফ।[28]

সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা দুই হাঁটুর পূর্বে দুই হাত রাখতাম। অতঃপর আমাদেরকে দুই হাতের পূর্বে দুই হাঁটু রাখার নির্দেশ দেয়া হল।[29] হাদীছটি যঈফ।[30]

ইবরাহীম নাখঈ রাহিমাহুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি মাটিতে দুই হাত রাখার আগে দুই হাঁটু রাখতেন।[31] হাদীছটি যঈফ।[32]

ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন সিজদা করতেন, তখন দুই হাত রাখার আগে দুই হাঁটু রাখতেন এবং যখন তিনি দাঁড়াতেন, তখন দুই হাঁটুর পূর্বে দুই হাত উঠাতেন।[33] হাদীছটি যঈফ।[34]

দুই সিজদার মাঝে দু‘আ পড়তে হবে:

ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝে বলতেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, আমার উপর দয়া কর। আমার অবস্থার সংশোধন কর। আমাকে সঠিক পথ দেখাও এবং আমাকে রূযী দাও’।[35] হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝে বলতেন, رَبِّ اغْفِرْلِي ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর’।[36]

উক্ত হাদীছ দু’টি প্রমাণ করে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত দুই সিজদার মাঝে দু‘আ পড়তেন। অনেক মুছল্লী এ আমল করতে পারে না। এ আমল করার জন্য চেষ্টা করে না। মানুষকে এ আমল করার জন্য উৎসাহিত করা উচিত।

দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাক‘আতের জন্য সরাসরি উঠা যাবে না :

عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ فَإِذَا كَانَ فِى وِتْرٍ مِنْ صَلاَتِهِ لَمْ يَنْهَضْ حَتَّى يَسْتَوِىَ قَاعِدًا .

মালিক ইবনে হুয়াইরিছ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বেজোড় রাক‘আতে থাকতেন, তখন স্থির হয়ে না বসে দাঁড়াতেন না।[37] এই হাদীছ স্পষ্টরূপে প্রমাণ করে, বেজোড় রাক‘আতে সরাসরি দাঁড়ানো যাবে না। দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে খুব অল্প সময় বসার পর দাঁড়াতে হবে।

قَالَ أَيُّوبُ وَكَانَ ذَلِكَ الشَّيْخُ يُتِمُّ التَّكْبِيرَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ عَنِ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ جَلَسَ وَاعْتَمَدَ عَلَى الأَرْضِ ، ثُمَّ قَامَ .

আবু আইয়ূব আনছারী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমর ইবনে সালামা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছালাত দেখান, তিনি দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠালেন এবং বসে গেলেন। তারপর মাটির উপর ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।[38] এই হাদীছ প্রমাণ করে, দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে বসতে হবে, তারপর মাটির উপর ভর দিয়ে পরের রাক‘আতের জন্য দাঁড়াতে হবে। এভাবে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছালাত আদায় করতেন।[39]

গোড়ালির উপর ভর দিয়ে সরাসরি দাঁড়ানোর হাদীছ যঈফ :

সিজদা থেকে সরাসরি উঠে যাওয়ার যে প্রথা চালু আছে, তার প্রমাণে হাদীছগুলো যঈফ ও জাল। মু‘আয ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি মাটির উপর নাক ও কপাল রাখতেন, তারপর তিনি সরাসরি দাঁড়িয়ে যেতেন যেন তিনি তীর অর্থাৎ তিনি তীরের মত দাঁড়াতেন।[40] হাদীছটি জাল। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সুন্নাত হল, দুই রাক‘আতের বসার পর যখন তুমি দাঁড়াবে, তখন দুই হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াবে না।[41] হাদীছটি যঈফ।[42] ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন যে, কোন ব্যক্তি যখন ছালাতের মধ্যে বসে থেকে দাঁড়াবে, তখন যেন দুই হাত মাটির উপর না রাখে।[43] হাদীছটি যঈফ।[44] আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছালাতের মধ্যে দুই পায়ের সামনের উপর ভর করে দাঁড়াতেন।[45] হাদীছটি যঈফ।[46] মাটির উপর হাত না রেখে পায়ের গোড়ালির উপর নিতম্ব রেখে সরাসরি দাঁড়ানোর প্রমাণে সবগুলো হাদীছ যঈফ।

ছালাতের কোন অংশ তাড়াহুড়া করে আদায় করা যাবে না :

ছালাত ধীরস্থিরভাবে আদায় করতে হবে। একাগ্রতা বজায় রেখে ছালাত আদায় করতে হবে। প্রায় মসজিদের ছালাতের অবস্থা দেখে মনে হয়, মুছল্লী গরম পানির মধ্যে অবস্থান করছে।

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ قَالَ لَا يتم ركوعها وَلَا سجودها.

আবু ক্বাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ চোর ঐ ব্যক্তি, যে তার ছালাত চুরি করে’। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে কীভাবে তার ছালাত চুরি করে? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘সে ছালাতের রুকূ এবং সিজদা পূর্ণ করে না’।৪৭

عَن طلق بن عَليّ الْحَنَفِيّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى صَلَاةِ عَبْدٍ لَا يُقِيمُ فِيهَا صُلْبَهُ بَيْنَ ركوعها وسجودها.

তালক্ব ইবনে আলী হানাফী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ ঐ বান্দার ছালাতের প্রতি দৃষ্টি দেন না, যে ছালাতে রুকূ এবং সিজদায় পিঠ সোজা করে না’।৪৮

(চলবে)


[1]. মুস্তাদরাক হাকেম, হা/৮৪৮; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৪৯৩; ইরওয়া, হা/৩৪৩।

[2]. আবুদাঊদ, হা/১৪৫৭; তিরমিযী, হা/৩১২৪; দারাকুৎনী, হা/১২০২; সিলসিলা ছাহীহাহ, হা/১১৮৩।

[3]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬২৫; ইবনু খুযায়মা, ইরওয়া, ২/৬০ পৃঃ।

[4]. মুস্তাদরাক হাকেম, হা/২৯১০; তিরমিযী, হা/২৯২৭; মিশকাত, হা/২২০৫; ইরওয়া, ২/৬০ পৃঃ।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০৪৫।

[6]. আবুদাঊদ, হা/৭৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৭৬।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯৮; আবুদাঊদ, হা/৭৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/৮৬৯।

[8]. নাসাঈ, হা/৯০৬।

[9]. নাসাঈ, হা/৯০৭।

[10]. আবুদাঊদ, হা/৭৮৪।

[11]. আবুদাঊদ, হা/৭৮৮।

[12]. দারাকুৎনী, হা/১১৯৯।

[13]. প্রাগুক্ত।

[14]. আবুদাঊদ, হা/৮৮৭; তিরমিযী, হা/৩৩৪৭; যঈফ আল-জামে‘, হা/৫৭৮৪।

[15]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৮০৬২; সিলসিলা যঈফাহ, হা/৬১৩৩।

[16]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৩১৩৩।

[17]. তিরমিযী, হা/৩৪৩৩; নাসাঈ, হা/১১৪০; সিলসিলাহ ছাহীহাহ, হা/৮১।

[18]. আবুদাঊদ, হা/৮৮৪, হাদীছটি ছহীহ।

[19]. আবুদাঊদ, হা/৮৮৩, হাদীছটি ছহীহ।

[20]. তিরমিযী, হা/৩৬০২; মিশকাত, হা/৮১।

[21]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৬১; মিশকাত, হা/৫৫৬২।

[22]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৮০৯১; তারগীব, হা/৭৪৭, ৫৫৬।

[23]. আবুদাঊদ, হা/৮৪০; নাসাঈ, হা/১০৯১; মিশকাত, হা/৮৯৯।

[24]. ত্বাহাবী, হা/১৪০৫ ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬২৭; সুনানুল কুবরা, হা/২৭৪৪।

[25]. আবুদাঊদ, হা/৮৩৮; নাসাঈ, হা/১১৫৪; ইবনে মাজাহ, হা/৮৮২; মিশকাত, হা/৮৯৮।

[26]. প্রাগুক্ত।

[27]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, ২/১০০।

[28]. তানকীহ, পৃঃ ২৯৬।

[29]. ইবনে খুযায়মাহ, ১/৩১৯ পৃঃ; বায়হাক্বী, ২/৯৮ পৃঃ।

[30]. তানকীহ, পৃঃ ২৯৭।

[31]. ত্বাহাবী, ১/২৫৬ পৃঃ।

[32]. তানকীহ, পৃঃ ২৯৮।

[33]. ইবনে আবী শায়বাহ, ১/২৬৩ পৃঃ।

[34]. প্রাগুক্ত।

[35]. তিরমিযী, হা/২৩৩; আবুদাঊদ, হা/৭৫৫; মিশকাত, হা/৯০০।

[36]. নাসাঈ, হা/১১৪৫; মিশকাত, হা/৯০১।

[37]. ছহীহ বুখারী, হা/৮২৩; মিশকাত, হা/৭৯৬।

[38]. ছহীহ বুখারী, হা/৮২৪।

[39]. প্রাগুক্ত।

[40]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৫৬২।

[41]. ইবনে আবী শায়বাহ, ১/৩৯৫ পৃঃ।

[42]. তানকীহ, পৃঃ ৩১০।

[43]. আবুদাঊদ, হা/৯৯২।

[44]. প্রাগুক্ত।

[45]. তিরমিযী, হা/২৮৮।

[46]. প্রাগুক্ত।

[47]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬৯৫; মিশকাত, হা/৮৮৫।

[48]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৭১৯; মিশকাত, হা/৯০৪।

Magazine