কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১০) : আযানের ন্যায় ইক্বামতেও কি জবাব দিতে হবে?

উত্তর : হ্যাঁ, আযানের ন্যায় ইক্বামতেরও জবাব দিতে হবে। কেননা ইক্বামতও আযান। আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক আযান ও ইক্বামতের মধ্যেই ছালাত রয়েছে, প্রত্যেক আযান ও ইক্বামতের মধ্যেই ছালাত রয়েছে। অতঃপর তৃতীয়বারে বললেন, যে চায় (ছহীহ বুখারী, হা/৬২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩৮; মিশকাত, হা/৬৬২)। ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু জুম‘আর দিন মসজিদে নববীর অদূরে ‘যাওরা’ নামক বাজারে যে আযানটি চালু করেছিলেন সেখানে ইক্বামতকে আযান ধরে তিনটি আযান বলা হয়েছে (সুনানে বায়হাক্বী কুবরা, হা/৫৪৭২; মু‘জামূল কাবীর, হা/৬৬৪৭)। অতএব, ইক্বামতও আযান। তাই আযান ও ইক্বামত উভয়েরই জবাব দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, ইক্বামতের জবাব দেওয়ার সময় মুছাল্লীগণ حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ (‘হাইয়া ‘আলাছ ছালা-হ’) ও حَيَّ عَلَى الْفَلاَحِ (‘হাইয়া ‘আলাছ ফালা-হ’) বাক্যদ্বয় বাদে বাকী বাক্যগুলির জওয়াবে ইক্বামত প্রদানকারী যেমন বলবে, তেমনই বলবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪; মিশকাত, হা/৬৫৭)। আর উক্ত বাক্যদ্বয়ের পরিবর্তে বলবে لآحَوْلَ وَلآ قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ ‘লা-হাওলা অলা-কুবওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ (নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত) (ছহীহ মুসলিম হা/৩৮৫; মিশকাত হা/৬৫৮)। উল্লেখ্য যে, ইক্বামত প্রদানকারী যখন ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাহ’, বলবে তখনও তা-ই বলবে। এ সময় ‘আক্বা-মাহাল্লা-হু ওয়া আদা-মাহা’, বলা যাবে না। কেননা এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আবুদাঊদ, হা/৫২৮; মিশকাত, হা/৬৭০)।

-ওমর ফারুক

পবা, রাজশাহী।


Magazine