উত্তর: প্রথমত, ব্যভিচার করা জঘন্য অপরাধ, যা ইসলামে হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلَا تَقْرَبُواْ ٱلزِّنَىٰٓ إِنَّهُۥ كَانَ فَـٰحِشَةً وَسَآءَ سَبِيلاً ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ’ (বনী ইসরাঈল, ১৭/৩২)। কোন হারাম কাজকে হালাল মনে করে করলে কুফর সাব্যস্ত হয় এবং এর শাস্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। সুতরাং হালাল মনে করে যেনা করলে কুফর সাব্যস্ত হবে এবং তওবা না করে মৃত্যুবরণ করলে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে হবে। পক্ষান্তরে যদি হারাম জেনেই ব্যভিচার করে, তাহলে কুফর সাব্যস্ত হবে না; তবে কাবীরা গুনাহ হবে, আর এ অবস্থায় মারা গেলে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। আবূ যার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার উম্মতের যে ব্যক্তি শিরক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’। (আবূ যার রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে? তিনি (রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/ ১২৩৭)। দ্বিতীয়ত, ব্যভিচার থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে করণীয় হলো বিশুদ্ধ তওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে আসা এবং যেসব কাজ ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে সেসব কাজ হতে বিরত থাকা। যেকোনো অশ্লীল কথা, কাজ, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা। এছাড়া অসৎসঙ্গ ত্যাগ করা, নিয়মিত জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করা, অধিক পরিমাণে নফল ছিয়াম রাখা এবং ব্যভিচারের ভয়াবহতা সংক্রান্ত হাদীছগুলো সবসময় স্মরণ করা।
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
